অধিকৃত বাংলাদেশ ও নির্লজ্জদের রাজনীতি

অধিকৃতি দুর্বৃত্তদের
বাংলাদেশের উপর বর্তমান দখলদারি যে ভয়ানক দুর্বৃত্তদের -তা নিয়ে কি সামান্যতম সন্দেহ আছে? সে দখলদারিটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে। এ ডাকাতির সাথে জড়িত কি শুধু শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতীক ক্যাডারগণ? নিছক তার নিজ দল ও দলীয় মিত্রদের পক্ষে দেশজুড়ে এতবড় ডাকাতি কি সম্ভব ছিল? বরং এ ডাকাতির সাথে নিবীড় ভাবে জড়িত দেশের প্রশাসনিক অবকাঠামো,পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবি,সেনাবাহিনী ও নির্বাচনি কমিশন। জড়িত আগ্রাসী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রকারিরা -যারা চায় না বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা পাক।তারা চায় না,বাংলাদেশের মানুষ তাদের ধর্মকর্ম ও আক্বীদা-বিশ্বাস নিয়ে স্বাধীন ভাবে বেড়ে উঠুক।তাদের সে ষড়যন্ত্র স্রেফ ১৯৭১ থেকে নয়, ১৯৪৭ সাল থেকেই। সে শত্রুদেশটি নিজের প্রকল্পটি বার বার বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সেটি যেমন মুজিবামলে, তেমনি হাসিনার আমলে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে ভারত তার নিজ ষড়যন্ত্র পালনে তখন নতুন জীবন পায়। ডাকাত যেমন তার ডাকাতির মালামাল ধরে রাখতে চায়,এরাও তেমনি ধরে রাখতে চায় নিজেদের দখলদারি। দেহে রোগজীবাণুর প্রবেশ ঘটলে গায়ে জ্বর-ব্যাথা উঠে ও শরীর দুর্বল হল। চিকিৎসা না হলে মৃত্যু ঘটে। তেমনি দুর্বৃত্তদের হাতে দেশ অধিকৃত হওয়ার বিপদও বিশাল। দেশে তখন চুরি-ডাকাতি,খুন-খারাবি,ধর্ষণ ও সর্বপ্রকারের পাপকর্ম বাড়ে। দেশ তখন দুর্বৃত্তিতে রেকর্ড গড়ে এবং দ্রুত ধাবিত হয় ধ্বংসের দিকে।জনগণ তখন বঞ্চিত হয় পরিশুদ্ধ পরিবেশ ও জান্নাতের পথের সিরাতুল মুস্তাকীম থেকে।বিশাল জাহাজ রূপী যাত্রীবোঝাই রাষ্ট্রটি তখন তার বিশাল জনগণকে নিয়ে জাহান্নামের দিকে ধাবিত হয়।
মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নেককর্মটি তাই ঘরের আগুন নিভানো নয়। ডাকাতদের হাত থেকে কোন ব্যক্তি বা জনপদকে বাঁচানোও নয়,বরং সেটি ছিনতাইকারি শয়তানদের দখলদারি থেকে রাষ্ট্রকে বাঁচানো। ইসলামে সেকাজের রয়েছে পবিত্র জিহাদের মর্যাদা। দখলদার এসব দুর্বৃত্তগণ সাধারণ চোর-ডাকাত ও খুনি নয়।তাদের অপরাধও সাধারণ অপরাধ নয়। তাদের অপরাধ শুধু চুরিডাকাতি ও খুন নয়,সেটি জনগণকে জাহান্নামের পথে টানার। এ অপরাধীদের সামর্থও বিশাল। সাধারণ চোর-ডাকাত ও খুনিদের পকেটে থানা-পুলিশ,সেনাবাহিনী,আইন-আদালত,প্রশাসন ও দেশের রাজনীতি থাকে না। কিন্তু এ দুর্বৃত্তদের দখলদারি সেগুলোর উপরও। চরিত্রহীন দুর্বৃত্ত শাসকদের গুণগান গাওয়ার জন্য কোন কালেই এত ভাঁড়,এত চাটুকার,এত পত্র-পত্রিকা ও এত রেডিও-টিভি চ্যানেল ছিল না -যা রয়েছে আজ বাংলাদেশে। অন্ধকারাচ্ছন্ন জাহেল সমাজে শাপশকুন,পাহাড়-পর্বত,গরুবাছুড় ও মুর্তিকে দেবতা বলার জন্য যেমন অসংখ্য ভক্ত ও পুরোহিত থাকে,বাংলাদেশেও তেমনি ক্ষমতাসীন দুর্বৃত্তদের প্রশংসা গাওয়ার জন্য রয়েছে রাজনৈতীক কর্মী,মিডিয়াকর্মী,বুদ্ধিজীবীর লেবাসে বিশাল এক পাল ভাঁড়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শয়তানের এ সৈনিকেরা দিবারাত্র খাটছে জান্নাতের পথ থেকে ফিরিয়ে মানুষকে জাহান্নামে নেয়ার কাজে। এমন কাজে তারা একা নয়,তাদের পিছনে রয়েছে ভারতসহ ইসলামের আন্তর্জাতিক শত্রুবর্গ। বাংলাদেশীদের জীবনে আজ তাই ভয়ানক দুর্দিন।
বাংলাদেশের বুক থেকে ঔপনিবেশিক দুর্বৃত্তদের ১৯০ বছরের অধিকৃতি শেষ হয়েছে। শেষ হয়েছে পর্তুগিজ ও মগদের দস্যুবৃত্তিও।কিন্তু শেষ হয়নি দেশী দুর্বৃত্তদের দখলদারি। বরং দিন দিন তা প্রবলতর হচ্ছে। বাঙালীদের জীবনে এমন বীভৎস দুর্দিন কি কোন কালে এসেছে? স্বৈরাচারি শাসকদলের খুনিরা যে শুধু পথে ঘাটে মানুষ খুন করছে তা নয়;খুনের কাজে তারা জনগণের রাজস্বের অর্থে পালিত পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবি,সেনাবাহিনী ও আদালতকেও ব্যবহার করছে। এভাবে তারা কইয়ের তেলে কই ভাজছে। লক্ষ্য,রাজনৈতীক শত্রু নির্মূল। হ্ত্যা,গুম ও ফাঁসিতে ঝুলানো শুরু করেছে প্রতিপক্ষীয় রাজনৈতীক নেতাদের। সমগ্র প্রশাসন পরিনত হয়েছে নির্যাতনের হাতিয়ারে। অতীতে কোন ডাকাতদলের হাতে কি এতো খুন ও এতো অপরাধ ঘটেছে? কোন মুসলিম দেশের সরকার এমন অপরাধে জড়িত হবে সেটি কি আশা করা যায়?
