জারাকে ছোঁয়া হলো না মেসির

সবাই তাকিয়ে ছিলেন লিও মেসির দিকে৷ এই ম্যাচে দুটো গোল করলেই তিনি হতেন লা লিগায় সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা৷ ভেঙে যেত জারার বহুদিনের রেকর্ড৷ মেসি হতভাগ্য, তার দুটো শট দুটো অর্ধে বারে লেগে ফিরল৷ বার্সেলোনা পিছিয়ে পড়ে আলমেনিয়াকে ২-১ হারালেও মেসির আর এই ম্যাচে জারাকে ছোঁয়া বা টপকানো হলো না৷

মেসির জন্য তৈরি মঞ্চে যাবতীয় আলো নিয়ে গেলেন অন্য দুই তারকা নেইমার এবং সুয়ারেস৷ কোচ এনরিকে প্রথম টিমে রাখেননি দু’জনকে৷ মেসির সঙ্গে প্রথমার্ধে ছিলেন হাদ্দাদি ও পেদ্রো৷ বার্সেলোনাকে একেবারেই জমাট মনে হয়নি৷ মাঝমাঠে খাবি বা ইনিয়েস্তা কেউ ছিলেন না৷ বারবার চোখে পড়ছিল মাঝমাঠের ব্যর্থতা৷

৩৬ মিনিটে থিয়েবি মেসিদের ধাক্কা দিয়ে যান গোল করে৷ এনরিকে বিপদ বুঝে বিরতিতে এক সঙ্গে নামান নেইমার এবং সুয়ারেসকে৷ এই দু’জনের গতি ও বুদ্ধি ম্যাচটাকে বদলে দেয়৷ বারবার জাত চেনাচ্ছিলেন দুই লাতিন আমেরিকান৷ এদের পাশে নিজের ছন্দ খুঁজে পান তৃতীয় লাতিন আমেরিকান মেসি৷ সামান্য পরে এনরিকে মাঝমাঠে বুসকেতসকে তুলে নামান প্রবীণ খাবিকে৷ তিন পরিবর্ত মিলে খেলাটা বার্সেলোনার দিকে টেনে আনেন৷

নেইমার চুলের স্টাইল পাল্টেছেন আবার৷ তাকে দিয়ে সুয়ারেস প্রথম গোল করান৷ সুয়ারেসের আর একটি চমৎকাসর পাস থেকে অন্য গোল করেন আলবা৷ শেষ তিন ম্যাচে এই প্রথম জিতল বার্সা৷ সুয়ারেস আসার পরে সরকারি ম্যাচে জিততে পারেনি বার্সেলোনা৷ তাই তার উপর চাপ বাড়ছিল৷ এই ম্যাচটায় কিন্ত্ত তিনি চমৎকাতর খেলে টিমকে চালালেন৷ অসাধারণ পাস দিয়ে ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিলেন নিজেদের দিকে৷

লা লিগায় টানা দুটো ম্যাচ হারের পরে কোচ এনরিকে চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন৷ মেসির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে চর্চা চলছিল বারবার৷ এ দিন পিছিয়ে জিতে তিনি বেশ স্বস্তিতে৷ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আমস্টারডামে জেতার পরে তিনি অনেকটা চাপমুক্ত হয়েছিলেন৷ আপাতত তার চাকরি নিয়ে প্রশ্ন আর উঠবে না৷ এনরিকে অবশ্য ম্যাচের আগে বলে দেন, ‘আমাদের ছেলেরা এত ভালো যে যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়াবে৷’ তিনি এই ম্যাচটায় চাপের মধ্যেও তরুণদের সুযোগ দেন৷ কিন্ত্ত তরুণরা সে ভাবে নজর কাড়তে পারেননি৷

You Might Also Like