সুস্থ হয়ে উঠার পরও মিলনে বাধা ইবোলা রোগীদের

ভারতীয় এই যুবক লাইবেরিয়ায় থাকাকালীন সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ ইবোলায় আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠলে ৩০শে সেপ্টেম্বর ডাক্তাররা তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়। এরপর লাইবেরিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে ১০ নভেম্বর দেশে ফেরেন তিনি।

কিন্তু তার রক্তে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি না থাকলেও বীর্যে এখনও ইবোলা রয়ে গেছে। এজন্য তাঁকে আলাদা করে রাখা হয়েছে৷ যা তার মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি বলা হয়েছে, ইবোলা থেকে মুক্তি পেলেও আক্রান্ত হওয়ার ৯০ দিন পর্যন্ত রোগীর বীর্যে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে৷ যেমনটা পাওয়া গেছে ফেরত ওই ভারতীয় নাগরিকের বীর্যে৷

তাই সতর্কতা অবলম্বন স্বরূপ তাঁকে সবার থেকে পৃথক অবস্থায় রাখা হয়েছে৷ যতক্ষণ না তিনি পুরোপুরি ইবোলা মুক্ত হচ্ছেন, ততদিন তাঁকে এই অবস্থায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান মার্গারেট চান এবোলাকে মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি অন্যতম ঘাতক জ্বর হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছেন যে, আফ্রিকায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে রক্তপ্রদাহজনিত এই জ্বর৷ তাই বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যবিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন তিনি৷

উল্লেখ্য, কারও বীর্যে ইবোলা থাকার মানে তিনি যৌনমিলনের মাধ্যমে অন্যের দেহে ইবোলা ছড়িয়ে দিতে পারেন৷

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের আটটি দেশের মোট ৫,৪২০ জন রোগী ইবোলায় মারা গেছেন৷ এ সময় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৫,১৪৫ জন৷ এর মধ্যে আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ছিল ৫৮৪৷ মারা গেছেন ৩২৯ জন৷

অবশ্য আক্রান্ত ও মারা যাওয়াদের আসল সংখ্যা আরও বেশি হবে বলেই মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷

ইবোলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে লাইবেরিয়ার মানুষ৷ সংখ্যাটা ৭,০৬৯ জন৷ এর মধ্যে মারা গেছেন ২,৯৬৪ জন৷ তবে আশার কথা হচ্ছে, দেশটিতে ইবোলা প্রসারের গতি ধীর হওয়ায় জরুরি অবস্থা তুলে নেয়া হয়েছে৷

You Might Also Like