দেশে যক্ষা-কলেরা-ম্যালেরিয়ার প্রচন্ড মহামারি দেখেই বুঝা যায়,রোগ-জীবাণূ ও মশামাছির উপদ্রব দেশজুড়ে কতটা প্রকট।তাতে প্রকাশ পায়,পরিচ্ছন্ন থাকতে জনগণ কতটা ব্যর্থ সেটিও। তেমনি সমগ্র রাষ্ট্র জুড়ে দুর্নীতির সয়লাব দেখেই বলা যায়,দেশে দুর্বৃত্তরা কতটা বিজয়ী এবং নাগরিকগণ দুর্বৃত্ত নির্মূলে কতটা বিমুখ সে বিষয়টিও। যে দেশ দূর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম স্থান অধিকার করে তেমন একটি দেশে দুর্বৃত্তির শিকড় যে কতটা গভীর এবং দুর্বৃত্তদের সংখ্যা যে কত বিপুল –সেটি বুঝতে কি বেশী বিদ্যা-বুদ্ধি লাগে? দুর্বৃত্ত-অধিকৃত এমন রাষ্ট্রে কি সভ্য সমাজ নির্মিত হয়? প্রতিষ্ঠা পায় কি ন্যায়নীতি,সুবিচার ও শান্তি? বরং যা ব্যাপক ভাবে বাড়ে তা হলো চুরি-ডাকাতি,সন্ত্রাস,ধর্ষণ ও খুন। বাড়ে উলঙ্গতা,অশ্লিলতা ও ব্যাভিচার।দুর্বৃত্তদের হাতে তেমন এক দখলদারির কারণে ডাকাতি হচ্ছে স্রেফ ব্যবসায়ী ও গৃহস্থের ঘরে নয়,রাষ্ট্রের অর্থভান্ডারেও। সরকারি দলের ডাকাতদের হাতে সরাকারি ব্যাংক,সরকারি প্রকল্প ও বিদেশীদের দেয়া ঋণের হাজার হাজার কোটি টাকা ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে। আবাসিক প্লটের নামে জনগণ থেকে জমি ছিনিয়ে চোরডাকাতদের মাঝে কোটি কোটি টাকার প্লট বিতরন করা হচ্ছে। ডাকাতদের এখন আর ডাকাত দল গড়তে হয় না। তারা বরং সরকারি দলে যোগ দেয়। তাতে ডাকাতির পরিধি যেমন বাড়ে,তেমনি প্রটেকশনও বাড়ে। জনগণ এমন ডাকাতদের গায়ে হাত দেয়া দূরে থাক,প্রাণভয়ে তাদের সম্ভ্রম করে চলে। নিরস্ত্র মানুষ সাহস পায় না সীমাহীন সে ডাকাতির বিরুদ্ধে সামান্য প্রতিবাদের। বাংলাদেশে এসব ডাকাতদের পুরা নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত দেশের পুলিশ বাহিনী,মন্ত্রী বাহিনী,সরকারি উকিল বাহিনী,র‌্যাব,বিজিবি,সেনাবাহিনী ও আদালতের বিচারকগণ।

দেশবাসী কি গরু-ছাগল?
শেখ হাসিনা ও সঙ্গিসাথিরা বাংলাদেশের জনগণকেই শুধু নয়,বিশ্ববাসীকেও কি গরু-ছাগলের চেয়ে বেশী কিছু ভাবে? গরু-ছাগলের সামনে লজ্জাশরমের বালায় থাকে না। বাংলাদেশের জনগণকে মানুষ ভাবলে শেখ হাসিনার সরকার যা করছে তাতে তার নিজেরই লজ্জা হতো। কিন্ত মনুষত্ব বিসর্জন দিলে সে শরমটুকুও থাকে না। পশুরা আরেক পশুর সামনে উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করে তো সে পশুত্বের কারণে।।চোরেরা চুরি করে,সন্ত্রাসী ডাকাতি করে এবং পতিতারা কাপড় খুলে তো এরূপ লজ্জা শরম না থাকার কারণে। মানবরূপী এসব জীবগুলো মানব দেহ নিয়ে চলাফেরা করলেও আসলে তারা মানবতাশূণ্য। বাংলাদেশ সরকারের আজ যে সীমাহীন দুর্বৃত্তি তা কি কোন ভদ্রলোক ভাবতে পারে? এরূপ সততা ও ভদ্রতার জন্য কি দরবেশ হওয়া লাগে? পরকালে বিশ্বাস নেই এমন বহু নাস্তিকও স্রেফ লজ্জা-শরমের কারণে চুরিডাকাতি বা ব্যাভিচারে নামে না। মানুষকে তারা ধোকাও দেয় না। লোকলজ্জার ভয় এভাবে কোটি কোটি মানুষকে চুরি-ডাকাতি,ধোকাবাজী,ধর্ষন,অশ্লিলতা ও দেহব্যবসার পথ থেকে দূরে রাখে।এমন লজ্জাশীল মানুষেরা না খেয়ে মারা যেতে রাজী,কিন্তু পাপের পথে নামে না। কারো পকেটে তারা হাত দেয় না। কিন্তু লজ্জাশরম বিলুপ্ত হলে নানা প্রকারের দুর্বৃ্ত্তি তখন রীতিতে পরিণত হয়। শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ক্ষেত্রে তো সেটিই হয়েছে।
দেশবাসীকে যারা গরু-ছাগল ভাবে তাদের মনের সে কুৎসিত ভাবটি প্রকাশ পায় তাদের কর্ম ও আচরনে। কর্মে ও আচরনে তারা অতি বেপরওয়া ও ভাবনাশূন্য হয়। কারণ,গরু-ছাগলের সামনে জবাবদেহীতার ভয় থাকে না। গরু-ছাগল প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ করে না। তারা ভাবে,গরু-ছাগলের জন্মই তো জবাই হওয়ার জন্য। এমন একটি চেতনার কারণেই শাপলা চত্বরে শত শত নিরীহ মুসল্লীকে হত্যা ও আহত করার পরও হাসিনাও তাই জনসম্মুখে জবাব দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।এবং শরম হয় না হত্যা ও গুমের রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ায়। হাসিনার বিশ্বাস,দেশ-শাসনের বৈধ অধিকার একমাত্র তার ও তার পরিবারের।