ওসামা বিন লাদেন যেখানে নায়ক

যুক্তরাষ্ট্রের তালিকা অনুযায়ী সৌদি নাগরিক ওসামা বিন লাদেন এখনও সবচেয়ে বিপদজনক ব্যক্তি। যদিও কয়েকবছর আগেই মার্কিন সিল বাহিনীর এক অভিযানে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় লাদেনকে। কিন্তু তার প্রতিষ্ঠিত আলকায়েদা আজও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সমান ভয়ের কারণ।

ওসামা বিন লাদেন পশ্চিমাদের কাছে ভয়ের কারণ হলেও অনেকেরই কাছেই নায়কের সমান। যে নায়ক পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের লাল মসজিদ তেমনি এক স্থান যেখানে ওসামাকে নায়ক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তার প্রদর্শিত মতাদর্শকে আমলে আনা হয়। এই মসজিদের নিয়ন্ত্রণে যে স্কুল চলে সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। পাকিস্তান সরকার যখন তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল তখনও এই স্কুলে ওসামার আদর্শ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করানো হয়েছে।

বিতর্কিত লাল মসজিদের প্রধান ইমাম আবদুল আজিজ গাজি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তালেবানরা যে মতাদর্শ ধারণ করে আমরাও তাই করি। কিন্তু আমরা কোনো সামরিক প্রশিক্ষণ দেই না। আমরা মানুষের মন নিয়ে কাজ করি। শুধু তাই নয়, জিহাদের মূলনীতিও আমরা শিক্ষা দেই। তবে এটা সম্পূর্ণই শিক্ষার্থীদের উপর নির্ভর করে তারা শিক্ষা শেষে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে কি-না। আমরা তাদের নিরুৎসাহী করি না। ওসামা বিন লাদেন আমাদের সবার কাছে একজন নায়ক। তিনি আমেরিকার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং জয়ী হয়েছিলেন। তিনি এই স্কুলের লক্ষ্যকে উৎসাহ দিয়েছিলেন।’

আবদুল আজিজ গাজি শুধু লাল মসজিদের ইমামই নন। একই সঙ্গে তিনি আটটি মাদরাসা চালান। প্রথম মাদরাসাটি তৈরি করেন তার বাবা আফগানিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে দেখা করে আসার পর। সেরকমই একটি মাদরাসার পাঠাগারের নাম দেয়া আছে ওসামার নামে। ২০০৭ সাল থেকে মূলত আবদুল আজিজ গাজি এই মাদরাসাগুলোর উপরে পাকিস্তান সরকারের নজর পড়ে। একই বছরে দেশটির সেনাবাহিনী পরিচালিত এক অভিযানে প্রায় একশ মানুষ মারা যায়। মৃতদের মধ্যে আবদুল আজিজের ছোটো ভাই, মা এবং সন্তান মারা যায়। সেসময় তিনি ‘বুরখা মোল্লা’ নামে পরিচিতি পান। কারণ সেনাবাহিনীর অভিযান চলাকালে তিনি বুরখা পরিধান করে মাদরাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

‘বুরখা মোল্লা’ পরিচালিত স্কুলগুলোতে মোট তিন হাজার ছাত্রী এবং দুই হাজার ছাত্র শিক্ষাগ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানের যে মূল বইগুলো তার সবই প্রায় আবদুল আজিজের লেখা। স্কুলগুলোকে মূলত শিক্ষার্থীদের ১২ মাস মেয়াদে শিক্ষা দেয়া হয় কিন্তু কেউ চাইলে আট বছর মেয়াদী শিক্ষাকার্যক্রমেও পড়তে পারেন।

You Might Also Like