১৬ নারীর সঙ্গে প্রেম করে শ্রীঘরে

চার স্ত্রী, সাত প্রেমিকা, পাঁচ বান্ধবী নিয়ে এতদিন বেশ মজায় দিন কাটাচ্ছিলেন প্রেমিক পুরুষ সোনকো তিজান। কিন্তু বিধি বাম! তার এক স্ত্রী ফেসবুকে তাকে অন্য এক রমণীর সঙ্গে দেখে ফেলেন। অবেশেষে ভিয়েনা বিমানবন্দরে হাতেনাতে ধরা পড়েন ২৮ বছরের তিজান।

সোনজা মায়েরের সঙ্গে যখন তিজানের দেখা হয় তখন তিনটি বিয়ে করে ফেলেছেন। প্রেম করছেন আরো ১২ নারীর সঙ্গে। তারপরও মায়েরকে দেখার পর সব কেমন উলট পালট হয়ে গেল। দুজনার দেখা হয়েছিল ভিয়েনার এক বারে। প্রথম দেখাতেই প্রেম এবং এক মাসের মধ্যে বিয়ে। এর এক বছর পর গর্ভবতী হন সোনজা। সে সময় একদিন অলস অবসরে বসে বসে ফেসবুক ঘাটছিলেন। হঠাৎ এক নারীর ছবি দেখে চমকে গেলেন। ‘আরে, ওর স্বামী তো একদম তিজানের মত দেখতে।’ তখন তিনি মনোযোগ দিয়ে ওই নারীর প্রোফাইল চেক করলেন। দেখেন, শুধু চেহারা নয়, দুজনার নামও এক। তখনও কিন্তু তার সন্দেহ হয়নি। ভাবছিলেন, হয়ত এই লোক তিজানের যমজ ভাই। নিশ্চিত হতে ওই নারীর সঙ্গে চ্যাট করেন। এরপর তার ভুল ভাঙ্গে। বুঝতে পারেন, এটি আসলে তিজান। এতদিন ধরে তিনি প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন। তখন ওই নারীর সঙ্গে মিলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর বেরিয়ে আসতে থাকে বিচিত্র সব ঘটনা।

একজন দুজন নয়, চার চারটি বৌ, পাঁচজন প্রেমিকা আর সাত বান্ধবী রয়েছে তিজানের। সবমিলিয়ে ১৬ জন নারীর সঙ্গে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন তিনি। ফলে কেউ তাকে সন্দেহ করতে পারেনি। মজার কথা হল, তারা সবাই ভাবছিলেন, তিজান বোধহয় কেবল তাকেই ভালোবাসেন।

তিজানের সবচেয়ে কমবয়সী প্রেমিকার বয়স ২২। আর সবচেয়ে বেশি বয়সীর বয়স ৪৪। এছাড়া তার দেশ গাম্বিয়াতেও রয়েছে আারো এক স্ত্রী। সেই ঘরে তার বেশ কয়েকজন ছেলেমেয়েও আছে।

তিজান কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্ক করার পর তার কাছ থেকে টাকা ধার করতেন। কিন্তু কখনোই সেই ধার শোধ করতেন না। এভাবেই তিনি বিভিন্ন মেয়েদের কাছ থেকে হাজার হাজার ইউরো নিয়েছেন। এছাড়া ধার শোধ করার কথা বলে প্রেমিকাদের কাছ থেকে কখনো কখনো স্বর্ণালঙ্কারও নিতেন। তবে শোধ করার সময় আসার আগেই পালিয়ে যেতেন তিজান।

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তার নারী শিকারের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল। তিজানের প্রেমিকারা এখন মনে করেছেন, কেবল ১৬ জন নয়, আরো বহু নারীর সঙ্গেই তিনি প্রেমের খেলা খেলেছেন এবং তাদের প্রতারণা করেছেন।

অস্ট্রিয়ায় তার তিন নারীর ঘরে রয়েছে চারজন সন্তান। এছাড়া বর্তমানে গর্ভবতী হয়েছেন আরো দুই বান্ধবী।

ডিটেকটিভ প্যাট্রিক মায়ারহোফার বলেছেন,‘নারী পটানোর ক্ষেত্রে বরাবর তিনি একই কৌশল অবলম্বন করতেন। পছন্দের নারীটিকে বারে নিয়ে যেতেন। তারপর মজার মজার গল্প বলে তাকে প্রভাবিত করতেন। তার গল্পের বিষয়বস্তু ছিল, কী ভয়াবহভাবে তিনি আফ্রিকা থেকে পালিয়ে এসেছেন সেসব।’ এরপরই তিনি ধার চাইতেন।

ভিয়েনা পুলিশের মুখপাত্র জানান, তিনি এসব সম্পর্ক করার সময় নিজের পরিচয় গোপন করতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করতেন।

তিজানের এসব প্রতারণার খবর জানার পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ। তখন আর এক নারীকে ফাঁসানোর ধান্ধায় ছিলেন তিজান। তারই কৌশল প্রয়োগ করে তাকে আটক করা হয়। এ কাজে পুলিশকে সহায়তা করেছিল এক যুবতী। তিনি অনলাইনে তিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে অনেক টাকা ধার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। টাকা নিতে এসে পুলিশের জালে আটকা পড়েন তিজান।

You Might Also Like