সে সাথে ভাবে,অধিকার রয়েছে যত্র তত্র মানব হত্যারও। তার আগে সে অধিকারের দাবীদার ছিল শেখ মুজিব। এমন ভাবনা যে শুধু হাসিনার একার –বিষয়টি তাও নয়। সে বিশ্বাসটি সকল মুজিব ভক্তদের। অতীতে নমরুদ এবং ফিরাউনের ভক্তগণও মনে করতো,তাদের প্রভুর অধিকার শুধু পুঁজা পাওয়া নয়,যাকে ইচ্ছা তাকে হত্যা করারও। হত্যাকর্মে তারা বিচার-আচারের ধার ধারেনি। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত মূসা (আঃ)র ন্যায় মানব ইতিহাসের দুই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির হত্যা প্রকল্পে তারা নমরুদ ও ফিরাউনকে সমর্থণ করেছিল। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত মূসা (আঃ)কে তারা তাদের জন্মভূমিতে ইসলাম প্রচারের সুযোগ দেয়নি। সুযোগ দেয়নি বসবাসেরও। নমরুদ ও ফিরাউনের ন্যায় প্রতি যুগের স্বৈরাচারিগণ এভাবেই নিজভক্ত দুর্বৃত্তদের প্রতিপালন করে। শেখ হাসিনা ও তার স্বৈরাচারি পিতা মুজিব সে কাজটিই বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে করেছেন। বাংলাদেশের এ মুজিবভক্ত দুর্বৃত্তরা ইসলামপন্থিদের যে শুধু নিজ দেশে বেঁচে থাকা অসম্ভব করছে তা নয়,ইসলামপন্থি নেতাদের বাংলার মাটিতে জানাজা হতে দিতেও রাজী নয়। সম্প্রতি সে ঘোষণাটি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের জনৈক মন্ত্রী। ইসলামপন্থিগণ বেঁচে থাকুক এবং মৃত্যুর পর বিশাল জানাযা পাক সেটি হতে দিতে তারা রাজী নয়। এমন ইতর ঘোষণাটি নমরুদ ও ফিরাউনের পুজারিরাও দেয়নি।
শেখ হাসিনা যে দেশবাসীকে গরুছাগলের চেয়ে যে বেশী কিছু মনে করেন না সম্প্রতি সে প্রমাণটি দিলেন জাতিসংঘে ১৮৫ জনের বিশাল বহর নিয়ে হাজির হয়ে। জাতিসংঘ কূটনীতির কেন্দ্র। ১৮৫ জনের সে বিশাল দলের কি ছিল কূটনৈতীক লক্ষ্য? তিনি তারা বিশাল দল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন নিউয়র্ক শহরের বিলাসবহুল হোটেলে। যেন প্রমোদভ্রমন এবং সেটি জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতিসংঘ গিয়েছিলেন ৬৯ জনের বহর নিয়ে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সফরসঙ্গি ছিলেন মাত্র ১৪ জন। প্রশ্ন হলো,ভারত বা পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতীক কাজকর্মের পরিধি ও পরিমাণ কি অধিক? মূল পার্থক্যটি হলো,মোদী ও নওয়াজ শরীফ –উভয়েই নিজ দেশের জনগণকে গরুছাগল ভাবেন না। জনগণের সামনে জবাবদেহীতার ভয় আছে। অহেতুক কিছু করলে আগামী নির্বাচনে ভোট হারাবার ভয়ও আছে। সে সাথে লজ্জাবোধও আছে। কিন্তু সে ভয় হাসিনার নাই। নাই লজ্জাবোধও। মোদী ও নওয়াজ শরীফকে জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হয়। কিন্তু হাসিনার তো ভোটের প্রয়োজন পড়ে না। অর্ধেকের বেশী সিটে নির্বাচন না দিয়েও সে নির্বাচন জিতে। ডাকাত সর্দারের প্রয়োজন তো একপাল নিষ্ঠুর ডাকাতের।সে ডাকাতদের মাতিয়ে রাখতেই তাদের নিয়ে ঘন ঘন উৎসব করতে হয়। তেমনি হাসিনারও প্রয়োজন লাঠিয়াল বাহিনীর। তাদের খুশি করতেই হাসিনার প্রমোদ ভ্রমনের প্রয়োজনটি তাই নওয়াজ শরীফ ও নরেদ্র মোদীর চেয়ে অধিক। এ বিলাসভ্রমনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তা দিয়ে অনেকগুলি স্কুল বা হাসপাতাল গড়া যেত। কিন্তু দুর্বৃত্তদের মগজে কি সে ফিকির থাকে? তাদের ফিকির তো বেশী বেশী চুরিডাকাতির।

অস্ত্রের রাজনীতি
বাংলাদেশে গণতন্ত্র,ভোট বা নির্বাচনের রাজনীতি এখন কবরে শায়ীত। শেখ হাসিনা চালু করেছেন নিরেট অস্ত্রের রাজনীতি। তার কাছে ভোট নয়,বন্দুকের নলই হলো ক্ষমতার উৎস। শেখ হাসিনা তার পিতার পথ ধরেছেন। নির্বাচনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতেই শেখ মুজিব একদলীয় বাকশাল চালু করেছিলেন। অস্ত্রের এ রাজনীতিতে গুরুত্ব পায় অস্ত্রধারী দলীয় ক্যাডার,রক্ষিবাহিনী,র‌্যাব,পুলিশ,সেনাবাহিনী ও বিজিবি। এমন রাজনীতিতে যার হাতে বন্দুক নাই তার রাজনীতিও নেই। মুজিবের হাতে তাই শুধু বিরোধী দলীয় নেতাদের রাজনীতি মারা পড়েনি,আস্তাকুরেঁ গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তার নিজদলের বন্দুকহীন নেতাকর্মীদেরও। মুজিবের কাছে অস্ত্রধারী দলীয় ক্যাডার বা রক্ষিবাহিনীর কমান্ডারের যে গুরুত্ব ছিল তা দলের অস্ত্রহীন প্রবীন নেতাদের ছিল না। আস্তাকুঁরে যাওয়ার সে মর্মবেদনা নিয়ে তাজুদ্দীন আহমেদের সন্তানরা তো আজও কাতর।