নড়াইলে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৬ ছাত্রীর যৌন অভিযোগ

নড়াইলের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছে ৬ ছাত্রী।

নড়াইল সদর উপজেলার দত্তপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আইয়ুব হোসেনের বিরুদ্ধে তারই ৬ ছাত্রী যৌন হয়রানিসহ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, দত্তপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আইয়ুব হোসেন বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের ভাল রেজাল্ট করিয়ে দেবার কথা বলে তার বাসায় প্রাইভেট পড়তে যেতে বলে। ছাত্রীরা সরল মনে পড়তে গেলে বাসার অন্যরুমে ডেকে নিয়ে একে একে ৬ জন ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ ও যৌন হয়রানি করে। ছাত্রীরা ভয়ে ও সম্মানের কথা ভেবে চুপ থাকলেও পরবর্তীতে এক অন্যের কথা জেনে যায়।

এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ ওই ৬ ছাত্রী গত ২৫ অক্টোবর বিভিন্ন সময়ে  যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষকের কাছে এক লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি আবুল বাশার শেখকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ কমিটিকে ৩০শে অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। কমিটি রিপোর্ট দেয়ার জন্য শনিবার পর্যন্ত সময় নেয়।

শনিবার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট করতে না পারায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি পুনরায় সভা করে। সভায় ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষক গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেএসসি মডেল টেস্ট পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ১৮ অক্টোবর এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার গণিত বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন। তবে একটি সূত্রের দাবি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক সনৎ কুমার জড়িত ছিলেন।

এ বিষয়ে দত্তপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আইয়ুব হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে।

সনৎ কুমার সাহা বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আইয়ুব হোসেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা স্বীকার করেছেন। আর জেএসসি মডেল টেস্ট পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মেহেরুন নেছা ফাল্গুনীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া, যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

You Might Also Like