বিশেষ ট্রানজিট সুবিধার আওতায় বিনা শুল্কে ৫,০০০ টন চাল যাচ্ছে ত্রিপুরায়

ভারতকে দেয়া বিশেষ ট্রানজিট সুবিধার আওতায় বিনা শুল্কে ত্রিপুরায় আরো ৫,০০০ টন চাল পাঠানো হচ্ছে চলতি সপ্তাহে। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম বন্দর থেকে ৫,০০০ টন চাল নিয়ে তিনটি জাহাজ কলকাতা বন্দরে পৌঁছেছে। চালবাহী জাহাজ তিনটি সেখান থেকে নৌপথে মেঘনা পারের আশুগঞ্জ বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে আশুগঞ্জ বন্দর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে আগরতলার কাছে নন্দনগরে ভারতের খাদ্য করপোরেশনের ওয়্যারহাউজে এসব চাল পৌঁছে দেবে বাংলাদেশি ট্রাক। এর আগে গত আগস্টে একই রুট ব্যবহার করে পাঠানো হয়েছিল ৫,০০০ টন চাল। ত্রিপুরার পর একইভাবে খাদ্যশস্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পাঠাবে ভারত।

ত্রিপুরার খাদ্য, বেসামরিক সরবরাহ ও অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা সেখানকার সাংবাদিকদের বলেছেন,ভারতীয় পণ্যবাহী যানকে আসাম ও মেঘালয়ের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ বেয়ে ত্রিপুরায় যেতে হয়। এই দীর্ঘপথ এড়াতে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ হয়ে চাল পাঠানো হচ্ছে ত্রিপুরায়।

ওদিকে ১ অক্টোবর থেকে ভারতের উত্তর-পুর্বাঞ্চলীয়া রাজ্য ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম ও আসামের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কারণ, ওই রেলপথ মিটার গেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের মার্চ নাগাদ শেষ হতে পারে এ রেলপথের কাজ।

এর আগে ২০১২ সালের শুরুর দিকে ভারতকে ভারী যন্ত্রাংশ, টার্বাইন, কার্গো আশুগঞ্জ বন্দর হয়ে ত্রিপুরায় পরিবহনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ। এসব সরঞ্জাম ত্রিপুরায় ৭২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য নেয়া হয়। তাই ভারত সরকার ওই বন্দরটি ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কয়েক লাখ রুপি খরচ করেছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম ও আখাউড়া নদী বন্দরকে আগরতলার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সাবরুমে ফেনী নদীর ওপর সেতু এবং আখাউড়ায় মেঘনা নদীতে বৃহদাকার বন্দর তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করেছে ভারত।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তী চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে আগরতলার ট্রানজিট রুটের অগ্রগতি পরিদর্শনে গত সপ্তাহে চারদিনের সফরে ত্রিপুরা অবস্থান করেন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব মাত্র ৭৫ কিলোমিটার। তবে এর মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ফেনী নদী। আর প্রস্তাবিত ট্রানজিটকে কার্যকর করতে ফেনী নদীর ওপর ৭০ কোটি রুপি ব্যয়ে তৈরি করা হবে একটি সেতু। রেলপথে ত্রিপুরাকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করতে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আগরতলা-আখাউড়া রেললিঙ্ক স্থাপনের কাজ আগামী বছর শুরু হবে বলে ওই ভারতীয় কূটনীতিক আগরতলার সাংবাদিকদের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

You Might Also Like