সম্প্রতি তারা সে ব্যথার বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন। ‌১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্টে মুজিবের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মালেক উকিল মনের সে গোপন বেদনাটি অতি জোর গলায় প্রকাশ করেছিলেন।বলেছিলেন,“ফিরাউনের নিপাত হয়েছে।” দলের নেতাগণ সে মৃত ফিরাউনের জানাজাও পড়েনি। বরং খন্দোকার মুশতাকের সামনে গিয়ে সারিবদ্ধ হয়েছে তার মন্ত্রীসভায় যোগ দিতে। অস্ত্রের রাজনীতির এই হলো পরিনতি।
কিন্তু শেখ হাসিনা তার পিতার ব্যর্থ রাজনীতি থেকে কোন শিক্ষাই নেয়নি। ফলে প্রবল প্রতাপে ফিরে গেছে পিতার অস্ত্রের রাজনীতিতে। শিক্ষা নেয়নি আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারাও। ফলে মুজিবামলের ন্যায় বেড়েছে রাজনৈতীক হত্যা,বেড়েছে গুম ও রিম্যান্ডে নিয়ে নির্যাতনের কৌশল। শেখ মুজিব আইয়ুবের কারাগারে নিরাপদে ছিলেন। তাকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে রিমান্ডে গিয়ে নির্যাতিত হতে হয়নি। তার গায়ে লাঠির বাড়ি দূরে থাক একটি আঁচড়ও লাগেনি। অথচ তিনি ছিলেন পাকিস্তান ধ্বংসী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী। কিন্তু মুজিবের কারাগারে তার রাজনৈতীক শত্রুরা নিরাপত্তা পাননি। তাই মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরিকে জেলের মধ্যে লাশ হতে হয়েছে। লাশ হতে হয়েছে সিরাজ সিকদারকে।লাশ হতে হয়েছে মুজিব-বিরোধী শিবিরের ৩০-৪০ হাজার রাজনৈতীক নেতা-কর্মীকে। হত্যা,খুন,গুম ও গণতান্ত্রিক অধিকার লুন্ঠনের মধ্যেই ছিল মুজিবের পরম আনন্দ। মুজিবের অনুসরণে শেখ হাসিনাও তাই শুরু করেছেন “এক লাশের বদলে দশটি লাশ ফেলা”র রাজনীতি। দেশের মানুষ কি বলবে,বিশ্ববাসী কি ভাববে তা নিয়ে শেখ মুজিবের কোনরূপ লোকলজ্জা হয়নি। তেমনি হচ্ছে না মুজিব-কন্যা হাসিনারও।
ভোটের রাজনীতিকে বিদায় দেয়ার প্রয়োজনেই শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথাকে বিলুপ্ত করেছেন। কারণ দলের খেলোয়াড়কে রিফারি করলে নিজের খেলোয়াড়দের পেনাল্টি থেকে বাঁচানো যায়,এবং লাল কার্ড দেখানো যায় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে। ভোট ডাকাতির নির্বাচনও তখন বৈধ নির্বাচনের সার্টিফিকেট পায়। এমন দলীয় রিফারি হলো নির্বাচনী কমিশনার। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নিযুক্ত রেফারি তো ইতিমধ্যেই লালকার্ড দেখিয়ে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীকে। ফলে তারা অধিকার হারিয়েছে রাজনৈতীক অংশগ্রহনের। নির্বাচন এখন প্রহসনের হাতিয়ার। তাই যে নির্বাচনে দেশের অর্ধেকের বেশী সিটে একজন মানুষও ভোট দিল না,এবং যে সব সিটে নির্বাচন হলো সে সব সিটেও শতকরা ৫ বা ১০ ভাগের বেশী ভোটার হাজিরই হলো না –তেমন এক প্রহসনের নির্বাচনের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনা আজ ক্ষমতাসীন। দাবী করছেন তিনিই দেশের নির্বাচিত ও বৈধ প্রধানমন্ত্রী। চুরি-ডাকাতির অর্থকে নিজের অর্থ রূপে দাবি করতে চোর-ডাকাতের লজ্জা হয়না। তেমনি ভোটডাকাতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সিটে বসতে শেখ হাসিনারও লজ্জা হয়না। এমন নির্লজ্জ প্রতারণাকারিদের থেকে কি আদৌ কল্যাণ আশা করা যায়? কোন বিবেকমান ভদ্র মানুষ কি এরূপ চুরি-ডাকাতিকে বৈধতা দেয়? গরু-ছাগল কখনোই চোর-ডাকাতের উপদ্রব নিয়ে ভাবে না। নির্বাচন নিয়েও ভাবে না। ভোট ডাকাতি হলেও গরু-ছাগল তাই প্রতিবাদ করে না। হাসিনারও দাবী,গরু-ছাগলের ন্যায় জনগণও এ ভোট ডাকাতির নির্বাচন মেনে নিক। কিন্তু সভ্য মানুষ তো ভাবে। এরূপ চিন্তাভাবনার মধ্যেই তো বিবেকবোধ ও মানবতা। তাই এমন ভোটারহীন ও ভোটহীন নির্বাচনকে একজন সভ্য নাগরিক নির্বাচন রূপে মেনে নেয় কি করে? এমন নির্বাচনকে বৈধতা দিলে চোর-ডাকাতদের শাস্তি দেয়ার বৈধতা থাকে কি? ভোট ডাকাতদের তুলনায় চোর-ডাকাতদের অপরাধ তো নগন্য। তারা কিছু মানুষের পকেটে হাত দিলেও সমগ্র দেশবাসীর অধিকার ছিনতাই করে না। দেশের রাজনীতি ও রাজস্ব ভান্ডারের উপরও মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে না।

