লতিফ সিদ্দিকীর পদ গেলেও প্রভাব যায়নি

কাজী সিরাজ

লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে লীগ সরকারের ভূমিকা রহস্যময় বলেই মনে হচ্ছে। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া, দল থেকে বহিষ্কার করা- সবই তাৎক্ষণিক জনরোষ মোকাবিলার একটি অনৈতিক কৌশল বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র হজ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে তাঁর কটূক্তি ‘স্যাটানিক ভার্সেস’-এর লেখক সালমান রুশদীর কটূক্তিকেও হার মানায়। সালমান রুশদীর বিরুদ্ধে অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ঝড় উঠেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রীতিমতো বেশ হিমশিম খেতে হয়েছিল। লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তার চেয়েও বেশি প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করতে হয়। তিনি তখন জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে স্বদেশের পথে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, ‘এমন ব্যক্তি আমার মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন না।’ তাঁর সেই বিচক্ষণ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়। এই ইস্যুতে ইসলামের জন্য ‘জান-কবুল’ জামায়াতে ইসলামীর নীরব ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে অন্যান্য ইসলামী দল ও সরকারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির সংযমী ভূমিকাও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের জন্য সহায়ক হয়েছে। কিন্তু শেষরক্ষা বোধ হয় আর হলো না। ইস্যুটি খুব সম্ভব একটি উত্তপ্ত জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হতে যাচ্ছে। জামায়াতকে হয়তো ম্যানেজ করা গেছে, কিন্তু বিএনপিকে এবার আর রোধ করা যাবে বলে মনে হয় না। সারা দেশে বিএনপি এই স্পর্শকাতর ধর্মীয় ইস্যুটিকে এবার সরকারের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর একটি মোক্ষম অস্ত্র পেয়েছে। এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গেই আছে।’ অতি সংগোপনে লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফেরার ও নিরাপদে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার পরপরই তিনি এই মন্তব্য করেন।

লতিফ সিদ্দিকীর পদ গেলেও প্রভাব যায়নি

Latif Cartoonগত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের এক হোটেলে নিউ ইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় হজ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। এই হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়! হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরব গেছে (তিনি যখন এ মন্তব্য করেন, তখনো হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি)। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রোডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন আছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। অ্যাভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায়, প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।’ হজ কিভাবে চালু হয় তার একটা মনগড়া ব্যাখ্যাও দিয়েছেন লীগ সরকারের সদ্য-সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আবদুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল, এ জজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে? তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করল যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’ এটি এত বড় অপরাধ যে তার আলোচিত অন্য দুটি প্রসঙ্গ নিয়ে কথাবার্তা খুব কমই হয়েছে। এর একটি প্রধানমন্ত্রী তনয় সজিব ওয়াজেদ জয় প্রসঙ্গে এবং অপরটি টেলিভিশন টক শোতে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নিয়ে। জয়কে নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তাঁর পক্ষেই বলেছেন। অনেকে না বুঝে তাঁর সেই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি আসলে কৌশলে জয়কে সমালোচনার উর্ধ্বে রাখার কথাই সেদিন বলেছিলেন। বাজারে একটা গুঞ্জন আছে যে লীগ সরকারে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের বাইরেও তাঁর বোন শেখ রেহানা ও পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিও আছেন। এমন কথাও চালু আছে যে লতিফ সিদ্দিকী ও এইচ টি ইমাম তাঁদেরই একজনের আশীর্বাদপুষ্ট। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়টি বাহ্যিকভাবে খুব পজেটিভ মনে হয় না। কিন্তু এই মন্ত্রণালয় নিয়ে এমন একটা গল্প চালু আছে যে একবার যিনি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, বর্তমান সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে যদি একটি মন্ত্রণালয় চয়েস করতে বলা হয়, তিনি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কথাই বলবেন। কী যে মধু আছে এই মন্ত্রণালয়ে! তাঁর দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তের পেছনে ওই মন্ত্রণালয়ে থাকার ‘জাদু’ কাজ করেছে কি না কে জানে! টক শো নিয়ে তিনি একটি জঘন্য মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, টক শোতে যারা যায়, তারা টকটকানি, চুতমারানি (পাঠকরা আমাকে মাফ করবেন তাঁর দেওয়া গালিটি উল্লেখ করার জন্য। কত রুচিহীন ও ভব্যতাবর্জিত হলে একজন মানুষ এমন গালি মুখে আনতে পারে, তা বোঝানোর জন্য শব্দটি উল্লেখ করা জরুরি মনে করছি। কেউ কেউ তাঁর গালির কথা বলেছেন, কিন্তু গালিটা উল্লেখ করেননি দু-একটি দৈনিক ছাড়া। পাঠকদের কৌতূহল মেটানোর জন্যও এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করেছি। শব্দটির উল্লেখ এই নিবন্ধেরও দাবি)। তাঁর এই ধরনের অশ্লীলতারও কঠোর সমালোচনা হওয়া উচিত। এই ধরনের উঁচু পদধারীদের ‘বাকসংযম’ শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিচার ও শাস্তির বিধানও নিশ্চিত করা দরকার। এই জন্য তাঁর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত সর্বাগ্রে।

