শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিতের অপেক্ষায় বিএনপি

নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনের দাবিতে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের যাওয়ার আগে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিতের জন্য অপেক্ষা করছে বিএনপি। সরকারের উসকানি থাকলেও এর আগে কোনোভাবেই আন্দোলনে যাবে না দলটি। এজন্য নির্দিষ্ট সময়কে টার্গেট না করে বরং চলমান আন্দোলনকেই হঠাৎ করে চূড়ান্ত রূপ দিতে চায় বিএনপি।

প্রায় দেড় বছর পর সোমবার রাতে নিজের উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় দলের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এমন সূত্র এ কথা জানিয়েছেন।

বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের হুংকার দিয়ে এলেও এখন সাংগঠনিক পুনর্গঠনকেই প্রধান্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিএনপি। এর ধারাবাহিকতায় ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও ঢাকা মহানগর বিএনপিকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পুনর্গঠন-প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

সোমবারের বৈঠকে উপদেষ্টারা তাদের অবস্থান থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। কেউ কেউ ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিকেই আন্দোলনে নামার মোক্ষম সময় হিসেবে মত দেন। তাদের যুক্তি- দ্রুত আন্দোলনে না নামলে নেতা-কর্মীরা যেমন হতাশ হবেন, তেমনি জনগণও ওই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হবে না।

তবে উপদেষ্টাদের কয়েকজন পরামর্শ দেন, সরকার মুখে স্বীকার না করলেও তাদের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে ভেতরে-বাইরে তারা খুবই চাপের মধ্যে আছে। ভবিষ্যতে এ চাপ আরো বাড়বে। তখন সময় বিবেচনায় নিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। তাহলে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের অবস্থান ও জনগণের ভাবনাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে অবহিত করেন উপদেষ্টারা।

বৈঠকে বিএনপি-প্রধান উপদেষ্টাদের মতামত শোনেন। পরে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। খালেদা জিয়া বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে সঠিক উল্লেখ করে উপদেষ্টাদের আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলন হবে এবং সরকার নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এমন দুই উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে চলমান আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। যাতে নাশকতার অভিযোগ তুলে সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর কোনো ধরনের সুযোগ নিতে না পারে। সময়মতো দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা ঠিক করতে আবারও উপদেষ্টাদের নিয়ে বসবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন বিএনপি প্রধান।

রাত ৯টার দিকে গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেষ হয় রাত ১২টায়।

বৈঠকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, এম এ কাউয়ুম, রিয়াজ রহমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, ফজলুর রহমান পটল, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, ক্যাপ্টেন (অব.) সুজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর মঙ্গলবার রাতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম-মহাসচিব এবং বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন খালেদা জিয়া।

You Might Also Like