দোষ লজ্জাহীনতার
মহান নবীজী (সাঃ) লজ্জাকে ঈমানের অর্ধেক বলেছেন।যার লজ্জা নেই,তার ঈমানও নাই। নির্লজ্জ ব্যক্তির চরিত্রও নাই। চরিত্রহীনদের সবচেয়ে বড় দোষটি তো এই লজ্জাহীনতা। মানুষ তাদের চোর-ডাকাত বলুক, চরিত্রহীন বা লম্পট বলুক, খুনি বা স্বৈরাচারি বলুক –তা নিয়ে এরূপ অপরাধীদের একটুও ভাবনা হয় না। ভাবনা নেই বলেই চুরিডাকাতি,ধোকাবাজি, মানুষ খুন ও লাম্পট্যে তাদের সামান্যতম লজ্জা হয় না। তাদেরা লজ্জা হয়না স্বৈরাচারি শাসনেও। তারা যেমন খুন-খারাবি করতে পারে,তেমনি উলঙ্গও হতে পারে। ধর্ষণে উৎসবও করতে পারে। লজ্জাশরমের কারণেই ভদ্র মানুষ সচারাচর কথা বা ওয়াদার হেরফের করে না। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি মাথায় নিয়ে সে নিজ চরিত্রকে বাঁচায়,কথা ঠিক রাখে। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন,মানুষের ব্যক্তিত্ব তার জিহবায়। মানুষের অতি অমূল্য গুণ হলো এই ব্যক্তিত্ব।মানব চরিত্রের সবচেয়ে মূল্যবান এ অলংকারটি গড়ে উঠে ঈমানের উপর ভিত্তি করে। পরকালে মহান আল্লাহতায়ালার কাছে মহা পুরস্কারটি জুটবে সমূন্নত ব্যক্তিত্বের জন্যই,সুঠাম দেহের জন্য নয়। সেরূপ ব্যক্তিত্ব ধোকাবাজ মিথ্যুকদের থাকে না। জিহবা দিয়ে কথা বলার সামর্থটি মহান আল্লাহতায়ালা অন্য কোন জীবকে দেননি। মহান আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিরূপে সমগ্র সৃষ্টিকূলে মানবের যে মহান মর্যাদা তার অন্যতম কারণ এই জিহবা। মহান আল্লাহতায়ালার প্রশংসা, সত্যের প্রচার ও মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রধানতম হাতিয়ার হলো জিহবা।এ জিহবা দিয়েই মু’মিন ব্যক্তি তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ নেককর্মগুলি করে।একারণেই স্বৈরাচারি শাসক মাত্রই জিহবার উপর নিয়ন্ত্রন বসায়;এবং বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়। এভাবে মু’মিনদের তারা নিরস্ত্র করে।
অপর দিকে বেঈমানেরা বড় বড় গুনাহর কাজে ব্যবহার করে এই জিহবা। ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই অস্ত্রটিকেই তারা অধিক ব্যবহার করে। জাহান্নামে যাওয়ার জন্য এজন্যই মানুষ খুন বা চুরিডাকাতির প্রয়োজন পড়ে না। দেহের এ ক্ষুদ্র অঙ্গ দিয়েই সেটি সম্ভব। মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস,বিদ্রোহ ও মিথ্যা উচ্চারনই কি সে জন্য যথেষ্ট নয়? এ জিহবা দিয়েই দুর্বৃত্ত মানুষেরা দেশে গৃহযুদ্ধ,সংঘাত ও বিপুল রক্তপাত ঘটায়। এটি হলো মহান আল্লাহতায়ালার বিশাল নিয়ামতের সাথে গাদ্দারি। মহান নবীজী (সাঃ)র হাদীসঃ যে দুটি অঙ্গের কারণে অধিকাংশ লোক জাহান্নামী হবে তার একটি হলো জিহবা,অপরটি হলো যৌনাঙ্গ। এ জিহবা দিয়েই মানুষ শুধু কোন ব্যক্তিকে নয়,সমগ্র জাতিকেও ধোকা দেয়। টানে জাহান্নামের পথে। এভাবে জাতির জীবনে ডেকে আনতে পারে ভয়ানক দুর্যোগ। শেখ মুজিব তো সেকাজটিই করেছেন। বাংলাদেশের জনগণের সাথে মুজিবের সবচেয়ে বড় গাদ্দারিটি হয়েছে এই জিহবা দিয়েই। এই জিহবা দিয়েই সমগ্র দেশবাসীকে তিনি বার বার ধোকা দিয়েছেন,এবং সফল হয়েছেন রাজনৈতীক বিজয় অর্জনে।গণতন্ত্রের নামে বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্রকেই কবরে পাঠিয়েছিলেন। কেড়ে নিয়েছিলেন অন্যদের দলগড়া,মতপ্রকাশ ও রাজনীতির স্বাধীনতা। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একদলীয় বাকশাল। স্বাধীনতার কথা বলতেন,আর ভারতের সাথে সই করেছিলেন ২৫ সালা গোলামী চুক্তি। সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপহার দিয়েছিলেন ভয়ানক দুর্ভিক্ষ। দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার কাজে পিতার ন্যায় একই রূপে জিহবাকে ব্যবহার করছেন শেখ হাসিনা।

রোগটি ঈমানহীনতা
