শনিবার ছাত্রদল সমস্যার সমাধান দেবেন খালেদা

নীলফামারীর জনসভা থেকে ঢাকা ফেরার পর ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সেখান থেকে ফেরার পর ২৫ অক্টোবর (শনিবার) তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে বসবেন দলটির ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকালে নিজ বাসায় বৈঠকের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাদের এ কথা জানান।

বৈঠক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার পদবঞ্চিত নেতারা যেসব অভিযোগ করেছেন খালেদার কাছে মির্জা আব্বাস তা তুলে ধরবেন। এসব বিষয় শোনার সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে সিদ্ধান্ত দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপর ২৬ অক্টোবর (রোববার) ফের পদবঞ্চিতদের সঙ্গে বসবেন মির্জা আব্বাস।

বৈঠকের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বৈঠকে মির্জা আব্বাসকে পদবঞ্চিতরা অভিযোগ করেন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তাদের পছন্দের এবং আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহসান ও মো. আকরাম‍ুল হাসানকে সভাপতি-সম্প‍াদক করা হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে সিনিয়র নেতাদের ডিঙ্গিয়ে জুনিয়রদের এভাবে উচ্চ পদে আসীন করায় এ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে বলেও মির্জা আব্বাসকে অভিযোগ করেন তারা।

পদবঞ্চিতরা বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম‍ুল হাসানকে দল থেকে তিনবার বহিষ্কার করেছিলেন তৎকালীন ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এরপরও তাকে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও জানায়, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি যে আন্দোলন করেছিল সেখানেও দায়িত্বশীল ভূমিকা ছিল না রাজিব-আকরামের। এমনকি ওই সময় আন্দোলনের নামে তারা দুজনই ৪০লাখ টাকা ভাগিয়ে নিয়েছেন দল থেকে। কিন্তু আন্দোলনের কোনো পর্যায়েই ছিলেন না তারা।

পদবঞ্চিতরা অভিযোগ করেন, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু খালেদা জিয়াকে অন্ধকারে রেখেই তাদের পছন্দের ও অনুসারীদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করিয়েছেন।

এমনকি সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও বিএনপির সহ ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম আলীমের জন্য জুয়েল-হাবিব নেতৃতাধীন কমিটিও ভালোভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাত্রদলে কোন্দল ও অসন্তুষ্টির জন্য এ্যানী, টুকু, আলীম এবং খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসকে দায়ী করেন পদবঞ্চিতরা। দলে বিশৃঙ্খলা ঘৃণ্য কোন্দল সৃষ্টি করায় টুকু, এ্যানী এবং আলীমের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তারা মির্জা আব্বাসের কাছে অভিযোগ করেন, আন্দোলন সংগ্রামে জড়িত এবং প্রকৃত রাজনীতি করছে এমন নেতা-কর্মীদের দূরে রেখে নিজেদের পছন্দের লোকদের পদে বসানো হয়েছে।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ শোনার পর মির্জা আব্বাস বলেন, আমাকে কেউ দায়িত্ব দেইনি। নিজ উদ্যোগে তোমাদের কথা চিন্তা করে কথা বলছি। যদি তোমরা বিএনপিকে ভালোবাসো, জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসো, খালেদা জিয়াকে ভালোবাসো, তারেক রহমানকে ভালোবাসো তাহলে গণ্ডগোল করতে পারো না।

তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু আমার কাছে তুলে ধরেছো, নীলফামারী থেকে ফেরার পর আমি ম্যাডামের (খালেদা) সঙ্গে কথা বলবো। তবে দল এবং ম্যাডামের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কাজ করো, কোনো গণ্ডগোল করবে না। বিষয়টি আমি দেখছি।

১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাতে রাজিব আহসানকে সভাপতি ও মো. আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এরপর থেকেই আন্দোলনে নামে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তারা বিক্ষোভ, ভাঙচুর, কুশপুতুল দাহসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

শনিবার নয়‍াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে লাঠি মিছিল, হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজনকে পিটিয়ে আহতও করেছেন পদবঞ্চিতরা।

পদবঞ্চিতদের হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনায় বিব্রত হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও।

এ ঘটনায় গত রোববার দিনগত রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মাহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে দায়িত্ব দেন খালেদা। এরপর বৈঠকের আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলন থেকে সরে আসেন পদবঞ্চিতরা।

You Might Also Like