হোটেল আগ্রাবাদে ডিজে পার্টির আড়ালে …

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহ্যবাহী বিলাসবহুল হোটেল হিসেবে বিখ্যাত ‘হোটেল আগ্রাবাদ’। চট্টগ্রামে পেনিনসুলা হোটেল নির্মিত হওয়ার আগে পর্যন্ত চট্টগ্রামে দেশি বিদেশি ভিভিআইপিদের আগমন ঘটলে তারা অবস্থান করতেন হোটেল আগ্রাবাদে।

এই হোটেলের মালিক চট্টগ্রামের খ্যাতনামা নারী নেত্রী এবং দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট নারী শিল্প উদ্যোক্তা। চট্টগ্রামের এমনই ঐতিহ্যবাহী একটি হোটেলের অভ্যন্তরে ডিজে পার্টির আড়ালে নারীদের নিয়ে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর ঘটনা উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং ডবলমুরিং থানা পুলিশের শতাধিক সদস্য হোটেল আগ্রাবাদ ঘিরে রেখে অভিযান চালিয়ে ৯০ জনকে গ্রেফতার করে। যাদের মধ্যে ৩৪ জনই ১৭ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণী।

পুলিশের এই অভিযানের পর পুরো বন্দরনগরীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফাঁস হয়ে যায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী চার তারকা মানের হোটেল আগ্রাবাদে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অসামাজিক কার্যকলাপের চিত্র।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বেশ কিছুদিন ধরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আসছিলাম আগ্রাবাদ হোটেলে ডিজে পার্টির আড়ালে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। এই হোটেলটি একটি অভিজাত শ্রেণির ঐতিহ্যবাহী হোটেল হওয়ায় এখানে অভিযান চালানোর ব্যাপারে আমরা বেশ সতর্ক ছিলাম।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তা হাছান চৌধুরী বলেন, ‘সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আগ্রাবাদ হোটেলে বড় পরিসরে অসামাজিক কার্যকলাপের আয়োজন হওয়ার খবর পেয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ ও ডবলমুরিং থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। এদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী ও উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম-এর নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ আগ্রাবাদ হোটেল ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করে। রাত ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে অশ্লীল ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বয়সী ৩৪ জন তরুণী এবং ৫৬ জন পুরুষকে আটক করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে ১০টি বোতলে অনুমান ৫.৪ লিটার বিদেশি মদ, ২২ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়।’

পরদিন শুক্রবার সিএমপি’র ডবলমুরিং থানা পুলিশ এই তরুণ-তরুণীদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। আদালত ৮৮ জনকে ৩০০ টাকা করে নগদ জরিমানা আদায় করে জামিনে মুক্তি দেন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলার দুই আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই অভিযানে আরও অংশ নেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) হাছানুজ্জামান মোল্লা, ডবলমুরিং থানার ওসি মোঃ মতিউল ইসলাম, নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সন্তোষ চাকমা, এসআই আফতাব হোসেন, ডবলমুরিং থানার এসআই মাঈন উদ্দিন ও এসআই শিবু চন্দ।

অভিযানে অংশ নেওয়া নগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগ্রাবাদ হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবার ডিজে পার্টির আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছিল। রাত ১১টা থেকে এই হোটেলে মদ বিয়ার আর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে আনা তরুণীদের নিয়ে আসর জমানো হতো। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যরাত পেরিয়ে ভোররাত পর্যন্ত চলতো মদ আর নারীর আসর।’

নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী, স্বনামধন্য এবং চট্টগ্রামের একটি প্রভাবশালী পরিবারের মালিকানাধীন হোটেল হওয়ায় এই আগ্রাবাদ হোটেলে পুলিশ কখনো অভিযান পরিচালনা করেনি বলে স্বীকার করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা।

সর্বশেষ সিএমপি’র আলোচিত পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল ম-লের নির্দেশে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে আগ্রাবাদ হোটেলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

এদিকে ডিজে পার্টির আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার হোটেল আগ্রাবাদে ফোন করা হয়। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তারা ফোন রেখে দেন। টেলিফোন রিসিভকারী ব্যক্তি নিজের নাম পরিচয় জানান নি। তিনি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

You Might Also Like