এ টেস্ট সিরিজ জিতলেই ৯ নম্বরে বাংলাদেশ

একটু ঠাট্টা করে হলেও এই সিরিজটা অনেকে ‘ছোটদের অ্যাশেজ’ বলছেন। তা জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশের অনেক দিনের লড়াইয়ের যে ইতিহাস এবং কার্যত মানসম্মানের ব্যাপারে পরিণত হওয়ার বিষয়টা মাথায় নিলে এ কথা বলায় খুব একটা অন্যায় হয় না।

তবে এই কাগুজে কথাবার্তার বাইরেও এই সিরিজটা বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের জন্য দারুন গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজটা জয় পরাজয়ের ওপর দু দলেরই নয় নম্বরে ওঠা বা টিকে থাকা নির্ভর করছে। আর নয় নম্বরে না থাকলে যেহেতু ইন্টার কন্টিনেন্টাল চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে আবার ম্যাচ খেলে নিজেদের প্রমাণের ব্যাপার আছে, তাই সিরিজটাকে দু দলের অস্তিত্বের লড়াই বললেও একেবারে খারাপ হয় না।

আগামী ২৫ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশ আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে আছে ১০ নম্বরে এবং জিম্বাবুয়ে ৯ নম্বরে। জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট ৩৯, বাংলাদেশের ১৯। এখন আইসিসির র‍্যাংকিং হিসাব বলছে, বাংলাদেশের সামনে এই পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে নয় নম্বরে চলে যাওয়ার একটা অসাধারণ সুযোগ বলা যায়। সোজা কথায়, সিরিজ জিতলেই বাংলাদেশ নয় নম্বরে চলে যাবে।

যদি বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জেতে, তাহলে দু দলের ব্যবধান হবে দেখার মতো। জিম্বাবুয়ে ৩৯ থেকে এক ধাক্কায় নেমে আসবে ১৭ পয়েন্টে; বাংলাদেশের পয়েন্ট হয়ে যাবে ৩২। বাংলাদেশ যদি ২-০, ২-১ বা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ২৮, জিম্বাবুয়ের ২৫। তবে যদি সিরিজ কোনোভাবে ড্র হয়ে যায় তাহলে জিম্বাবুয়ে কিছু পয়েন্ট খোয়ালেও র‍্যাংকিংয়ে দু দেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। আর হারলে কী হবে, সেটা নিশ্চয়ই বলার দরকার নেই!

ফলে হার বা ড্র নয়, বাংলাদেশের একমাত্র লক্ষ সিরিজটা জিতে নিজেদের এক ধাপ এগিয়ে রাখা। সে লক্ষ্যে ক্রিকেটাররা তো নিজেদের প্রস্তুত করছেই, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও কোনো ফাঁক ফোকর রাখতে চাচ্ছে না। যেহেতু হোম সিরিজে এর আগে বাংলাদেশ আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে, তাই আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ডিআরএস রাখা হচ্ছে এই সিরিজে। বোর্ডের এই সিরিয়াস হয়ে ওঠার কারণ হল, বাংলাদেশ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নয় নম্বরে না থাকতে পারলে বোর্ডকে আর্থিকভাবে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

You Might Also Like