দেশজুড়ে অভিযান শুরু

সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান শুরু আজ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ছাড়াও এ অভিযানে অংশ নেবে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযান চালাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি আছে সাড়ে তিন লাখ, যার মধ্যে রাজধানীতেই ৯০ হাজার। এসব গাড়ি চালাচ্ছেন লাইসেন্সবিহীন চালকরা। অবৈধভাবে মহাসড়কে চলাচল করছে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন যানবাহন।

এসব কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ জন্যই লাইসেন্সবিহীন চালক এবং অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হচ্ছে।

বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) রফিকুল ইসলাম বলেন, ১০ নভেম্বর থেকে এ অভিযান শুরু হবে। তবে কত দিন পর্যন্ত চলবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সারা দেশে বিআরটিএর কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, দালাল ও প্রতারকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বিশেষ অভিযান চালনারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রোববার বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে সড়ক নিরাপত্তা, সড়ক পরিবহন ও বিআরটিএর সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ক এক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সারাদেশে বিআরটিএর অফিস চত্বর থেকে দালাল প্রতিরোধ কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু দালাল ও প্রতারককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও বিভিন্ন পরিমাণে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে আগামী ১০ নভেম্বর থেকে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সভায় জানানো হয়, বিদ্যমান মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর পরিবর্তে যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন আইন ২০১৪ প্রণয়ন করা হচ্ছে। আইনের খসড়াটি আগামী তিন মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।

এর আগে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সভায় আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা এবং অংশীদারদের সাথে আলোচনা করা হবে। প্রস্তাবিত খসড়ায় আইন লংঘনে সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, নাটোরের বড়াইগ্রামে সম্প্রতি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর গত ২৩ অক্টোবর কল্যাণপুরে কেয়া পরিবহনের বাস ডিপোতে বিআরটিএ বিশেষ অভিযান চালায়। এতে কেয়া পরিবহনের ১৫টি ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

কেয়া পরিবহনের নির্বাহীকে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং সাত হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই দুর্ঘটনার জন্য হানিফ পরিবহনের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে সভায় জানানো হয়েছে।

বর্তমানে রেজিস্ট্রেশনকৃত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে মোটর সাইকেল প্রায় ১১ লাখ এবং বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। বিআরটিএ থেকে দেয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩১ হাজার।

বিআরটিএর হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। সভায় বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like