বিভিন্ন কোম্পানির মুনাফা বাড়ায় বাজারে ঊর্ধ্বগতি

চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অধিকাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয় আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে, যা শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণার কারণেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ফলে আগের সংশোধনের প্রবণতা কাটিয়ে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে শেয়ারবাজারে। গতকাল লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সব ধরনের সূচক বাড়ে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় কেনাবেচার পরিমাণও।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গতকাল ব্যাংক, বীমাসহ ডিসেম্বরে হিসাব বছর শেষ হওয়া বিভিন্ন কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ পায়।  দেখা যায়, বেশির ভাগ কোম্পানিরই আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা বেড়েছে। এ কারণে গতকাল বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়, যা লেনদেনে প্রভাব ফেলে। এদিন ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৩টির দরই বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশে বীমা খাতেরও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তবে গতকাল সবচেয়ে বেশি দর বাড়ে সিমেন্ট ও সেবা খাতের শেয়ারের। এ দুটি খাতের বাজার মূলধন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বাড়ে। এছাড়া সিরামিক ও বিবিধ খাতের বাজার মূলধন ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বাড়ে। এর বাইরে জ্বালানি ও প্রকৌশল খাতের বাজার মূলধনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।

ডিএসইতে গতকাল কেনাবেচা হওয়া ৬৮ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের ৬৩.৮০ পয়েন্ট  কমে  ৫১৭৩.২৩ পয়েন্ট ও ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৩০.১৫ পয়েন্ট  কমে  ১৯৪৯.৪৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কেনাবেচা হওয়া ৬৩ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সার্বিক মূল্যসূচক ২১১ পয়েন্ট বাড়ে। এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ১১৫ পয়েন্ট বাড়ে।

এদিকে অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে গতকাল উভয় শেয়ারবাজারে কেনাবেচার পরিমাণ বেড়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৮৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা বেশি। সিএসইতে কেনাবেচা হয় ৫৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, যা আগের দিনের চেয়ে ১১ কোটি টাকা বেশি।

ডিএসইতে লেনদেনকৃত ৩১১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বাড়ে ২১৩টির, কমে ৭৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। সিএসইতে লেনদেনকৃত ২৩৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বাড়ে ১৪৮টির, কমে ৬২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টি কোম্পানির শেয়ারের।

ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো— তিতাস গ্যাস, সামিট পূর্বাঞ্চল, কেপিসিএল, এবি ব্যাংক, কেপিপিএল, গ্রামীণফোন, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বেক্সিমকো লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস ও এমজেএল বিডি।

জেড ক্যাটাগরি ছাড়া দরবৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো— সাইফ পাওয়ারটেক, পাওয়ার গ্রিড, এবি ব্যাংক, সুহূদ টেক্সটাইল, নিটল ইন্স্যুরেন্স, মিথুন নিটিং, সিনোবাংলা, শাহজিবাজার পাওয়ার, নাভানা সিএনজি ও কেয়া কসমেটিকস।

অন্যদিকে বেশি দাম কমা ১০টি কোম্পানি হলো— সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, এপেক্স ট্যানারি, পপুলার লাইফ, ৭ম আইসিবি, ৮ম আইসিবি, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, বিডি ফিন্যান্স, বিআইএফসি ও সিভিওপিআরএল।

You Might Also Like