হজ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে লতিফ সিদ্দিকীর কু-মন্তব্যের বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। একটি ইসলামী সংগঠনের ডাকে এক দিন হরতালও হয়। বিব্রতকর অবস্থার মুখে পড়ে সরকার। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী স্বদেশের পথে তখন লন্ডনে। সেখানেই তিনি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যে এহেন একজন লতিফ সিদ্দিকীকে তাঁর মন্ত্রিসভায় রাখা হবে না। পরে মন্ত্রিসভায় তাঁর সে সিদ্ধান্ত কার্যকরও হয়। দল থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। মন্ত্রী ছাড়াও তিনি ছিলেন শাসক লীগের নীতিনির্ধারণী সংস্থা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। এর মধ্যে সারা দেশে ১৬টি জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা দায়ের হয় এবং সব মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কার, ৩০টি মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি দেশে ফিরেছেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই পড়তে হয়নি তাঁকে। এটা রীতিমতো বিস্ময়কর! বিমানবন্দরে বিমানের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন প্রায় গিজগিজ করে। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই ধরনের ৩০টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বোঝাবাহী একজন আসামি সরকারি আনুকূল্য ছাড়া নিরাপদে, নির্বিঘ্নে বিমানবন্দর থেকে বাহাদুরের মতো বেরিয়ে গেছেন- এটা বিশ্বাস করা কঠিন। এমন একটা ধারণা জন্ম নিয়েছে যে সরকারের কোনো উঁচু মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের সবুজ সংকেত নিয়েই তিনি বীরদর্পে দেশে ফিরেছেন। বিমানবন্দরের ‘নাটকও’ এই ধারণাকে জোরদার করে। দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার বিমানবন্দরে কর্মরত অফিসার লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই, স্থানীয় থানায় কোনো মামলা নেই, সিটিং এমপিকে গ্রেপ্তারে স্পিকারের অনুমতি লাগবে ইত্যাদি অজুহাত তুলে গ্রেপ্তারে বাধা দেন। শুধু তা-ই নয়, এহেন একজন গুরুতর অভিযুক্ত ও ৩০ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাধারী ব্যক্তিকে ভিআইপি লাউঞ্জও ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের প্রবেশ ও বেরোনোর পথে কিছু আলেম-ওলামা তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকরাই তাঁকে ভিআইপি গেট বা বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের বেরোনোর গেট দিয়ে বের না করে অভ্যন্তরীণ টারমিনাল দিয়ে কৌশলে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। মিডিয়ায় প্রকাশিত এমন খবরের কোনো প্রতিবাদ কেউ করেনি। প্রশ্ন ওঠা তো অস্বাভাবিক নয় যে সরকারের কোনো শক্তিশালী মহলের আনুকূল্য ছাড়া লতিফ সিদ্দিকী এই সুবিধা পেলেন কী করে? এর পরও নাটক দেখল দেশের মানুষ। দুই দিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ক্ষোভ-বিক্ষোভ হলো। হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন হরতাল ডাকল। কিন্তু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, সংসদ চালু অবস্থায় স্পিকারের অনুমতি ছাড়া নাকি কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা যায় না। বিমানবন্দরে পুলিশ অফিসারের বক্তব্যের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য হুবহু মিলে যায়। তবে কি ওপর থেকেই ওই পুলিশ অফিসারকে এমন মন্ত্রণা দেওয়া হয়েছিল? এটাও মানুষের জানার আগ্রহ জেগেছে যে ওই দিন, ওই সময়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিয়মিত অফিসার, নাকি ওই দিন তিনি ‘বিশেষ’ দায়িত্ব পালন করছিলেন? যদি তাই হয়, তাহলে প্রশ্ন করাই যাবে যে কেন? আর তিনি যদি নিয়মিত দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারও হয়ে থাকেন, লোকটি লতিফ সিদ্দিকী না হয়ে যদি বিএনপির কোনো নেতা হতেন বা অন্য কোনো দলের সিটিং এমপি হতেন অথবা দেশের সাধারণ কোনো নাগরিক হতেন তাঁর প্রতি কি ‘অফিসার সাহেব’ একই আচরণ করতেন? লতিফ সিদ্দিকী সাহেবের সঙ্গে ‘অসাধারণ’ সৌজন্যমূলক আচরণে এ ব্যাপারে সরকারের কোনো মহলের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রশ্নের উত্তর মানুষ খুঁজবে। সংসদ চলাকালে স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কোনো রানিং এমপিকে গ্রেপ্তার করার নজির কিন্তু আছে। বিএনপির সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও আলমগীর হায়দার খান তাঁর জ্বলন্ত উদাহরণ। তা ছাড়া বিএনপির কোনো কোনো নেতাকে উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকার পরও বিদেশে যেতে বাধা দিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার নজিরও আছে। তা ছাড়া স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, সংসদ চলাকালে সংসদ চত্বরের বাইরে থেকে কোনো মামলায় বা অভিযোগে কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারে স্পিকারের অনুমতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