গরুছাগল আজীবন উলঙ্গ থাকে লজ্জা-শরম না থাকার কারণে। পশুর ক্ষেত্রে সে লজ্জাহীনতটি জন্মগত; চারিত্রিক দুর্বলতা নয়। ঈমানহীনতাও নয়। অপর দিকে মানব পশুর ন্যায় লজ্জাহীন হয় স্রেফ নৈতীক রোগের কারণে। এ রোগের মূল কারণটি হলো ঈমানহীনতা। লজ্জা হলো ঈমানের অলংকার। মানব মনে যখনই ঈমানের বৃদ্ধি ঘটে, সে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণেও তখন বিপ্লব শুরু হয়। আরবের অসভ্য মানুষগুলো তো সে ঈমানের কারণেই উলঙ্গতা,অশ্লিলতা ও লজ্জীহীনতা ছেড়ে মানব ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার জন্ম দিতে পেরেছিলেন। এমন লজ্জাশীল মানুষগুলো কি মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে নির্লজ্জ হওয়ার কথা ভাবতে পারে? এমন ঈমানদারেরা দেশের সংবিধান থেকে মহান আল্লাহতায়ালার উপর আস্থার ঘোষণাটি সরায় কি করে? রুখে কি শরিয়তি আইনের প্রতিষ্ঠা? বাজেয়াপ্ত করে কি করে জিহাদ বিষয়ক বই? এগুলো তো বেঈমানির আলামত। অথচ মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে এরূপ বেঈমানি ও বিদ্রোহ নিয়েই শেখ হাসিনা ও তার সেক্যুলার মিত্রদের রাজনীতি। এমন বেঈমানি ও বিদ্রোহ নিয়ে রোজ হাশরের বিচার দিনে মহান আল্লাহতায়ালার সামনে একমাত্র নিরট নির্লজ্জরাই দাঁড়ানোর সাহস করতে পারে। ঈমানদারির লক্ষণ তো হলো আল্লাহর প্রতিটি হুকুমের প্রতি সর্বাবস্থায় আনুগত্য এবং তাঁর শরিয়তি আইনের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অটল আপোষহীনতা। ঈমানদার ব্যক্তি শুধু জিহাদ বিষয়ক বইয়ের প্রচারই করে না, জিহাদেও জানমাল নিয়ে হাজির হয়।

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট
বেঈমানগণ যে আচরণে গরুছাগলের চেয়েও নিকৃষ্টতর হয় -সে ভাষ্যটি তো অন্য কারো নয়, সেটি খোদ মহান আল্লাহতায়ালার।সে ঘোষণাটি এসেছে পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআনে।গরু-ছাগলেরা আল্লাহতায়ালার জমিনে মহান আল্লাহতায়ালার শরিয়তী আইনের প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করে না। পশুরা শয়তান হয় না।মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে তারা কখনো বিদ্রোহ করে না। কিন্তু বেঈমানগণ যেমন দুর্বৃত্ত শয়তান হয়,তেমনি শরিয়তের প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এমন শয়তানদের হাতে রাষ্ট্র অধিকৃত হলে সে রাষ্ট্রে আযাব নেমে আসে। এমন বেঈমানদের উদ্দেশ্যই পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,“তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলদ্ধি করে না,তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কর্ণ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শ্রবন করে না।এরাই হলো পশুর ন্যায়,বরং তার চেয়েও নি‌কৃষ্টতর;তারাই গাফেল” –(সুরা আ’রাফ আয়াত ১৭৯)।মানুষ শয়তানের পক্ষ নিবে এবং ইসলামের বিজয় রোধে যুদ্ধে নামবে -মানব চরিত্রের এ ইতর রূপ নিয়ে সর্বজ্ঞানী ও সর্বস্রষ্টা মহান আল্লাহতায়ালার চেয়ে আর কে বেশী জানে? আচরনে এরা যে পশুর চেয়েও নিকৃষ্টতর -পবিত্র কোরআনের সে বর্ণনা কি ভূল হতে পারে? এমন পশুরা ইসলামের সৈনিকদের ফাঁসিতে ঝুলাবে বা গুলি করে হত্যা কররে তা নিয়ে কি সন্দেহ করা চলে? দেশে দেশে এবং বাংলাদেশে ইসলাম বিরোধী শক্তি সে কাজই করছে।

অপরিহার্য যে সিরাতুল মুস্তাকীম
মু’মিনের জীবনে ঈমানের মূল সামর্থটি কখনোই গোপন থাকে না। সেটি প্রকাশ পায় নানা বাধাবিঘ্নতার মাঝে সিরাতুল মুস্তাকীমে পথ চলায়। মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি হলো,সে সিরাতুল মুস্তাকীমটি খুঁজে পাওয়া। মহান আল্লাহতায়ালার প্রদর্শিত এ পথটি খুঁজে না পাওয়া বা তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার অর্থ সরাসরি জাহান্নামে গিয়ে পৌঁছা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সে কাজে সাহায্য করতেই মহান আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে নবী-রাসূল ও আসমানী কিতাব পাঠিয়েছেন। এবং সে কাজে মহান নবীজী (সাঃ) ছিলেন শেষ নবী এবং পবিত্র কোরআন হলো শেষ গ্রন্থ। ব্যক্তির কান্ডজ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ ধরা পড়ে মহান আল্লাহতায়ালার প্রদর্শিত সে পথটি খুঁজে পাওয়ায় এবং সে পথে