সবাইকে চমকে দিলেন স্বস্তিকা

প্রথম হিন্দি ছবি ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’তেই স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় চমকে দিয়েছেন এক সাহসী দৃশ্যের রূপায়ণে৷ নায়ক সুশান্ত কিছু বোঝার আগেই গভীর চুম্বনে তাঁকে আবদ্ধ করে৷ ঠিক যেমনটি চেয়েছিলেন পরিচালক দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই দৃশ্যের রোমহর্ষক খবর দিলেন সৌম্যদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

আবারও ঠোঁটে ঠোঁট! একেবারে প্রথম হিন্দি ছবিতেই৷ আর তার মধ্যমণি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়৷ দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’তে যে স্বস্তিকাই নায়িকা, সে খবর বহুদিন আগেই পড়েছেন আপনারা ‘অন্য সময়’-এর পাতায়৷ এবার আরও একবার প্রমাণ পাওয়া গেল, ছবিতে তাঁর উপস্থিতির গুরুত্বের৷ সঞ্জয় লীলা বনশালীর ‘গোলিয়োঁ কা রাসলীলা- রামলীলা’য় রনবীর সিং আর দীপিকা পাড়ুকোনের একটি ‘লিপ-লক’ সিন ছিল৷

রণবীরের দাবি ছিল, সেই দৃশ্যটাই অদ্যবধি বলিউডে সবচেয়ে লম্বা চুম্বন দৃশ্য৷ কিন্ত্ত ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’র ইউনিট ঘনিষ্ঠদের কাছে যা খবর, তাতে মনে হচ্ছে, রণবীর-দীপিকাকে বিরাট চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন স্বস্তিকা-সুশান্ত জুটি৷ আর সেই দৃশ্যের প্ল্যানিং কী ভাবে হয়েছিল, সে গল্পও রীতিমতো রোমহর্ষক৷

এমন একটা দৃশ্য যে ক্যামেরায় উঠতে চলেছে এ সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি সুশান্তকে৷ তাহলে পরিচালক দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায় কেমন করে শটটা বোঝালেন সুশান্তকে? দিবাকর নাকি খানিকটা আলগা চালে ভাসিয়ে দিয়ে সুশান্তকে বলেছিলেন যে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যটায় হয়তো তাঁর ঠোঁট ছোঁয়া হতে পারে৷ অন্যদিকে, স্বস্তিকাকে এক্কেবারে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কোন সময়ে, কেমন ভাবে ‘স্মুচ’ করার দৃশ্যটা টেক করা হবে৷ স্বাভাবিক প্রশ্ন, কেন এমনটা করা হল? দিবাকরের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, দিবাকর চাইছিলেন দৃশ্যটা এমনভাবেই হোক, যেন সুশান্তের মধ্যে একটা চমকে ওঠার প্রতিক্রিয়া থাকে৷ আগে থেকে ঘন চুম্বন দৃশ্যের ব্রিফিংটা পেয়ে গেলে সুশান্তের মধ্যে আর অবাক হওয়ার অভিব্যক্তিটা সহজে ফুটে উঠবে না, এমনই ভেবেছিলেন দিবাকর৷ সে জন্যই দৃশ্যটা সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি তাঁকে৷ আর রিহার্সালের তো প্রশ্নই নেই৷ কিন্তু যেহেতু দৃশ্যটায় স্বস্তিকা ‘অ্যাক্টিভ’, তাই তাঁকে আলাদা করে ডেকে সবটা ভালো করে বুঝিয়ে দেন দিবাকর৷

