স্বাক্ষ্য দিতে ভারতের পথে ফেলানীর বাবা

কোচবিহারে বিএসএফ সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের ডাক পেয়ে ভারতের পথে রওনা দিয়েছেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু। সঙ্গে যাচ্ছেন কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম, ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবির সদর দপ্তর থেকে ভারতে যাবার উদ্দেশ্যে বুড়িমারী চেকপোষ্টের পথে রওয়না হয়েছেন তারা। সোমবার আদালতে স্বাক্ষ্য দিবেন ফেলানীর বাবা।

ভারতে রওনা দেয়ার সময় ফেলানীর বাবা এর আগের বার স্বাক্ষ্য দিয়ে ন্যায় বিচার না পাবার কথা জানিয়ে এবার ন্যায্য বিচারের প্রত্যশা করেন।

ভারতের আদালতে ফেলানীর বাবার সাথে সংগী আইনজীবী এডভোকেট আব্রাহাম লিংকন জানান, পুনর্বিচরের ভেতর দিয়ে প্রমানিত হয়েছে আগেরবার ন্যায্য বিচার হয়নি। এবার খুনির সাজা নিশ্চিত হবার মাধমে ফেলানীর বাবা ও বাংলাদেশ একটি ন্যায় বিচার পাবেন।

ভারতে যাবার প্রাক্কালে পুনর্বিচারে ইতিবাচক ফল আশা করেন কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচারের জন্য কোচবিহারের বিএসএফ সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু হয় গত ২৩ সেপ্টেম্বর। আদালতে স্বাক্ষ্য দেয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ৪৫ বিজিবির সদর দপ্তর থেকে ভারতের পথে রওয়না হন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু, বিজিবির ৪৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোফাজ্জাল হোসেন আকন্দ ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন। কিন্তু আদালত মুলতবি হয়ে যাওয়ায় সে যাত্রায় তারা ফিরে আসেন।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় ভারতের চৌধুরীহাট বিএসএফ ক্যাম্পের কনষ্টেবল অমিয় ঘোষ ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট কোচবিহার জেলার সোনারী এলাকায় ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়। সেবার আদালতে স্বাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু ও মামা আব্দুল হানিফ। ওই বিচারে বিএসএফ সদস্যকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়। এই রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানী হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের কাছে আবেদন করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ।

You Might Also Like