পুলিশের তল্লাশী: যেসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন

যেসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেনঢাকা: খুব কর্মব্যস্ততা অথবা প্রয়োজনের তাগিদে নিজ গন্তব্যে ছুটে চলেছেন। পথের মাঝে বা কোনো এক অলিগলিতে হঠাৎ পুলিশ আপনার গতিরোধ করলো। এমন ক্ষেত্রে আপনি ‘থ’ খেয়ে গেলেও পুলিশকে পাল্টা প্রশ্ন করে আপনার গতিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলেন। পুলিশ কর্মকর্তা প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তরও দিল। তারা জানালো, কোনো বিশেষ কারণ বা আপনার বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত তথ্য, জননিরাপত্তার স্বার্থে বা অন্যকোনো উপযুক্ত সন্দেহের কারণবশত আপনার সঙ্গে থাকা ব্যাগ, লাগেজ, গাড়ি ইত্যাদি ছাড়াও আপনাকে তল্লাশী করতে চায়। কিন্তু কি করবেন তখন? পুলিশের সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়াবেন, নাকি কোনো কারণ দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন?

এমন পরিস্থিতিতে পুলিশকে কখনোই শত্রুভাবাপন্ন করা যাবে না। কেননা আইনগতভাবে তারা আপনাকে যে কোনো সন্দেহবশত তল্লাশীর অধিকার রাখে। তাই তল্লাশীতে বাধা দেয়া বা তাদের সঙ্গে অসাদাচারণ করা ঠিক না। কেননা এসব ক্ষেত্রে ‘সন্দেহ প্রবল’ হলে তারা আপনাকে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ আইনের ৫৪ ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করার আইনত অধিকার বহন করে। তবে এখানে হতাশ না হয়ে তল্লাশীকালে পুলিশকে সহযোগিতা করাই হবে যথাযথ কাজ। সেক্ষেত্রে তল্লাশীর বিষয়গুলো আইনগতভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি-না সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ (Criminal Procedure 1898)-এর ১০৩ ধারায় তল্লাশীর বিভিন্ন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে-

১০৩ ধারার উপধারা (১) এ বলা হয়েছে, পুলিশ অফিসার বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো এলাকায় কোনো স্থানে তল্লাশী চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিলে অবশ্যই সেই এলাকার বা স্থানের দুই বা ততোধিক সম্মানিত বসবাসকারী ব্যক্তিকে তল্লাশীর সময় হাজির থাকতে এবং ঘটনার সাক্ষি হওয়ার জন্য আহ্বান করবেন। তবে সেক্ষেত্রে পুলিশ অবশ্যই স্থানীয় ব্যক্তিদের যে কোনো একজনকে উপস্থিত থাকার জন্য লিখিত আদেশ দিতে পারবেন। আবার তল্লাশীকালে স্থানীয় এলাকার সম্মানিত সাক্ষি না পাওয়া গেলে ভিন্ন স্থান থেকে সাক্ষি নেয়া যেতে পারে।

উপধারা (২) এ বলা হয়েছে, পুলিশ অবশ্যই স্থানীয় বসবাসকারী ব্যক্তিদের সামনে তল্লাশী পরিচালনা করবেন এবং তল্লাশীর সময় জব্দকৃত সব জিনিসের (কোনটি কোন স্থানে পাওয়া গেছে) একটি তালিকা তৈরি করবেন। এসময় স্থানীয় বসবাসকারী সাক্ষিরা ওই তালিকায় স্বাক্ষর দেবেন। তবে বিশেষ কারণ ছাড়া এসব সাক্ষিদেরকে আদালতে সাক্ষি হিসেবে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হবে না।

উপধারা (৩) এ বলা হয়েছে, পুলিশ তল্লাশীর সময় যেখানেই যাবে সেখানে সাক্ষিকে সঙ্গে রাখতে হবে। তল্লাশীর জব্দকৃত মালামাল সাক্ষিকে দেখাতে হবে এবং এর একটি তালিকা করে তৈরি করতে হবে। স্থানীয় সম্মানিত সাক্ষি চাইলে এই তালিকার একটি কপি তাকেও সরবরাহ করা যাবে।

উপধারা (৪) এ বলা হয়েছে, যে স্থানে তল্লাশী করা হয় সে স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি থাকতে হবে এবং মালামাল জব্দ তালিকায় সে সব স্থানীয় সাক্ষির নাম উল্লেখ রাখতে হবে।

উপধারা (৫) এ বলা হয়েছে, কারো বিরুদ্ধে ‘তল্লাশী পরোয়ানা’ থাকলে স্থানীয় ব্যক্তি বা বাসিন্দাকে উপস্থিত থাকার জন্য লিখিত আদেশ দেয়া হতে পারে। এমন তল্লাশীর সময় যদি কেউ উপস্থিত থাকতে আপত্তি জানায় তবে সে দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছেন বলে ধরা হবে।
দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তাকে সরকারি কোনো কাজে সহযোগিতায় ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকৃতি জানালে বা বাধা দিলে তাকে একমাস পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোনো পরিমাণ জরিমানা দণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।’

তাই পুলিশ বা অন্যকোনো অফিসার অথবা কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্মকর্তা দিয়ে তল্লাশীর সময়ে স্থানীয় এক বা দু’জন সম্মানিত ব্যক্তি সে স্থানে উপস্থিত আছে কি-না এবং তাদেরকে দেখিয়ে সব মালামাল তল্লাশী করা হচ্ছে কি-না এ বিষয়ে জনসাধারণকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

You Might Also Like