সোনালী ব্যাংকের অর্ধশতাধিক চেক খোয়া গেছে

অর্ধশতাধিক চেক খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে সোনালী ব্যাংকের ঢাকার লালমাটিয়া শাখা থেকে। এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত সর্ববৃহৎ এই বাণিজ্যিক ব্যাংকটিতে ঋণ কেলেঙ্কারি, সুড়ঙ্গ কেটে টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। লালমাটিয়া শাখা এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।  রবিবার  দুপুরে ব্যাংকের ক্লিয়ারিং সেকশনের ড্রয়ার থেকে চেকগুলো চুরি হয়ে যায় বলে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক পুলিশকে জানিয়েছেন।

ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব চেক অন্য ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকেরই অন্য শাখা থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য জমা দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এসব চেকের অর্থের পরিমাণ কোটি টাকা হবে। অবশ্য শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম খান দাবি করেছেন, চেকগুলোতে সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা হবে। তবে শাখার কাছে এ বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই বলে জানান তিনি।

সোনালী ব্যাংকের রমনা অঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, ৫০ থেকে ৫৫টি চেক হারানো গেছে। এর মধ্যে ৪০টি চেকের ইরফরমেশন আছে। বাকিগুলো লেজারে তোলার আগেই চুরি গেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হারানো চেকগুলোর মধ্যে কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতনের চেক রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বেতন হয় ওই শাখার একাউন্টে। ২৬ অক্টোবর সরকারি অফিস থেকে বেতনের চেক এসেছে। কিন্তু তা হারিয়ে যাওয়ায় ডুপ্লিকেট না পাওয়া পর্যন্ত ওইসব প্রতিষ্ঠানের বেতন জমা হচ্ছে না। এছাড়া পাটকল কর্পোরেশনের টেন্ডারে অংশ নেওয়া ঠিকাদারদের পে-অর্ডারও ছিল বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান।

এদিকে এরই মধ্যে হারানো ওই চেক ভাঙ্গিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। রবিবারই রাজধানীর গুলশানে স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে হারিয়ে যাওয়া একটি চেক জমা দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা হয় বলে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে চেক প্রদানকারীকে ফোন করলে পালিয়ে যায় চেক জমা দেয়া ওই ব্যক্তি। পরে জানা যায়, ওই চেকটি লালমাটিয়া শাখা থেকে চুরি যাওয়া।
উপ মহাব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান বলেন, যেসব চেকের তথ্য আছে সেগুলোর পেমেন্ট স্টপ করার জন্য আমরা গ্রাহকদের বলেছি। গ্রাহকরা যার যার ব্যাংকে বলে পেমেন্ট স্টপ করেছে। আর যেগুলো লেজারে নেই সেগুলোর তথ্য বের করে পেমেন্ট স্টপ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করছি, কোনও গ্রাহক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

You Might Also Like