পুলিশের নাকের ডগায় ১০ বছর ধরে কারবার

মো. রফিকুল ইসলাম। নামে সাধারণ হলেও কৌশলে অসাধারণ মানুষ তিনি। পুলিশের নাকের ডগায় ১০ বছর ধরে জাল টাকার কারবার করেছেন। একবারের জন্যও তার টিকিটি কেউ ছুঁতে পারেনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরির কারখানা স্থাপন করে বিপুল পরিমাণ টাকা, ভারতীয় রুপি, ডলার, ইউরোসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা তৈরি করে দেশব্যাপী বিস্তৃত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। গতকাল শনিবার সকালে ডিসি ডিবি (পশ্চিম) শেখ নাজমুল আলমের নির্দেশনায় এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদ নাসের জনির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। এসময় তার সাত সহযোগীসহ এক কোটিরও বেশি মূল্যমানের পরিমান দেশি-বিদেশি জালমুদ্রা উদ্ধার হয়।

দীর্ঘ ১০ বছর প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নির্বিঘ্নে জালটাকার কারবার করার বিস্ময়কর কাহিনী তিনি ডিবি পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তার গল্প শুনে পুলিশও রীতিমতো বিস্মিত!

রফিকুলের সেঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন- বাসেদ আলী, দুলাল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, কামাল ফরেজী, সেন্টু হাওলাদার এবং মনির খাঁ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাসেদ জানান, তিনি পেশাদার জালটাকা বিক্রেতা। ৫ থেকে ৬ বছর যাবৎ তিনি রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে পাইকারি মূল্যে জালটাকা কিনে খুচরা মূল্যে অন্য কারবারীদের কাছে বিক্রি করে আসছেন।

তিনি আরো জানান, মিরপুরের পূর্ব আহাম্মদ নগর (মধ্যপাইকপাড়া) ১৮৮/৫ নম্বর বাড়ির ৭ম তলার দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাটে রফিকুলের কারখানা আছে এবং তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে সেখানেই থাকেন।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রফিকুলকেসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৮৬ লাখ জালটাকা ও ২৪ লাখ অর্ধছাপা জালটাকাসহ বিপুল পরিমাণ টাকা তৈরির কাগজ, ২০টি ফ্রেম, রঙ, নিরাপত্তা সুতা, ৫টি ল্যাপটপ, ১টি ডেক্সটপ, ৫টি প্রিন্টার ও টাকা তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই চক্রের কেউ টাকশালের সাথে সম্পৃক্ত কি না এটা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি জালটাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব জালটাকা ব্যাংকে ঢুকছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘টাকা ছাপানোর এমন গ্রুপ দেশে ৮ থেকে ১০টি রয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে এদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে পেনাল কোডেও (দণ্ডিবিধি আইন) এদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।’ গত ৬ বছরে যেসব জালটাকা প্রস্তুতকারী চক্র ধরা পড়েছে তাদের মধ্যে কারোরই এখনো বিচার নিষ্পন্ন হয়নি বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, জালটাকা প্রস্তুতকারী চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ২৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।

You Might Also Like