এয়ারহোস্টেসকে চড় মারার পর…

ধরুন, বিমানে করে কোথাও যাবেন। সেই কখন থেকে এয়ারপোর্টে বসে আছেন।কিন্তু বিমানের দেখা নেই। কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে বিমানটি যাত্রা শুরু করল। আপনি তো রেগে কাই! তাই বলে রেগে গিয়ে কোনো বিমান ক্রু’র গালে যেন চড় কষাতে যাবেন না। তাহলে কিন্তু আপনাকে দিল্লির বাসিন্দা পিকে মহেশ্বরির মত বিমানের বদলে গাড়িতে করে বাড়িতে ফিরতে হবে। ঘটনাটা খুলেই বলি।

গত শনিবার রাতে মহেশ্বরি(৬৭) তার ৬২ বছরের স্ত্রী এবং নয় বছরের ছেলেকে নিয়ে কাঠমাণ্ডু থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা ছিলেন ভারতের স্পাইস জেট এসজি-৪৬ কোম্পানির ৭৩৭ বোয়িং ফ্লাইটের যাত্রী। এমনিতেই নির্ধারিত সময়ে বিমান না পাওয়ায় মেজাজ খাট্টা ছিল ওই ভদ্রলোকের। এক, দু ঘণ্টা নয়- দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে তাদের ফ্লাইট যাত্রা শুরু করে। বিমানে ওঠার পর এক দু কথায় এয়ারহোস্টেসের সঙ্গে ঝগড়া বাধে মহেশ্বরির। রাগের মাথায় তিনি ওই নারীর গালে সজোরে চড় কষান। আর যায় কোথায়! সঙ্গে সঙ্গে বিমান থামিয়ে তাকে সপরিবারে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন বিমানচালক। ভালোয় ভালোয় না নামলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ারও হুমকি দেয় তারা। অগত্যা আকাশ হইতে ভূমিতে প্রত্যাবর্তন!

বিমান থেকে নামার পর যাকে বলে দিশাহারা অবস্থা মহেশ্বরির। পকেটে কোনো নেপালি মুদ্রা নাই।।কী আর করা। ক্যাব নিয়ে সোজা কাঠমাণ্ডুর শ্রী অরবিন্দ যোগ মন্দিরে হাজির হলেন। মন্দিরের ‘গুরুজি’ অসহায় এই ভারতীয় পরিবারটির সাহায্যে এগিয়ে এলেন। তাদের  ট্যাক্সি ভাড়া পরিশোধ করলেন। কষ্টের এখানেই শেষ নয়, শুরু। মহেশ্বরি কিছুতেই আর দেশে ফেরার  টিকেট জোগাড় করতে পারছিলেন না। দু দিনের সব টিকেট বুকড। এই ভ্রমণ মৌসুমে বিমান কোম্পানিগুলোর পোয়াবারো। কালোবাজারে তারা একটা টিকেটের দাম হাকছিল ২৬ হাজার ভারতীয় রুপি।এত দাম দিয়ে টিকেট কেনা মহেশ্বরির সাধ্যের বাইরে। শেষমেষ তিনি বাসের টিকেট কাটতে বাধ্য হন। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টার বাস ভ্রমণ শেষে মঙ্গলবার দিল্লিতে এসে পৌঁছেছে ওই পরিবারটি। দেশে ফিরেই ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করে স্পাইস জেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠুকে দিয়েছেন মহেশ্বরি। এখন পর্যন্ত তার অভিযোগের কোনো জবাব দেয়নি স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীসেবায় মনোযোগী স্পাইসজেটের এক এয়ারহোস্টেস

তবে কোম্পানির এক মুখপাত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘কেবিন ক্রদের সঙ্গে ঝগড়া কিংবা গায়ে হাত তোলার মত অপরাধ বরদাস্ত করা যায়না। ওই যাত্রীকে বের করে দেয়ার মত সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার পাইলটের রয়েছে। শুধু ভারতে নয়, পৃথিবীর সব দেশেই একই নিয়ম।’

তবে এয়ারহোস্টেসকে চড় মারা কথা স্বীকার করেননি মহেশ্বরি। তিনি বলছেন, ওই বিমানকর্মী ইচ্ছা প্রণাদিতভাবে তার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেছিল যাতে তাকে নামিয়ে দেয়া যায়। কারণ, ফ্লাইট দেরি হওয়ায় তিনি যে কৈফিয়ত চেয়েছিলেন! বেচারি! তখন কেউ যদি তাকে বলতো,‘ভাই, এইটা তো ৮ নম্বর বাস না যে হেলপার বা কন্টাকটরের সঙ্গে মারামারি করবেন!’

You Might Also Like