পরবর্তী ঘটনাবলিও রহস্যময়। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা ও লেখালেখির পরও দুই দিন তিনি বহাল তবিয়তে থাকলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাকি তাঁকে খুঁজেই পায়নি। পরে গত মঙ্গলবার তিনি স্বেচ্ছায় ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করলেন। সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। সর্বত্র এখন আলোচনা হচ্ছে, তাঁর ব্যাপারে এখন কী করা যায়, সে ব্যাপারে কৌশল নির্ধারণের জন্যই দুই দিন সময় নেওয়া হয়েছে। যথারীতি আদালত থেকে তিনি এখন কারাগারে। কারাগারে তিনি কি সাধারণ আসামি/কয়েদি বা বন্দির মতো আছেন, নাকি এ ক্ষেত্রেও তিনি ‘অসাধারণ’ ট্রিটমেন্ট পাচ্ছেন? তাকে কি ত্বরিত বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি করা হবে, নাকি কারাগারে তাঁর অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো? এসব বিষয়ে তুমুল আলোচনা এখন পথেঘাটে। কারণ এর আগে তাঁর ব্যাপারে সরকারের ও দলের তাৎক্ষণিক গৃহীত ব্যবস্থা, তাঁর দেশে ফিরে আসা ও তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ একটির সঙ্গে অপরটি সামঞ্জস্যহীন, সংগতিহীন। কারাগার গেটের নাটকও বেশ জমেছিল ১৭ মিনিট। নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের পকেট গেট দিয়েই বন্দিদের আনা-নেওয়া করা হয়। মাঝেমধ্যে সিনেমায় দেখা যায়, মূল ফটক খুলে যায়, নায়ক বেরিয়ে আসে ‘নায়কের মতোই’। লতিফ সিদ্দিকী পকেট গেট দিয়ে ঢুকতে অস্বীকার করেন। ১৭ মিনিট নাটক চলে বন্দি ও কারা কর্তৃপক্ষের মধ্যে। অতঃপর জয় হয় বন্দির। সরকারি কর্তৃপক্ষ মাথা নত করে লতিফ সিদ্দিকীর কাছে, তিনি মাথা নত করে জেলে ঢোকেননি। তাঁর এই শক্তির উৎস নিয়ে নানা কথা হচ্ছে, হবে।

লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও দলের সাবেক একজন নীতিনির্ধারকের দেশে ফিরে আসার পর বিভিন্ন ঘটনা প্রমাণ করে তাঁর পদ-পদবি চলে গেলেও প্রভাব-প্রতিপত্তি এখনো বহালই আছে। অনেকে তাই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারের ও দলের গৃহীত ব্যবস্থা কি কেবলই লোক দেখানো? গণরোষ মোকাবিলার তাৎক্ষণিক কর্মকৌশল? তাঁর বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা-ই এখন দেখার বিষয়। এ ব্যাপারে দীর্ঘসূত্রতা কিন্তু সরকারকে আরো সন্দেহের মধ্যে ফেলবে। পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, এর মধ্যেই লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে যা ঘটেছে, তাতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও অনেক অভিযোগও আছে বলে খবর বেরিয়েছে। সেসব বিষয় সামনে চলে এলে কি তাঁর সঙ্গে সরকারসংশ্লিষ্ট আরো কোনো শক্তিধরের নাম জড়িয়ে যেতে পারে? লতিফ সিদ্দিকী কি নানা সমীকরণের সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে যাবেন? কেউ কেউ এমনো বলছেন, লতিফ সিদ্দিকী শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্য গলার কাঁটা হয়ে যেতে পারেন।

লেখক : সাংবাদিক

You Might Also Like