আবার ১০০ মেগা. ভারতীয় বিদ্যুৎ আসছে

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সূর্যমনি সাবস্টেশন থেকে কুমিল্লায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানী আগরতলায় দুই দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। রাজ্যের গোমতি জেলার ৭২৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পালাটানা তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এ বিদ্যুৎ নেয়া হবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির পরিচালক চৌধুরী আলমগীর হোসেন বলেন, সূর্যমনিনগর সাবস্টেশন থেকে নেয়া লাইনটি ভারত কোনাবন পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার পথ টেনে দেবে। এটা বাংলাদেশের ক্রসিং পয়েন্ট। কোনাবন থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে কুমিল্লার জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত টানতে হবে আরো ২৭ কিলোমিটার। আর এতে খরচ পড়বে ১৩৫ কোটি টাকা।

অপরদিকে ত্রিপুরা রাজ্য ইলেকট্রিক্যাল করপোরেশন লিমিটেডের (টিএসইসিএল) কারিগরি পরিচালক এমকে চৌধুরী বলেন, পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (পিজিসিআইএল) ভারত অংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন টেনে দেবে। এতে কতো খরচ হবে তা এখনো নিরূপণ করা হয়নি।

টিএসইসিএলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসকে রায় বলেন, সূর্যমনিনগরে নতুন স্থাপিত সাবস্টেশনটি আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের মান সুনিশ্চিত করেই স্থাপন করা হয়েছে।

আর পালাটানা প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করার জন্য ইতিমধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস আনার কাজ শুরু হয়ে গেছে। চলতি বছরেই তা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।

চৌধুরী আলমগীর হোসেন আরো বলেন, একটি বিদ্যুৎ করিডোর নেয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্ব অঞ্চল থেকে পশ্চিমবঙ্গে এ লাইন টানা হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বহরমপুর সাবস্টেশন থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সাবস্টেশনের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। গত শনিবার এই আমদানি লাইনে সমস্যার কারণে ভেড়ামারা সাবস্টেশনটি অকস্মাৎ বন্ধ হয়ে দেশের প্রায় সবক’টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এক যোগে বিকল হয়ে পড়ে। ফলে প্রায় ১২ ঘণ্টা অন্ধকারে থাকে সারা দেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতোবড় বিদ্যুৎ বিপর্যয় আর ঘটেনি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চে উৎপাদনে এসেছে ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই প্রকল্পটির জন্য বিনা মাশুনে আশুগঞ্জ থেকে আখাউরা পর্যন্ত ট্রানজিট নিয়েছে ভারত। উপরন্তু ভারতের এই প্রকল্পটির জন্য বাংলাদেশকে বিসর্জন দিতে হয়েছে তিতাস নদী। সেতু ও কালভার্টের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিতাস নদী ও তার খালগুলোর উপর দিয়ে বাইপাস রাস্তা তৈরি করে বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভারি যন্ত্রপাতিবাহী লরি নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে রাস্তাঘাট যেমন ভেঙে গেছে তেমনি হত্যা করা হয়েছে তিতাসকে।

You Might Also Like