‘গাড়ি রেখ না মামা, হরতাল’

গাড়ি রেখ না মামা, হরতাল। হরতালের সকালে গাড়িতে থাকা  যাত্রীদের আতঙ্কিত কণ্ঠে এমন উক্তিই শুনতে হচ্ছে বাস চালকদের। রোববার হরতালে গুলিস্তান থেকে ধানমন্ডির উদ্দেশে ছেড়ে আসা সিটি বাসের যাত্রী রফিকুল চালককে লক্ষ্য করে এমনই উক্তি করলেন।

রাস্তায় গাড়ি থামালে (রাখলে) হরতালকারীদের হামলা, পিকেটিং, ককটেল কিংবা বোমা বিস্ফোরণের সেই পুরোনো আতঙ্ক এখনো তাড়া করে তার মনে। শুধু তিনি নন, তার মতো অফিসগামী সকলেরই মনে আতঙ্ক।

রোববার রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, সম্মিলিত ইসলামি দলগুলোর ডাকা হরতালে সকাল থেকেই রাজধানীতে স্বাভাবিকের চেয়ে গণপরিবহন কম। ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি একেবারেই দেখা যায়নি।

রাজধানীর পল্টন, ফকিরাপুল, মতিঝিল, পুরোনো ঢাকা, শাহবাগ, নীলক্ষেত,ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমনই চিত্র। কোথাও প্রাইভেটকার নেই। অফিসগামী অনেকেই সিএনজি কিংবা রিকসা করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। আবার কেউ পায়ে হেটে।

গণপরিবহন অর্থাৎ বাসে যাতায়াতে যাত্রীদের মনে কিছুটা আতঙ্ক আছে। কারণ হরতালে বেশিরভাগ পিকেটিং গণপরিবহনের উপরই হয়ে থাকে।

পুরানা পল্টনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কায়েসুর রহমান। প্রতিদিন তিনি পুরান ঢাকার নারিন্দা  থেকে বাসে করে অফিসে যান। কিন্তু আজ এলেন পায়ে হেটে। জিজ্ঞেস করলে ঝটপট উত্তর ভাইরে  একটু নিরাপদ থাকাটা ভালো না। কখন কী ঘটে, বলাতো যায় না।

বরিশাল থেকে তিন সদস্যের পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসেছেন শোহাইল মিয়া। যাবেন ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে। বাসে না উঠে ভাড়া নিলেন সিএনজি।

তিনি জানালেন, হরতালের চিত্র যেমনই হোক। কঠিন অথবা ঢিলেঢালা। মানুষের মনে আতঙ্ক থাকে সব হরতালেই।

You Might Also Like