পাবনায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গুলিবর্ষণ

পাবনা জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয়েছে। এসময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণসহ লুটপাট হয়েছে মোটরসাইকেল।

সোমবার রাত পৌনে ৯ টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বাসভবন সংলগ্ন সাবেক গণস্বাস্থ্য অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

তবে জেলা বিএনপির বিশ্বস্ত একটি সূত্র দাবি করেছে, স্থানীয় দুটি মহল্লার বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই পার্টি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।

দলের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ ও মোটর সাইকেল লুটের ঘটনার সঙ্গে জেলা বিএনপির কোনো নেতার সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

স্থানীয়রা জানান, রাত পৌনে ৯ টার দিকে অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বাসভবন সংলগ্ন সাবেক গণস্বাস্থ্যের অফিসের সামনে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয়। এছাড়া বেশ কয়েক রাউন্ড ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, পার্টি অফিসের সামনে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার খবর জেনেছি। বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে জানান ওই নেতা।

এদিকে, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পার্টি অফিস সংলগ্ন দুটি পাড়ার যুবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এক গ্রুপ পার্টি অফিসের সামনে অবস্থান নিলে অন্য গ্রুপ তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় গুলিবর্ষণ আর ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

জহুরুল ইসলাম দাবি করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জেলা বিএনপির কোনো নেতার সম্পৃক্ততা নেই। নিছক দুই পাড়ার যুবকদের বিরোধের জের ধরেই পার্টি অফিসের সামনে এসে এ ঘটনা ঘটায়।

সদর থানা থেকে সামান্য দূরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে অবগত নন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী হানিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ওই ধরণের কোনো ঘটনার খবর তার কাছে নেই।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পাবনা জেলা বিএনপি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সমর্থিত মাহমুদ-তোতা গ্রুপ। অন্যদিকে জেলা বিএনপির রক্ষা কমিটির ব্যানারে পাবনা পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দল থেকে বহিষ্কৃত কামরুল হাসান মিন্টু। জেলা শহরের বাণীহলের অদূরে গোপালপুর লাহিড়ীপাড়ায় জেলা বিএনপির মূল কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই কামরুল হাসান মিন্টু সমর্থিত গ্রুপটি দখলে নিয়ে জেলা বিএনপির রক্ষা কমিটির ব্যানারে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির এই কার্যালয়ে ঠাঁই না মেলায় শিমুল সমর্থিত গ্রুপটি তার নিজবাড়ি সংলগ্ন সাবেক গণস্বাস্থ্য অফিসটি অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সেখান থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

You Might Also Like