দিবাকর নিজে কী বলছেন? ‘আসলে ওই দৃশ্যটা সাধারণ কোনও চুম্বনদৃশ্য নয়৷ হিন্দি ছবির আর পাঁচটা চুম্বন দৃশ্যের সঙ্গে এর একটা বিরাট পার্থক্য আছে৷ এই দৃশ্যের মধ্যে খুন, প্রতারণা, তীব্র আবেগ সব মিলিয়ে একটা মারাত্মক ইনোশনের প্রকাশ দরকার ছিল৷ আমি চাইছিলাম আরও কিছু যুক্ত করতে৷ দৃশ্যটাকে আরও খানিক শক্তিশালী করতে৷ সে জন্যই এই চুম্বন৷ এমন একটা সারপ্রাইজ, যা এমনকি দু’জন অভিনতোর মধ্যে একজনকেও একেবারে চমকে দেবে৷’ তাহলে কেমন করে করা হল ব্যাপারটা? পরিচালকের উত্তর, ‘চুম্বন বাদ দিয়ে সিনটা এমনিতে যা ছিল তা আমরা বার কয়েক মহড়া দিয়ে নিয়েছিলাম৷ তারপর দেখতে দেখতে ছ’টা, আটটা টেক দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল৷ কিন্তু কিছুতেই যেন দৃশ্যটার মধ্যে সেই চমকটা আসছিল না, যেটার জন্য আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম৷ তারপর অন্যরকম ভাবে ভাবলাম৷’

তার কারণও ছিল৷ দৃশ্যটা যেদিন টেক করা হয়, সেদিনই ছিল দিবাকরের ইউনিটে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের প্রথম দিনের শ্যুটিং৷ ‘একেবারে কমফর্ট জোনের বাইরে৷ ইউনিটে কাওকে চিনি না৷ তার ওপর আমার প্রথম হিন্দি ছবি, যশ রাজের মতো বড় প্রোডাকশন হাউজ, তারপর দিবাকরের মতো পারফেকশনিস্ট পরিচালক৷ আবার ভাষাটাও সম্পূর্ণ আয়ত্তে আসেনি৷ হিন্দির তো অদ্ভুত একটা ব্যাকরণ! একটা অপরিসীম চাপ ছিল,’ বলছেন স্বস্তিকা৷ তার মানে কি এটাই তাঁর জীবনে সবচেয়ে কঠিন দৃশ্য ছিল? ‘দৃশ্য কী বলছেন, ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’ ছবির গোটাটাই আমার জীবনে সবচেয়ে কঠিন কাজ,’ বলছেন ছবির অঙ্গুরী দেবী৷ ‘তার আগে সুশান্তের সঙ্গে ভালো করে পরিচয়টুকুও হয়নি৷ ওকে কেবল টেলিভিশনে দেখেছি৷ আমার মা দেখতেন ওর ধারাবাহিকটা- ‘পবিত্র রিস্তা’- সেখানেই৷ আর ভেবেছি এই ছেলেটা টেলিভিশনে নিজেকে আটকে রেখে নষ্ট করছে কেন? কিন্তু সেদিন নেহাত ‘হাই, হ্যালো’টুকুও হয়নি৷ তার মধ্যে ওই রকম দৃশ্য,’ বলছেন স্বস্তিকা৷ ‘তবে ওটা ঘটনা যে প্রথম ছবিতেই দিবাকরের মতো একজন বাঙালি পরিচালক থাকায় আমার বিরাট সুবিধে হয়েছিল,’ নায়িকার বক্তব্য৷