পথচলায়। একাজে ব্যর্থ হলে জীবনের সকল অর্জন ও সকল সফলতাই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যায়। ঈমানের সবচেয়ে বড় দায়ভারটি তাই স্রেফ পানাহার নয়,অর্থ-উপার্জন বা ব্যবসা-বাণিজ্যও নয়। বরং জীবনের প্রতিটি কর্ম,প্রতিটি কথা,প্রতিটি ভাবনা ও প্রতিটি আচরনে প্রদর্শিত সিরাতুল মুস্তাকীমের পথে অবিচল থাকা। এ পথে প্রতিমুহুর্তে প্রয়োজন পড়ে হিদায়েতের। প্রয়োজন পড়ে কোরআনে বর্নীত রোড ম্যাপের পূর্ণ অনুসরণের। মানুষ যত বুদ্ধিমান,জ্ঞানী,সাধু-সন্যাসী বা আধ্যাত্মিকই হোক না কেন,কোরআনী রোডম্যাপ ছাড়া কি সঠিক রাস্তা পেতে পারে? সেটি কি আবিস্কারের বিষয়? সে সামর্থ কি মানুষের আছে? এমন কি নবী-রাসূলগণও সঠিক পথ পেয়েছেন একমাত্র মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে দিকনির্দেশনার ফলে,নিজ মেধা বা নিজ সাধনার গুণে নয়।
ইতিহাসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সিরাতুল মোস্তাকীমে চলার পথটি সব সময় একই রূপ হয় না। কখনো সে পথটি নয়নাভিরাম সবুজ সমতল ভূমির,কখনো সেটি দুর্গম পাহাড়-পর্বতের,কখনো বা সে পথটি চলে নদ-নদী,সাগর-মহাসাগর বা ধূসর মরুভূমির চড়াই উৎরাই পেরিয়ে। সে পথে কখনো বা হামলা হয় দুর্বৃত্ত ডাকাতদলের, কখনো বা হিংস্র হায়েনার। সিরাতুল মুস্তাকীমে যেমন ধর্মপ্রচার,শিক্ষা-সংস্কৃতি ও অর্থনীতি আছে,তেমনি রাজনীতিও আছে। আছে সশস্ত্র জিহাদও। মু’মিন ব্যক্তিকে তাই সব ধরনের প্রতিকূল অবস্থায় প্রস্তুত থাকতে হয়।লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অতিক্রম করতে হয় বাধাবিঘ্নে ভরা সব্টুকু পথ।তাই যাদের সমগ্র জীবন স্রেফ নামায-রোযা, হজ-যাকাত ও তাহবিহ-তাহলিলের মাঝে বন্দি তারা কি সিরাতুল মুস্তাকীমের সবটুকু অতিক্রম করতে পারে? পৌছতে পারে কি মঞ্জিলে মাকসুদে? ইসলামের বিজয়ে মহান নবীজী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামগণও শান্তিপূর্ণ পথে এগুতে পারেননি।তাদেরকেও বার বার অস্ত্র হাতে রণাঙ্গণে হাজির হতে হয়েছে।সিরাতুল মুস্তাকীমের সে অনিবার্য অংশটুকুও অতিক্রম করতে হয়েছ। আবু জেহেল,আবু লাহাব ও তাদের সাথীদের ন্যায় ইসলামের পরম শত্রুদের নির্মূল করে ইসলামের জন্য স্থান করে নিতে হয়েছে। ইসলামের শত্রু নির্মূলের কাজে বহু সাহাবাকে শহীদ হতে হয়েছে।জিহাদের অস্ত্র রূপে কখনো জিহবা,কখনো বা কলম,কখনো বা অস্ত্রকে ব্যবহার করতে হয়েছে। তাদের সদা প্রস্তুতি ছিল সব ধরণের অস্ত্রের প্রয়োগে। আজও মুসলমানদের সামনে সেটিই তো মহান নবীজীবনের অনুকরণীয় আদর্শ।
তবে ঈমানদার তার জিহাদে কখন কোন অস্ত্রটি হাতে তুলে নিবে সেটি নির্ভর করে শত্রুর হাতের অস্ত্রটির উপর। নবীজী (সাঃ) প্রথমে খালি হাতে ময়দানে নেমেছিলেন। পরে তাকে অস্ত্র হাতে সশস্ত্র শত্রুর মোকাবেলায় জিহাদে নামতে হয়েছে। সিরিয়ার নিরস্ত্র জনগণও খালি হাতে রাজপথের আন্দোলনে নেমেছিল। কিন্তু তাদের মোকাবেলায় সিরিয়ার স্বৈরাচারি শাসক রাজপথে নামিয়েছে ট্যাংক ও মেশিনগানসহ মারমুখি সামরিক বাহিনী। সেনাবাহিনী ২ লাখের বেশী নিরস্ত্র নারীপুরুষ ও শিশুদের হত্যা করেছে। ধ্বংস করেছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। সে বর্বর হামলার মোকাবেলা কি স্রেফ দোয়া-দরুদ দিয়ে হয়? দোয়ার সাথে তারা জানমালের বিনিয়োগও করেছেন। বর্বর হামলার প্রতিরোধে নিরস্ত্র জনগণকে রণাঙ্গণে নামতে হচ্ছে। মিশরের সশস্ত্র সামরিক শাসকগণ একই ভাবে জনগণকে সশস্ত্র জিহাদের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এখন আর জনগণ একা লাশ হচ্ছে না, লাশ পড়ছে সেনাসদস্যদেরও। স্বৈরাচারি শাসকের অস্ত্রের রাজনীতি এভাবেই দেশে দেশে রক্তাক্ষয়ী জনযুদ্ধের জন্ম দেয়।জিহাদ তখন জিহবা বা কলমে সীমিত থাকে না, সশস্ত্র রূপ নেয়। শেখ মুজিবের অস্ত্রের রাজনীতিতে তাই উভয় পক্ষের বহু হাজার লাশ পড়েছে বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে।শেখ মুজিব নিজেও লাশ হয়েছেন। শেখ হাসিনার অস্ত্রের রাজনীতি কি সে পথেই দেশকে নিচ্ছে না? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কি তা থেকে শিক্ষা নেয়ার সামর্থ আছে?

