গুঁড়োদুধ আমদানির নামে হাজার কোটি টাকা পাচার

ফুলক্রিম গুঁড়োদুধ আমদানির নামে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে মূল্য পরিশোধের নামে অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকা পাচার করছে।

গুঁড়োদুধ আমদানির নামে হাজার কোটি টাকা পাচারের এ অভিযোগ সম্প্রতি অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। কমিশনের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে এ অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্র এ প্রতিবেদককে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদক সূত্র জানায়, ফুলক্রিম গুঁড়োদুধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে।

ফুলক্রিম গুঁড়োদুধ আমদানিকারক দুই-একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে কম মূল্য দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে। এদের মধ্যে তানভীর ফুড লিমিটেডসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠান শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার কৌশল হিসেবে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের জন্য এক থেকে দেড় হাজার ডলার রফতানিকারক দেশগুলোতে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের দেশে আমদানিকৃত দুধের প্রায় ৭০ ভাগ আসে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ড থেকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুসারে এক টন গুঁড়োদুধ আমদানি করতে ডানো ব্রান্ড ব্যয় করেছে চার হাজার ৪০০ ডলার। অথচ একই সময় তানভীর ফুড লিমিটেড ফ্রেস গুঁড়োদুধ আমদানি করতে ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৭০০ ডলার।

অস্ট্রেলিয়ার ইকোভাল ডেইরি ট্রেডের তথ্যানুসারে ২০১১ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের দাম রাখা হয়েছে তিন হাজার ৭৯০ ডলার। অথচ একই সময় তানভীর ফুড লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের দাম রাখা হয়েছে দুই হাজার ৪৮০ ডলার। এক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিকটনে আন্ডার ইনভয়েসিং হয়েছে এক হাজার ৩১০ ডলার। অর্থাৎ প্রতি ৫০ মেট্রিকটনে ৬৫ হাজার ৫০০ ডলার পাচার হচ্ছে।

এভাবে বিগত ২০০৯ ও ২০১০ সালে দেড় হাজার কোটি টাকার শুল্ক হারিয়েছে সরকার। ওই দুই বছরে বিশ্ববাজারে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের দাম ছিল তিন হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার। কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রতি টন দুই হাজার ৪০০ ডলার মূল্য দেখিয়ে হাজার হাজার টন গুঁড়োদুধ আমদানি করা হয়েছে ওই দুই বছরে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গুঁড়োদুধ আমদানিকারক বেশিরভাগ কোম্পানিই অতিমুনাফালোভী ও অসৎ। এরা কম মূল্যে নিম্নমানের (ডাউন গ্রেড) দুধ আমদানি করে থাকে। ইতোপূর্বে আবুল খায়ের গ্রুপ মেয়াদবিহীন কিছু দুধ আমদানি করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা ছাড়করণ বন্ধ করে দেয়। সূত্র : দ্য রিপোর্ট।

You Might Also Like