আপন বিশ্বাসে অনড় লতিফ

মন্ত্রিত্ব ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আমি আমার বিশ্বাসে অনড় রয়েছি।’ মঙ্গলবার সকাল থেকে বারবার চেষ্টা করেও আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দুপুর ১টার দিকে তার মোবাইল ফোন হঠাৎ করেই কিছু সময়ের জন্য সচল হয়ে ওঠে। ওই সময়ে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি আগের অবস্থানে থেকে স্বীয় বক্তব্যে অটল।
আত্মসমপর্ণের ঠিক আগমুহূর্তে লতিফ সিদ্দিকী আরও বলেছেন, ‘আমি ধানমণ্ডি থানায় যাচ্ছি। আত্মসমর্পণ করব।’ পরে দুপুরে দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এ সময় তিনি একা ছিলেন। থানায় দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণের সময় খোশমেজাজেই ছিলেন তিনি। চোখে-মুখে অনুশোচনার কোনো ছায়া ছিল না। কথাবার্তা ছিল স্বাভাবিক। সরকারের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন সমকালকে জানিয়েছেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করার বিষয়টি ছিল স্পর্শকাতর। তিনি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের অন্যতম নীতিনির্ধারক নেতা ছিলেন। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করতে কিছু সময় লেগেছে।
গ্রেফতার এড়াতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সরকারের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে গ্রেফতার না করার বিষয়ে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার রাতে সংসদ অধিবেশন চলাকালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ডেকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলে তিনি আত্মসমর্পণে বাধ্য হন।
আত্মসমর্পণের আগে ধানমণ্ডি থানার আশপাশে এক বাসায় রাত যাপন করেন লতিফ সিদ্দিকী। ওই সময়ে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে আত্মসমর্পণের জন্য ধানমণ্ডি থানায় যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠতে চান তিনি। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে তাদের গাড়িতে থানায় যাওয়ার অনুরোধ করেন। তাতে সম্মত হননি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
এদিকে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাভ্যন্তরে নেওয়া নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি সুস্থ এবং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছেন।

You Might Also Like