জোড়া যুবতী কুপিয়ে অট্টহাসি খুনির!

হংকংয়ের বিলাসবহুল আবাসনে জোড়া খুনের জেরে ছড়াল আতঙ্ক। এক খুনের তদন্ত করতে গিয়ে খোঁজ মিলল আরেকটি মৃতদেহের। এদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার যুবকের মানসিক সুস্থতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করল আদালত।

রাতে জরুরি ফোন পেয়ে শহরের অভিজাত এলাকার এক আবাসনে হানা দেয় হংকং পুলিশ। সেখানে গলায় ও পশ্চাদ্দেশে গভীর ক্ষত-সহ উদ্ধার করা হয় ইন্দোনেশীয় যৌনকর্মী সেনেং মুজিয়াসিকে (২৯)। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে মেলে সুটকেস-বন্দি আরেক যুবতীর দেহ।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবতীর নাম সুমার্তি নিংসি (২৩)। ইন্দোনেশীয় এই তরুণীও পেশায় যৌনকর্মী ছিলেন। জোড়া খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ফ্ল্যাটের মালিক, ব্রিটিশ নাগরিক ও পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী ২৯ বছরের রুরিক জাটিংকে।

গ্রেফতারের এক সপ্তাহ পর অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে তার মানসিক বিকৃতি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন বিচারক। বস্তুত, শুনানি চলাকালীন আশ্চর্যজনক নির্লিপ্ত অবস্থায় ছিল জাটিং। এমনকি, পুলিশ ভ্যানে এজলাস ছেড়ে বেরোনোর সময় তাকে শব্দ করে হাসতেও দেখা যায়। আপাতত দু’জন মনরোগ বিশেষজ্ঞ তাকে পরীক্ষা করবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে জাটিংকে জেল নাকি মানসিক চিকিত্সাকেন্দ্র, কোথায় পাঠানো হবে।

আসলে হত্যাকাণ্ডের আগে এবং পরে জাটিংয়ের বেশ কয়েকটি আচরণ এমন প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে লন্ডন ছেড়ে হংকংয়ে এসে থিতু হয় সে। প্রথম হত্যাকাণ্ডের আগের দিন শহরের এক নামী ব্যাঙ্কের চাকরি আচমকাই সে ছেড়ে দেয়। চাকরি ছেড়ে আসার সময় অফিসের ই-মেলের জবাবে সে পোস্ট করে, ‘অনির্দিষ্ট কালের জন্য অফিস থেকে বের হলাম। জরুরি কারণে এমন একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন যে উন্মাদ মনোরোগী নয়।’

এরপর সন্ধেয় শহরের এক পানশালায় তাকে দেখা যায়। ইতস্তত ঘোরাঘুরির পর তিন সন্তানের জননী এক যুবতীর সঙ্গে সে আলাপ জমায়। মাত্র কয়েক মিনিটের পরিচয়ের পরই তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে জাটিংয়ের কথাবার্তা শুনে সন্দেহ হওয়ায় মহিলা রাজি হননি। এরপর পানশালা ছেড়ে বেরিয়ে যায় জাটিং। বোঝা যাচ্ছে, এরপরই সে যৌনকর্মী সুমার্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। তারপর তাকে খুন করে। একই ভাবে এর কয়েক দিন পর হ্যালোউইনের রাতে হত্যা করে সেনেংকেও।

জানা গেছে, গত ৬ মাস যাবত ফিলিপিন্সের নাগরিক ২২ বছরের তরুণী এরিয়েন গুয়ারিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে বাঁধা পড়েছিল জাটিং। সম্প্রতি তাকে হংকংয়ে এসে এক সপ্তাহ ছুটি কাটানোর প্রস্তাব দেয় সে। তবে পাসপোর্ট না মেলায়শেষ পর্যন্ত আসা হয় না গুয়ারিনের। জোড়া খুনের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর অবশ্য নিজেকে ‘ভাগ্যবতী’ ভাবছেন এই তরুণী।

You Might Also Like