হাতের চেয়ে বড় মাকড়সা!

গায়ানার একটি রেইনফরেস্ট। রাতে একাকী হেঁটে যাচ্ছেন পতঙ্গবিজ্ঞানী ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মিউজিয়াম অব কম্পারেটিভ জুওলজির ফটোগ্রাফার পিওতর নাসরেকি। পায়ের নিচে ঝরাপাতা। বুট জুতার মচমচ আওয়াজ তুলে হেঁটে যাচ্ছেন পিওতর। আচমকা পায়ের কাছে সড়সড় শব্দ হতেই চোখ নামিয়ে তাকালেন। টর্চের আলো ফেললেন শব্দের উৎসে। কী দেখলেন? পিওতর অবশ্য ভেবেছিলেন ইঁদুর-টিদুর হবে আর কি? কিংবা ছোট্ট একটা পসাম (অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায় এমন এক ছোট্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী)। কিন্তু যা দেখলেন তাতে তার গা শিউরে উঠল।হাতের চেয়ে বড় মাকড়সা!

যা দেখলেন, তার বিশ্বাসই হতে চাইল না, তিনি সত্যিই তা-ই দেখছেন। এক মুহূর্ত পরই পতঙ্গবিজ্ঞানীর অভিজ্ঞ চোখ চিনতে পারল মাকড়সাটাকে। ‘কিন্তু যখন টর্চের আলো ফেললাম, প্রথমে স্রেফ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। এত বড় মাকড়সা এর আগে আমার চোখে পড়েনি। প্রথমে তো বিশাল শরীরের এক কুকুর ছানাই ভেবে বসেছিলাম’_ মৃদু হেসে বললেন পিওতর।বিশাল শরীরের এই মাকড়সা দক্ষিণ আমেরিকায় গোলিয়াথ বার্ডইটার নামে পরিচিত। সোনালি লোমে ঢাকা শরীর, তাই স্বর্ণকেশীও বলা হয় ঠাট্টা করে। ছোট ছোট পাখিই প্রিয় খাবার, যেখানে তার স্বজাতি অন্য অনেক মাকড়সা পাখিদেরই প্রিয় খাবার হিসেবে লোভনীয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাকড়সা হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজেদের নাম তোলা প্রাণীটি পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের হাতের তালুর সমান শরীর আর প্রায় এক ফুট এর পায়ের দৈর্ঘ্য। আর ওজন? সায়েন্স লাইফ পত্রিকার সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে পিওতর বললেন, ‘১৭০ গ্রামের কম তো অবশ্যই হবে না।’ আর নিজের ব্লগে এর আকার সম্পর্কে লিখতে গিয়ে একটা বড় কুকুরের বাচ্চার সমান বলে বর্ণনা করেছেন এই পোলিশ পতঙ্গবিদ।কেউ কেউ অবশ্য গোলিয়াথ বার্ডইটারের চেয়ে শিকারি এই মাকড়সার চেয়ে বড় বলেছেন। তবে নাসরেকির বক্তব্য হলো, ‘দুটোর মধ্যে আপনি যদি পার্থক্য খুঁজতে যান তাহলে হাতি আর জিরাফের কথা ভাবুন।’বার্ডইটারের বিশালতা বোঝা যায় এর শব্দ তৈরির প্রচণ্ডতা থেকে। এর পাগুলো শক্ত এবং এর থাবা থেকে স্পষ্ট শব্দ উৎসারিত হয়। সে শব্দ অনেকটা ঘোড়ার খুরের শব্দের মতো, শক্ত জমিনে যা খটখট আওয়াজ তোলে। এর গায়ের লোম কাঁটার মতো ধারাল।

তবে প্রথম দৃষ্টিতে সোনালি লোমাবৃত প্রাণীটি অত্যন্ত মনোরম। রেইনফরেস্টে এ ধরনের মনোরম প্রাণী কমই দেখেছেন নাসরেকি। আপনি এর গায়ে হাত বুলালে প্রথম প্রথম কিছুই টের পাবেন না। কিন্তু এর পরই টের পাবেন ধীরে ধীরে দৃঢ় হয়ে উঠছে সোনালি লোমগুলো। তার মানে এর মস্তিষ্ক মেসেজ পাঠাতে শুরু করেছে। যখন এই লোমগুলো পুরো মেসেজ পেয়ে যাবে, তখন এর গায়ে হাত বুলানোটা আপনার জন্য কষ্টকর ও বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়াবে। মেইল অনলাইন।

You Might Also Like