ইতিহাসে ভিলেন হবেন হাসিনা-এরশাদ: বি. চৌধুরী

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধরী বলেছেন, “শেখ হাসিনা ও এরশাদ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসে দেশের গণতন্ত্রের যে অবস্থা করেছেন তাতে তারা ইতিহাসে ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত হবেন।”

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত নব্বই’র গণঅভ্যত্থানে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ২৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র ও ডা. মিলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বি. চৌধরী বলেন, “পৃথিবীর কোনো দেশে এমন নির্বাচন হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়েছেন। আর ৮/১০ ভাগ ভোট পড়েছে তাও জোর করে দেয়া হয়েছে। এটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন মাধ্যমে জনগণের দায়িত্ব গ্রহণ করা, তাদের নিরাপত্তাসহ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এটাকে ক্ষমতা বলা হয় না। কিন্তু সরকার যা করছে সেখানে তারা শুধু ক্ষমতায় দেখাচ্ছে, এটাতো গণতন্ত্র, রাজনীতি হতে পারে না।”

এরশাদ ‘দুর্নীতিবাজ ও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্বৈরাচার’ উল্লেখ করে বি. চৌধরী বলেন, “তিনি (এরশাদ) সবচেয়ে ঘৃণিত ও জঘন্যতম অধ্যায় রচনা করেছিলেন যা ইতিহাস হয়ে রয়েছে। অথচ আজকে সেই ইতিহাস ভুলে গিয়ে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ জোট করেছে। তাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বানানো হয়েছে। এমনকি ইনু-মেননরা (তথ্যমন্ত্রী ও বেসরকারি বিমান পরিবহনমন্ত্রী) তাদের ভাইয়ের (ডা. মিলন) রক্তের কথা ভুলে গেয়ে এরশাদের সঙ্গে রাজনীতিক সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।”

প্রশ্ন রেখে প্রবীন এই রাজনীতিবিদ বলেন, “তাহলে কি তাকে (এরশাদ) ক্ষমা করে ডা. মিলনের সমাধিতে নিয়ে যাবে।”

সরকারকে হুঁশিয়ারি করে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি বলেন, “অন্যায় করে অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় আসতে পারে, কিন্তু বেশিদিন টিকতে পারে না। আর সেদিন আর বেশি দূর নয়।”

ডা. মিলন প্রসঙ্গে বি. চৌধুরী বলেন, “স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে দেশে শহীদ ডা. মিলন যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকে আবার সেই গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করে কৃতজ্ঞতার প্রমাণ দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “সেদিন স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে ডা. মিলন যে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে গিয়েছিলেন তা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এদেশের তরুণ সমাজকে বিষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। আমরা যদি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা না দেখাই তাহলে জাতি হিসেবে আমরা অকৃতজ্ঞ হয়ে যাবে।”

সভায় ড্যাবের সভাপতি ডা. একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচি অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আমানুল্লাহ আমান, প্রফেসর ডা.এম এ মাজেদ, ড্যাব সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।

এসময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঢামেক প্রাঙ্গণে ডা. শামসুল আলম খান মিলনের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হবে বলে জানানো হয় ড্যাবের পক্ষ থেকে।

You Might Also Like