মু’মিনের দায়ভার
মু’মিনের জীবনে দায়ভারটি বিশাল। তার সমগ্র জীবনই সৈনিকের জীবন; এবং যুদ্ধটিও আমৃত্যু। এ যুদ্ধে কোন অবসর নাই। তার কাজ, ইসলামের বিজয় আনা ও নেক কর্মের ফসল ফলানো। একাজে বড় বাধা সমাজের বুকে বেড়ে উঠা আগাছা। আগাছার জঙ্গলে ফসল জন্মে না। বীজ গজালেও তা বেড়ে উঠে না। কারণ,বড় বড় আগাছাগুলো নতুন চারার জন্য স্থান করে দেয় না। তাই ফসল ফলাতে হলে জমিন থেকে আগাছার নির্মূল জরুরী। একই কারণে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ইসলামের শত্রুপক্ষকে অধিষ্ঠিত রেখে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা ও পূর্ণ ইসলাম পালন সম্ভব নয়। তাতে অসম্ভব হয়,মুসলমানের পক্ষে পূর্ণ মুসলমান রূপে বেড়ে উঠা। শয়তানি শক্তির নির্মূল কীরূপে সম্ভব তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে,সে কাজে বিভিন্ন কৌশলও বিবেচনায় আসতে পারে,কিন্তু তাদের নির্মূল যে অপরিহার্য তা নিয়ে কি কোন বিতর্ক চলে? নবীজী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামকে তো এ লক্ষ্যে বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নামতে হয়েছে। সে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অনিবার্য প্রয়োজনে খেলাফতের প্রতিষ্ঠা তাই অপরিহার্য। কোন ঈমানদার ব্যক্তি কি ইসলামি রাষ্ট্র নির্মাণের সে ফরয কাজ থেকে কখনো ইস্তাফা দিতে পারে? সেরূপ ইস্তাফার অর্থ তো মহান আল্লাহতায়ালা ও তার প্রদর্শিত শরিয়তি বিধানের উপর ঈমান থেকে ইস্তাফা দেয়া।
তাছাড়া ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুশক্তির যুদ্ধটি আগামী দিনের বিষয় নয়। সে যুদ্ধ রীতিমত শুরু হয়ে গেছে বহু পূর্ব থেকেই। শেখ মুজিবের ন্যায় হাসিনাও রাজনীতির যুদ্ধকে রণাঙ্গনে টেনে এনেছেন। রাজনৈতীক শত্রুদের নির্মূলে তিনি অস্ত্র ব্যবহার করছেন।সাঁজায়ো গাড়ি,মেশিন গান,গ্রেনেড নিয়ে যুদ্ধ নেমেছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবি। তাদের গুলিতে শাপলা চত্ত্বরে নিহত ও আগত হয়েছে বহুশত মুসল্লি। হাসিনার ঘোষিত এ যুদ্ধের লক্ষ্য দেশের ইসলামপন্থিদের নির্মূল ও শয়তানদের খুশি করা। রাজনীতি,শিক্ষা-সংস্কৃতি ও আইন-আদালতের ন্যায় কোন একটি ক্ষেত্রেও ইসলাম ও ইসলামপন্ত্রিদের জন্য ইসলামের এ শত্রুপক্ষটি সামান্য স্থানও ছেড়ে দিতে রাজী নয়। স্থান দিতে রাজি নয় রাজপথেও। তাদের জন্য কোন শান্তিপূর্ণ রাজনীতির পথই খোলা রাখা হয়নি। রাজনীতির ময়দানে শেখ মুজিব নাস্তিক কম্যুনিস্ট,ইসলামবিরোধী সেক্যুলারিস্ট এবং সাম্প্রদায়িক হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টানদের জন্য শুধু স্থানই ছেড়ে দেননি,নিজের ক্ষমতালিপ্সার রাজনীতিতে তাদেরকে পার্টনারও বানিয়েছেন। অথচ দল গড়া,অফিস গড়া,পত্রিকা প্রকাশ ও আন্দোলন নিয়ে রাস্তায় নামায় অনুমতি তিনি ইসলামপন্থিদের দেননি। কম্যুনিস্ট পার্টির জন্য সরকারি ভাবে বাড়ির বরাদ্দ দিলেও তালা ঝুলিয়েছেন ইসলামপন্থি দলগুলোর অফিসে। সে অভিন্ন নীতিই এখন হাসিনার,বরং সেটি আরো হিংস্র ভাবে।
স্বৈরাচারি শেখ হাসিনা ইসলামের চর্চা মসজিদের বাইরে দূরে থাক,মসজিদের চারদেয়ালের মাঝেও স্বাধীন ভাবে হতে রাজী নয়।সরকারের নিয়ন্ত্রণ শুধু জুম্মার খোতবার উপরই নয়,পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পবিত্র কোরআনের তাফসিরের উপরও। নিয়ন্ত্রণ ওয়াজ মাহফিলের উপরও। কোরআন, হাদীস ও কোরআন নিয়ে কে কতটুকু বলবে বা কি বলা যাবে না -সেটির সীমা রেখা টেনে দিচ্ছে সরকার। শেখ হাসিনার স্বঘোষিত যুদ্ধটি শরিয়ত,খিলাফত,শুরা,জিহাদ,জিজিয়ার ন্যায় ইসলামের মৌল বিধানগুলোর বিরুদ্ধে। অথচ এ বিধানগুলো পালিত না হলে ইসলাম পালিত হয় কীরূপে? মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত এ বিধানগুলোর প্রতিষ্ঠায় ও সেগুলি মেনে চলায় অংশ নিলে কি ধর্মপালন হয়? ইসলামের প্রতিষ্ঠা রুখতে সরকার কোয়ালিশন গড়েছে ইসলামের আন্তর্জাতিক শত্রুদের সাথে। ভারত তার প্রধান মিত্র। হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও নাস্তিকেরা তার প্রধানতম পার্টনার। ইসলাম রুখতে সরকার তার পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবী,সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে।ফাঁসীর রশি তুলে দিয়েছে আদালতের বিচারকদের হাতে। বাংলাদেশের রাজনীতির এই হলো নতুন বাস্তবতা। এ অবস্থায় সিরাতুল মুস্তাকীমের বিস্তারটি কি শুধু নামায-রোযা,হজ্ব-যাকাত ও দোয়াদরুদে সীমাবদ্ধ থাকে? আফগানিস্তান, ইরাক,সিরিয়ার ন্যায় জিহাদের পথও তখন মহান আল্লাহতায়ালার পথের পথিকের সামনে এসে হাজির হয়। প্রশ্ন হলো,সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ ও মিশরের জেনারেল সিসির ন্যায় শেখ হাসিনাও কি তবে বাঙালী মুসলমানদেরও সে পথে পা বাড়াতে বাধ্য করবে? (১৬/১১/২০১৪)

You Might Also Like