নিজামীর রায় আগামীকাল

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর রায়ের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল নিজামীর রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে একাত্তর সালে পাবনার বিভিন্ন জায়গায় হত্য, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ মোট ১৬টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়রে উপর এবং ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধ কখনও তার নির্দেশে আবার কখনও তার আদেশে সংগঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত জামায়াতের এ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে গত ২৪ মার্চ বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় এবং রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গত বছরের ১৩ নভেম্বর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মতিউর রহমান নিজামীর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন।

ওই দিন সকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আসাদ উদ্দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় প্রার্থনা করলে তা নাকচ করে রায়ের তারিখ আদালত অপেক্ষমান রাখেন। পরবর্তীতে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল নিজামীর পক্ষে নতুন করে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেন।

এরপর ট্রাইব্যুনাল-১ এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হলে পুনরায় মামলার যুক্তিতর্ক শোনার জন্য দিন ধার্য করা হয়।

এর আগে গত ১০ থেকে ১২ মার্চ নিজামীর বিরুদ্ধে ৩ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক  উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও মোহাম্মদ আলী। তবে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে পাল্টা যুক্তিতর্ক ও সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউশন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় নিজামীর বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া। এরপর আইন অনুসারে রায়ের জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসঙ্গত, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় গত ৩০ জানুয়ারি ঘোষিত রায়ে মতিউর রহমান নিজামীসহ ১৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেসব রায় দেন- জামায়াতের সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ এবং অগ্নিসংযোগের ৮টি অভিযোগের ৪টিতে মৃত্যুদণ্ড, ৩টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই তিনি পলাতক। তার অনুপস্থিতিতেই এ রায় দেয়া হয়।

জামায়াতের আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছর নিরবচ্ছিন্ন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামারুজ্জামানেরও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর  মৃত্যুদণ্ড, আরেক নেতা আব্দুল আলীমের আমৃত্যু কারাদণ্ড।

নিউইয়র্কে অবস্থানরত জামায়াতে নেতা আশরাফুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আরেক নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীনেরও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণের ৬টি অভিযোগ ৩টিতে ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ২টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১টিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত তার রায়ই কার্যকর করা হয়েছে।

You Might Also Like