‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করলে দায়ী ওসি’

বখাটেদের হুমকির কারণে বাড়ি থেকে বের হতে না পারা স্কুলছাত্রীর মামলা এখনো রেকর্ড করেনি থানা পুলিশ। থানা পুলশ মামলা রেকর্ডের পরিবর্তে মীমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছেন।

এতে দিন দিন হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের অপরাপর সদস্যদের জীবন।

ছাত্রীটির পরিবারের আশঙ্কা- হয়তো সে আত্বহত্যা করতে পারে। আর আত্মহত্যা করলে এর দায় ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিতে হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রীর অসহায় বাবা।

তিনি জানান, এখন মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। সে দিনরাত কেঁদেই চলছে। মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলছে এ জীবন আর রাখবো না। গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করবো।

স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, ‘থানায় এজাহার দিয়েছি। কিন্তু ওসি মামলা রেকর্ড করছে না। উল্টো আমাকেই চাপ দেয়া হচ্ছে ঘটনা মীমাংসা করে নেন।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে যদি আত্মহত্যা করে তাহলে ডিমলা থানার ওসিকে আমি দায়ী করবো।’

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ওই ছাত্রীর বাবা আবু হেনা মোস্তফা কামালের অভিযোগ, একদল বখাটেদের হুমকির মুখে পড়ে তার মেয়ে এখন বাড় থেকে বের হতে পারছে না। তার স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার অংশ নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গত ৮ নভেম্বর তার মেয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব ছাতনাই গ্রামের আবদুল মমিনের বখাটে পুত্র শামীম ইসলাম (২১) নেতৃত্বে একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে শিশির, ইসমাইল হোসেনের ছেলে দেলওয়ার হোসেন ও গয়াবাড়ী ইউপির পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামের মকদম খানের ছেলে আলী আজম তিস্তা নদীর পাড়ে ধরে নিয়ে যায়।

সেখানে তারা ছাত্রীটির বিভিন্ন ছবি মোবাইলে ধারণ করে তা বিকৃত করে। এরপর ছাত্রীটির বাবার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে বখাটেরা ছাত্রীটির ছবি অর্ধনগ্নভাবে বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়।

ঘটনাটি ফাঁস হয়ে পড়লে মেয়েটির বাবা গত ১৬ নভেম্বর ডিমলা থানায় ওই বখাটেদের কর্তৃক ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া তার মেয়ের ভিডিও ও স্থির চিত্রসহ মামলা দেন। কিন্তু ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত মামলাটি রেকর্ড করেননি। উল্টো ছাত্রীর বাবাকে ডেকে মামলার কাগজ প্রত্যাহার এবং ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য চাপ দিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, বখাটেরা সকলে নিজেদের ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

জানতে চাইলে ওসি শওকত আলী জানান, দুজন জনপ্রতিনিধি ঘটনাটি মীমাংসা করে দিতে চেয়েছেন বলে মামলাটি রেকর্ড করিনি।

অন্যদিকে ওসি যে দুজন জনপ্রতিনিধির নাম উল্লেখ করেছেন তারা জানান, তারা মামলাটি রেকর্ড করার জন্য বার বার ওসিকে বললেও তিনি তা শুনছেন না।

You Might Also Like