ডিসেম্বরেই কঠোর আন্দোলন

ডিসেম্বর মাসে কঠোর আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। তবে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে সফলতা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। এর মধ্যে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা। তারপরও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির আন্দোলন সফল হবে এবং আন্দোলন সফল করার জন্য দল পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

এই আন্দোলনের কর্মসূচি আগামী ২৯ নভেম্বর কুমিল্লার জনসভা থেকেই ঘোষণা করা হবে। ওইদিন বিএনপি চেয়ারপারসন সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য কয়েকদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক শীর্ষ নেতা এমন তথ্য দিয়েছেন। তবে আন্দোলনের গতি প্রকৃতি নিয়ে কোনো কথা বলতে চাননি কোনো নেতাই।

বিএনপি নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকার ‘অবৈধ’। এই সরকারের কোনো বৈধতাই নেই ক্ষমতায় থাকার। তারা জোর করে ক্ষমতায় আছে। কিন্তু এভাবে অল্প কয়েকদিনের জন্য থাকতে পারলেও তা দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্ভব নয়। জনগণ আন্দোলনের জন্য মুখিয়ে আছে। যে কোনো সময় আন্দোলন শুরু হবে। আর জনগণ তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই সরকারকে বিদায় করবে।

আন্দোলনে বিষয়ে আলাপকালে নেতারা আরো বলেন, এবারের আন্দোলন যাতে সফল হয় সেই লক্ষ্যে হোমওয়ার্ক করছে বিএনপি। এর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সারাদেশে গণসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বিভিন্ন জেলায় জনসমাবেশ করছেন।

পাশাপাশি দল ও অঙ্গ সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। ক্ষেত্র প্রস্তুত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করবেন চেয়ারপারসন। কর্মসূচির নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে যাচাই বাছাই চলছে বলেও জানান এক নেতা।

দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও মহানগর বিএনপির এক শীর্ষনেতা বলেন, জনগণ আগে আন্দোলনে নামে না। জনগণ দেখে। যখন আন্দোলন গতিশীল হয় তখন জনগণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে সেই আন্দোলনকে সফল করে তোলে। ইতিহাস তাই বলে। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে সারাদেশের জনগণও যোগ দিয়েছিল। কিন্তু ঢাকা মহানগরীর নেতারা আন্দোলন শুরু করতে না পারায় রাজধানীর জনগণ নামেনি, তাই আন্দোলনও সফল হয়নি। তাই বিএনপিকেই আন্দোলন শুরু করতে হবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জনগণ আন্দোলনের জন্য মুখিয়ে আছে। চেয়ারপারসনের সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে জনগণ এই সরকারের প্রতি কতটা ক্ষুব্ধ। আমরা আন্দোলনের মধ্যেই আছি। সরকার পতনের জন্য খুব শিগগিরই সেই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন আন্দোলন সংগ্রামকে সামনে রেখে সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর কমিটি, ছাত্রদল ও শ্রমিকদল পুনর্গঠন করেছেন। নতুন নেতাদের আন্দোলন সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। অন্য কমিটিগুলো নিয়েও কাজ চলছে। আশা করি, খুব শিগগিরই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।’

অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু বিরোধীদের প্রতি সরকারের জিরো টলারেন্স এবং দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা বাস্তবতায় কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘সব সরকারই বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করতে সচেষ্ট থাকে। তাই বলে কি আন্দোলন বন্ধ থাকে, থাকে না।’

আর সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন শুরু হলেই নেতাকর্মীরা চাঙা হয়ে উঠবে। আন্দোলন গতিশীল হলে জনগণও এর সাথে যোগ দেবে। বিএনপি সেই টার্গেট নিয়েই এগুচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

আন্দোলনের বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘নেত্রী আন্দোলনে ডাক দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তিনি।’

আন্দোলন সফল করার জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপি প্রস্তুত আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন জনগণের দাবি। এই দাবি আদায়ে নেত্রী গণআন্দোলনের ডাক দিবেন। সেই আন্দোলন সফল করার জন্য ঢাকা মহানগর
বিএনপি প্রস্তুত। আমরা নেত্রীর ডাকের অপেক্ষায় আছি। জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করা হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ কয়েক দফায় আন্দোলনের ডাক দিয়েও মাঠে নামেনি বিএনপি। টানা ছয় বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এখন সাংগঠনিক দুর্বলতায় ধুঁকছে মনে করছেন রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা। তার ওপর বিরোধীদের যে কোনো আন্দোলনের প্রতি সরকারের জিরো টলারেন্স ভূমিকা বিএনপিকে মাঠে নামতে নিবৃত করছে। সরকারি চাপের মধ্যে থেকে দলটি এখন সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতেই হিমশিম খাচ্ছে।

You Might Also Like