ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের কাজে অসন্তুষ্ট কমিটি

চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ পরিদর্শনের পর কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ১০টি প্যাকেজের আওতায় চলা কাজের ৫ পয়েন্টে কোনো কাজই হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংষদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সরজমিনে পরিদর্শনের পর তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে কুমিরা বাইপাস, পঞ্চশিলা বাজার থেকে কুমিরা বাইপাস প্যাকেজের ফুলতলা ও বারআউলিয়াসহ অন্যান্য অংশের রাস্তা, বাতিশা থেকে মহিপাল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার, কুমিল্লা বাইপাস থেকে কুমিরা বাইপাস অংশের ২১ কিলোমিটার, কুটুম্বপুর থেকে কুমিল্লা বাইপাসের ময়নামতি ও নিমসার বাজার অংশে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে ১০টি প্যাকেজের আওতায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। এ প্রকল্পের আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাকি কাজের বাস্তবায়ন আশানুরুপ নয়। এ প্রকল্পে ইতিমধ্যে দু’বার সময় বাড়ানো হয়েছে। তাতে প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে সরকার ও জনগনের ওপর আর্থিক চাপ পড়েছে।

প্রতিবেদনে কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। আর কোনো ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হলে চুক্তির র্শত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়।

এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যাকেজ ১০-এ চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে কুমিরা বাইপাস পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার অংশে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। সিটি গেইট সংলগ্ন একটি ব্রিজের কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তবে এ অংশের ডিজাইনের কাজ পুরোদমে চলছে।

প্যাকেজ ৯-এ পঞ্চশিলা বাজার থেকে কুমিরা বাইপাস পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার অংশে মাটির কাজ অধিকাংশ স্থানে সম্পন্ন হয়েছে। ফুলতলা ও বারআউলিয়াসহ অন্যান্য অংশে রাস্তার কাজ চালু নেই।

প্যাকেজ-৮ মীরশরাই বাজার থেকে পঞ্চশিলা বাজার পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার অংশে মাটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিজ ও কালভার্টের কাজও সমাপ্ত। রাস্তার কাজ কোথাও কোথাও হয়েছে।

প্যাকেজ-৭ ধুমঘাট থেকে মীরসরাই বাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার অংশে মাটির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে রাস্তার নির্মাণ কাজের গতি মন্থর। কাজের গতি না বাড়ালে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করা যাবে না।

প্যাকেজ-৬ মহীপাল থেকে ধুমঘাট সেতুর শুরু পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার অংশে মাটির কাজ মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। মুহুরী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণাধীন রয়েছে। যার প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্যাকেজ-৫ বাতিশা থেকে মহিপাল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার অংশে কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। মাটি ও কালভার্টের কাজ প্রায় সম্পন্ন। কিন্ত উল্লেখিত কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হওয়ায় পুরনো কাজ বলে মনে হয়েছে তদন্ত কমিটির। বর্তমানে কোথাও কোনো কাজ চলছে এমন অবস্থা দেখেননি তারা। কাজের গতি সন্তোষজনক নয়।

প্যাকেজ-৪ কুমিল্লা বাইপাসের শেষাংশ থেকে বাতিশা পর্যন্ত ২০ কিলোমটারের এ অংশে মাটি ও কালভার্টের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। কাজের গতি মোটামুটি সন্তোষজনক।

প্যাকেজ-৩ কুমিল্লা বাইপাসের শুরু থেকে কুমিল্লা বাইপাসের শেষ পর্যন্ত ২১ কিলোমটিার অংশে মাটির কাজ প্রায় সম্পন্ন। তবে রাস্তার কাজে তেমন কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

প্যাকেজ-২ কুটুম্বপুর থেকে কুমিল্লা বাইপাসের শুরু পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার অংশে মাটি, কালভার্ট সেতুর কাজ প্রায় সম্পন্ন। এ প্যাকেজের ময়নামতি ও নিমসার বাজার অংশে কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি।

প্যাকেজ -১ দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে কুটুম্বপুর পর্যন্ত ২২ কিরোমিটার পর্যন্ত মাটি, কালভার্ট এবং সেতুর কাজ সন্তোষজনক ও সমাপ্ত।

You Might Also Like