হতাশায় পুড়ল বার্সেলোনা

শিরোপা লড়াইয়ে দুই প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ আর আতলেতিকো মাদ্রিদের জয়ের দিনে হতাশায় পুড়ল বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠে সেলতা ভিগোর কাছে একমাত্র গোলে হেরে শীর্ষ থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে লুইস এনরিকের দল।

শনিবার রাতে ক্যাম্প নউয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ সমৃদ্ধ বার্সেলোনার একের পর এক গোলের সুযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন সেলতা ভিগোর গোলরক্ষক সের্হিও আলভারেস। এছাড়া দুর্ভাগ্যও যেন ভর করেছিল মেসি-নেইমারদের ওপর। দুই তারকার দুটি করে প্রচেষ্টা গোলপোস্টে বাধা পায়।

ম্যাচের অষ্টম মিনিটে প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল বার্সেলোনা। তবে ইভান রাকিতিচের ফ্রি-কিক থেকে নেইমারের হেড ঠেকিয়ে দেন সেলতা ভিগো গোলরক্ষক সের্হিও আলভারেস।

তিন মিনিট পর গোলরক্ষককে ঠিকই ফাঁকি দেন ব্রাজিল তারকা। তবে এবার ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁকানো শট ফেরায় গোলপোস্ট।

ম্যাচের ৩০তম মিনিটে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা প্রায় ছুঁয়েই ফেলছিলেন লিওনেল মেসি। নেইমারের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে জোরালো শট নিয়েছিলেন; ডাইভ দিয়ে কোনোমতে তা রক্ষা করেন গোলরক্ষক আলভারেস।

পরের মিনিটে আবারও নেইমারের সঙ্গে বোঝাপড়া করে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়েছিলেন মেসি। এবার জালে ঢুকতে থাকা বলটি কোনোমতে বারে লাগিয়ে ফেরান সেলতা ভিগোর এক ডিফেন্ডার।

দুই মিনিট পর আবারও হতাশা; লুইস সুয়ারেস দারুণ একটি ক্রস পাঠিয়েছিলেন অরক্ষিত অবস্থায় থাকা মেসিকে। কিন্তু আর্জেন্টিনা অধিনায়কের হেড চলে যায় গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে।

বিরতির আগে আরো দুটো সুযোগ এসেছিল বার্সেলোনার সামনে। তবে সুয়ারেস আর নেইমারের শট দৃঢ়তার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আলভারেস।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে আবারও গোলের সুযোগ হারিয়ে মাথায় হাত দিতে হয় নেইমারকে। জরদি আলাবার পাস থেকে মাত্র ছয় গজ দূর থেকে নেওয়া নেইমারের শটটি লাগে গোলপোস্টে।

খেলার ধারার বিপরীতেই এগিয়ে যায় সেলতা ভিগো। ৫৪তম মিনিটে নোলিতোর চমৎকার ব্যাকহিলে বল পেয়ে বার্সেলোনার গোলরক্ষক ক্লাওদিও ব্রাভোকে পরাস্ত করেন হোয়াকিম লারিভেই। ক্যাম্প নউতে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।

বিশ্বের সব তারকাকে আক্রমণভাগে জড়ো করলে কি হবে, বার্সেলোনার রক্ষণে দুর্বলতা যে রয়ে গেছে তা এ ম্যাচে প্রমাণ হলো আরেকবার।

পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা আক্রমণ চালিয়েই যায়। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে আবারও গোলরক্ষক গোলবঞ্চিত করেন মেসিকে। সেলতা ভিগোর রক্ষণে ঢুকে শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা তারকা; পা দিয়ে তা কোনোমতে ঠেকান আলভারেস।

আক্রমণের ধার বাড়াতে মেসি-নেইমার-সুয়ারেসকে মাঠে রেখেই বদলি হিসেবে পেদ্রো আর চাভিকে নামান কোচ লুইস এনরিকে।

৭০তম মিনিটে সুয়ারেসকে সুযোগও তৈরি করে দেন পেদ্রো। কিন্তু ক্যাম্প নউতে অভিষেকের দিনেই গোল পাওয়ার সহজতম সুযোগটি নষ্ট করেন উরুগুয়ে তারকা; খুব কাছ থেকেও হেড করেন ঠিক গোলরক্ষকের দিকে।

বেশিরভাগ সময় রক্ষণ সামলাতে থাকা সেলতা ভিগো গোলের আরেকটি সহজ সুযোগ পেয়েছিল। ৭৮তম মিনিটে নোলিতোর ভলি বার্সেলোনা গোলরক্ষক ব্রাভো ফেরালে বল আসে স্ট্রাইকার চার্লসের কাছে। কিন্তু ফাঁকা জাল পেয়েও হেডটি তিনি করলেন বাইরে।

দুই মিনিট পরেই চতুর্থবারের মতো বার্সেলোনার আক্রমণ ফেরায় গোলপোস্ট। এবার ফ্রি-কিক নিয়ে হতাশায় পোড়েন মেসি।

ম্যাচের শেষ দিকে গোলের আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন সুয়ারেসও। তবে তার নিচু শট অসাধারণ ভঙ্গিমায় আঙ্গুল ছুঁইয়ে দলকে রক্ষা করেন আলভারেস।

আগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারা বার্সেলোনা ১০ খেলায় ২২ পয়েন্ট নিয়ে এখন আছে তৃতীয় স্থানে।

শনিবারের প্রথম ম্যাচে গ্রানাদাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে রিয়াল। এক পয়েন্ট কম নিয়ে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনেই আছে আগের ম্যাচে করদোবাকে ৪-২ গোলে হারানো আতলেতিকো।

You Might Also Like