কী রকম? দিবাকর বলছেন, ‘স্বস্তিকাকে আলাদা করে ডাকলাম৷ ‘স্মুচ’-এর কথা বললাম৷ আর বললাম, ও (সুশান্ত) কোনও কিছু বোঝার আগেই ‘স্মুচ’ করবে৷ তাহলে চমকটা আসবে৷ কিছু না জেনে এমন একটা ব্যাপারের মধ্যে পড়ে গেলে ওর এক্সপ্রেশনটা অনেক রিয়েল হবে৷ আসলে আমি জানি সুশান্ত এমন একজন অভিনেতা যে কীনা শট দেওয়ার আগে থেকে বেশ একটা প্রস্ত্ততি নিয়ে রাখে৷ শটের ভিতরে সারপ্রাইজ ও একেবারেই পছন্দ করে না৷ কিন্তু সেটাই আমি চাইছিলাম৷ চুম্বন বাদ দিয়ে সিনটা যেভাবে রিহার্স করা হয়েছিল সে ভাবেই টেক করা চলতে লাগলো৷ তারপর স্বস্তিকা হঠাত্‍ করেই ঝাঁপিয়ে স্মুচ করলো৷ ওকে সরে যাওয়ার কোনও সুযোগই দিল না৷ সেটের সকলে অবাক হয়ে গেলেন৷ সুশান্ত তো হতবাক! তারপর সকলে স্বাভাবিক হল৷ কিন্তু এই গভীর চুম্বনই দৃশ্যটাকে পুরো আলাদা একটা মাত্রা দিয়ে দিল৷ অর্থাত্‍ দৃশ্যটায় যে অবিশ্বাস, টেনসন, সন্দেহের বাতাবরণের প্রয়োজন ছিল, সেটা ঠিকঠাক মাত্রায় যুক্ত হল৷’

স্বস্তিকার মনে আছে সেদিন কী ঘটেছিল? ‘খুব পরিষ্কার করে মনে নেই৷ আসলে কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম৷ কতগুলো টেক হয়েছিল, তাও মনে নেই৷ আসলে দিবাকর এমন একজন পরিচালক যে ব্রিফ করার পরেও অভিনেতার ওপর দৃশ্যের অনেকটাই ছেড়ে দেয়৷ তাই কোনও টেক-এ হয়তো চুমু খেয়েছি, কোনওটায় খাইনি৷ কোনওটায় কেঁদেছি, কোনওটায় কেবল চোখে জল, কোনওটায় চোখ দিয়ে জলও পড়েনি৷ ওভাবে বলেও দেয়নি দিবাকর যে চুমু খেতেই হবে৷ পুরোটই আমার ওপর ছেড়ে দিয়েছিল, এটুকু মনে আছে৷ আমি দৃশ্যের ডিমান্ডটা পূরণ করতে চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো,’ বলছেন স্বস্তিকা৷

হতে পারে সুশান্তকে না জানিয়ে, তার অবাক হওয়ার দৃশ্যটায় অনেকখানি প্রাণ সঞ্চার করা গেল৷ টেনশন, সাসপেন্স তৈরি করা গেল৷ পরিচালক খুশি হলেন৷ কিন্তু সুশান্ত-এর কেমন লাগলো এমন এক সারপ্রাইজ? বলা নেই, কওয়া নেই হঠাত্‍ করে অভিনেত্রীর থেকে এমন এক আকস্মিক চুম্বন পেয়ে? জানা যাচ্ছে, সুশান্ত প্রাথমিকভাবে ব্যাপারটায় মোটেই তেমন খুশি হননি৷ ব্যাপারটার পর ধাতস্থ হতেও তাঁর খানিক সময়ে লেগেছে৷ এমন একটা ঝটকা! দীর্ঘ এক স্মুচ, যা দৈর্ঘ্যে পিছনে ফেলে দেবে ‘রাজা হিন্দুস্থানি’-তে আমির খান আর করিশমা কাপুরের স্মুচকেও৷ ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’র এই চুম্বন যে বলিউডের একটি ঐতিহাসিক দৃশ্য হতে চলেছে, সে ব্যাপারে একমত হয়েছেন ইউনিটের অনেকেই৷ আর সবচেয়ে বড় পাওনা, সেই দৃশ্যের রাশ ছিল এক বাঙালি অভিনেত্রীর হাতে, যাঁর প্রথম হিন্দি ছবিতেই তিনি প্রমাণ করেছেন, আবারও, যে দৃশ্যে সাফল্য আনতে তিনি নিজেকে কতটা ভাভতে পারেন৷।

You Might Also Like