ফালু ও মোস্তফাকে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালুকে এক কোটি এবং গোলাম মোস্তফা নামে অপর এক বিনিয়োগকারীকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)৫৩০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, কারসাজির মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনকারীদের বিরুদ্ধে ইব্রাহীম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত ‘পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটি’র প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে কমিশন এই অভিযোগের বিষয়ে দুইবার সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত কাজ পরিচালনা করে। কমিশনের পরিচালিত তদন্তে সংগৃহীত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয়, অমনিবাস হিসাব সমূহের মাধ্যমে মোসাদ্দেক আলী আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড ও বেক্সিমকো লিমিটেড এবং গোলাম মোস্তফা ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নাভানা সিএনজি লিমিটেড, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং ফাস্ট লিজ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের শেয়ার অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে। যা শেয়ার মূল্যকে প্রভাবিত করে। এছাড়া তারা তাদের অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে একটিভ ট্রেডে মিথ্যা ও ভ্রান্ত চিত্র তৈরি করে শেয়ারের মূল্যকে প্রভাবিত করেছে। পরবর্তীতে তাদেরকে শুনানির সুযোগ প্রদান করা হয়। তারা শুনানিতে তাদের পক্ষে ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে আনা শেয়ার ম্যানিপুলেশনের অভিযোগটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর সেকশন ১৭ এর লঙ্ঘন। এ কারণে মোসাদ্দেক আলীকে ১ কোটি এবং গোলাম মোস্তফাকে ৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছে কমিশন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ ও ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের মুখে সরকার ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ।

You Might Also Like