ভারতে গুরুর আশ্রমে পুলিশের অভিযান, নিহত ৬

ভারতে একটি বিশালাকারের আশ্রমে একজন হিন্দু ধর্মগুরুর সশস্ত্র সমর্থকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে চার নারীসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে।

ধর্মগুরু ওই আশ্রমের ভেতর লুকিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু সশস্ত্র ভক্তদের প্রতিরোধের মুখে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না।

হাজার হাজার ভক্ত দক্ষিণ হরিয়ানায় অবস্থিত ওই আশ্রমটিকে ঘিরে রেখেছে। বাইরে শত শত পুলিশ সদস্য অবস্থান করছে।

৬৩ বছর বয়সী ধর্মগুরু রামপালের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু আদালতে তাকে বারবার হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।

মঙ্গলবার দাঙ্গা পুলিশ আশ্রমটির ভেতরে প্রবেশ করে রামপালকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে। তবে তার অনুসারীরা বন্দুক, লাঠি ও পাথর নিয়ে পুলিশকে প্রতিহত করেন। এদিন হামলায় দুই শতাধিক লোক আহত হয়।

এরপর বুধবার রামপালের অনুসারীরা চার নারীর লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তারা ১২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিশালাকারের ওই আশ্রমের ভেতরে মারা যায় বলে ধারণা করা হয়। তাদের মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি।

এর আগে ওই আশ্রম থেকে আহত এক নারী ও শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তারাও মারা যায়।

আশ্রমটির ভেতরে ৫,০০০ অনুসারী রয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাদেরকে জোর করে আটক রাখা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

ভারতে হিন্দু ধর্মগুরুরা ব্যাপক প্রভাবশালী। অনুসারীদের ওপর তাদের বেশ প্রভাব রয়েছে। এমনকি অনুসারীদের ব্যক্তিগত জীবনকেও তারা নিয়ন্ত্রণ করেন।

এই সুযোগে অনেক ধর্মগুরু ধর্ষণ, হত্যা, অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়াসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

হরিয়ানা পুলিশের মহাপরিচালক শ্রীনিবাস বাশিশ্ত বলেন, পুলিশের অ্যাকশন ঠেকাতে আশ্রমে লোকজনকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুলিশ রামপালকে গ্রেপ্তার না করে অভিযান সমাপ্ত করবে না বলে জানান শ্রীনিবাস।

তবে আশ্রমে আটকে পড়াদের নিরাপদে বের হয়ে আসার সুযোগ দেয়ার জন্য আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

রামপাল যাতে বের হয়ে আসতে বাধ্য হয় সেজন্য তার আশ্রমের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বুধবার অনেক লোক আশ্রম থেকে বেরিয়ে এসে অভিযোগ করেন যে তাদের তাদের বের হতে বাধা দিচ্ছেন গুরু ও তার অনুসারীরা। তারা আশ্রমের দরজা বন্ধ করে রেখেছে বলে জানান বিরেন্দার সত্য নামের একজন অনুসারী।

২০০৬ সালের জুলাইয়ে রামপালের প্রতিপক্ষের সাথে লড়াইয়ে একজন নিহত হলে রামপাল ও অন্যান্য ৩৮ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়।

এরপর সাবেক প্রকৌশলী রামপালের বিরুদ্ধে আদালত ৪৩ বার সমন জারি করেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি তিনি। সর্বশেষ সোমবার তাকে আদালতে হাজির হওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়া হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়।

You Might Also Like