বলিউডের যে পাঁচ অভিনেত্রী হিন্দিতে দুর্বল

বলিউড মানেই হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্র শিল্প। হিন্দিতেই ছবি তৈরি হয় বলে এই ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারা সব অভিনয়শিল্পীর জন্যই আবশ্যক। তবে একথাও সত্যি, বলিউডে প্রত্যেককেই দু’হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানানো হয়। এজন্যই ঠিকঠাক হিন্দিতে কথা বলতে না পেরেও বেশ কয়েকজন অভিনেত্রী বলিউডে জায়গা করে নিয়েছেন। তারা কারা? জেনে নিন এক ঝলকে।

ক্যাটরিনা কাইফ
২০০৩ সালে বি-গ্রেডের ছবি ‘বুম’ দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ক্যাটরিন‍া কাইফ এখন বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের মধ্যে শীর্ষ তিনে আছেন। ১০০ কোটি রুপির অভিজাত ক্লাবে আছে তার চারটি ছবি (এক থা টাইগার, জব তাক হ্যায় জান, ধুম থ্রি, ব্যাং ব্যাং)। হিটের সংখ্যা একডজন তো হবেই। তবে ১১ বছরেও হিন্দিটা ভালোভাবে শিখতে পারেননি লন্ডনে বেড়ে ওঠ‍া ৩১ বছর বয়সী ব্রিটিশ এই অভিনেত্রী। এ কারণে নিন্দুকেরা বলে থাকে, সামনে হয়তো শুধু বিদেশি চরিত্রগুলোই তার দুয়ারে আসবে। ক্যাটরিনার জন্ম হংকংয়ে। তার বাবা ব্রিটিশ ব্যবসায়ী হলেও জন্ম কাশ্মিরে। আর মা ইংরেজ আইনজীবী।

নার্গিস ফাখরি
রণবীর কাপুরের মতো তারকার সঙ্গে ‘রকস্টার’ (২০১১) ছবিতে স্বপ্নিল অভিষেক হয় নার্গিস ফাখরির। হিন্দিতে দুর্বল থাকার কারণে বাধ্য হয়ে অন্য একজনকে দিয়ে ডাবিং করাতে বাধ্য হন পরিচালক ইমতিয়াজ আলি। তবে এখন হিন্দিতে মোটামুটি পাকা হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেন ৩৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। গত তিন বছরে আর মাত্র দুটি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। এগুলো হলো ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’ (জন আব্র্যাহাম) ও ‘ম্যায় তেরা হিরো’ (বরুণ ধাওয়ান)। এ ছাড়া সালমান খানের সঙ্গে ‘কিক’ ছবির আইটেম গানে নেচেছেন তিনি। এক দশক আগে ‘আমেরিকাস নেক্সট টপ মডেল’ অনুষ্ঠানে দেখা গেছে এই মার্কিনিকে। তার বাবা পাকিস্তানি আর মা চেক প্রজাতন্ত্রের নাগরিক। নার্গিসের বয়স যখন ৬-৭ বছর, তখনই তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

লিসা হেডন
বাচনভঙ্গির কারণে ভারতীয়দের মধ্যে সহজেই আলাদা করা যায় লিসা হেডনকে। মাঝে মধ্যে বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে তিনি আসলে কি বলছেন! তবুও ভালো ফল পাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। ‘আইশা’ (২০১০) ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘রাসকেলস’ (২০১১) ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এ বছর ‘কুইন’ ছবির মাধ্যমে এ বছর জনপ্রিয়তা বেড়েছে তার। আগামী ৭ নভেম্বর মুক্তি পাবে লিসার নতুন ছবি ‘দ্য সৌখিনস’। আশা করা হচ্ছে, একদিন হিন্দিতে অনর্গল কথা বলতে পারবেন তিনি। জন্ম চেন্নাইয়ে আর বাবা মালায়ালি হলেও অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় বেড়ে ওঠার কারণে হিন্দিটা রপ্ত করতে পারেননি লিসা। কারণ তার মা অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। লিসার প্রকৃত নাম এলিজাবেথ ম্যারি হেডন। ২০০৭ সালে ভারতে এসে মডেলিং শুরু করেন তিনি।

ইলি আবরাম
হিন্দি কথা বলতে পারেন না কিন্তু বলিউডে আলোচিত এ তালিকায় মন্দের দিক দিয়ে সবচেয়ে ভালো উদাহরণ সম্ভবত ইলি আবরাম। সুইডিশ অভিনেত্রী মুম্বাইয়ে বসতি গড়েছেন দুই বছর হয়েছে। গত বছর ‘মিকি ভাইরাস’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় ২৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর। এর আগে হিন্দি ভাষা উচ্চারণের ক্লাস করেছেন তিনি। রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। হিন্দি কথা বলায় এরই মধ্যে অনেকটা পাকা হয়ে উঠেছেন। ফলে আগের চেয়ে কাজে সুবিধাও বেশি করতে পারছেন ইলি।

সোফি চৌধুরী
হিন্দিতে গাইতে পারেন, অথচ এখনও শুদ্ধভাবে এই ভাষা শেখা হয়নি সোফি চৌধুরীর। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ এই অভিনেত্রী এমটিভি ইন্ডিয়ার ভিজে ছিলেন। টুকটাক মডেলিং করেন। টিভি উপস্থাপক হিসেবেও দেখা গেছে তাকে। বাজারে তার গাওয়া গানের অ্যালবামও আছে। ৩২ বছর বয়সী এই তারকা সম্প্রতি নাচের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘ঝলক দিখলা জা’য় অংশ নিয়েছেন। ২০০৫ সালে ‘শাদি নাম্বার ওয়ান’ ছবির মাধ্যমে বলিউড পথচরা শুরু করেন সোফি। এরপর একে একে ‘পেয়ার কি সাইড ইফেক্টস’ ও ‘আই সি ইউ’ (২০০৫), ‘আগার’ ও ‘স্পিড’ (২০০৭), ‘আ দেখে জারা’, ‘ড্যাডি কুল’, ‘চিন্টুজি’ ও ‘আলিবাউগ’ (২০০৯), ‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন মুম্বাই দোবারা’ (২০১১) ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া ‘হে বেবি’ (২০০৭), ‘মানি হ্যায় তো হানি হ্যায়’ ও ‘কিডন্যাপ’ (২০০৯), ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াদালা’ (২০১৩) ছবিগুলোর আইটেম গানে নেচেছেন সোফি।

You Might Also Like