জুবায়ের হত্যাকাণ্ড : সমকামিতায় রাজি না হওয়ায় পানিতে চুবিয়ে হত্যা

সমকামিতায় রাজি না হওয়ায় ইংলিশ মিডিয়ামের ও’লেভেলের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ (১৭) কে  পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে আলজেরিয় নাগরিক ও কিশোরদের ফুটবল প্রশিক্ষক আবু ওবায়েদ কাদের (৪৬)।

সে দীর্ঘ দশ বছর ধরে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কাদেরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৪ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের মাঠে ফুটবল খেলতে যায় জুবায়ের। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সে বাসায় না ফেরায় তার পরিবারের সদস্য তাকে খোঁজাখুঁজি করে। বাসায় রেখে যাওয়া জুবায়েরের পরিচিত ব্যক্তিদের মোবাইলে ফোন করতে থাকে। তখন নিহত জুবায়েরের বন্ধু ইসমাঈলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় ও আলজেরিয় নাগরিক আবু ওবায়েদ কাদের তার ফোন রিসিভ করেননি। পরের দিন ভোর ৬টার দিকে পুনরায় কাদেরের মোবাইলে ফোন করলে সে জুবায়েরের অবস্থান সম্পর্কে জানে বলে তার পরিবারের সদস্যদেরকে জানায়। কাদেরের অসংলগ্ন কথা বার্তায় তাদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে ঘটনাটি জানায়।

পরে উত্তরা থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কাদের জুবায়েরের লাশ মাঠের পুকুরে রয়েছে বলে স্বীকার করেন।

শেখ নাজমুল আলম বলেন, এ ঘটনায় আবু ওবায়েদ কাদেরের স্বীকারোক্তিতে ইসমাঈলকে আসামি করে  উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।  গোয়েন্দা পুলিশ গত ১০ অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে ইসমাঈলকে গ্রেফতার করেন। ইসমাঈল জুবায়েরের বন্ধু। সেও ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী।

গ্রেফতারকৃত ইসমাঈলের বরাত দিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গত ৪ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে সে কাদের ও নিহত জুবায়েরসহ আরো কয়েকজন মিলে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের  মাঠে ফুটবল খেলে। খেলা শেষে সে জুবায়ের ও কাদের ব্যতীত অন্য কিশোররা বাসায় ফিরে। তারা মাঠ সংলগ্ন পুকুরের পাশে গিয়ে বসে। জুবায়ের তার গায়ের জার্সি খুলে পুকুরের পানিতে নামে। সঙ্গে সঙ্গে কাদেরও পানিতে নেমে জুবায়েরকে ধরে সমকামিতার চেষ্টা করে। এসময় জুবায়ের ও কাদেরর মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে জুবায়েরের মৃত্যু হয়। জুবায়েরের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে তার লাশ পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে ফেলা হয়।

শেখ নাজমুল  আরো বলেন, ইসমাঈল এই হত্যাকণ্ড সম্পর্কে কাউকে কিছু যেন না জানায়, এজন্য তাকে টাকা পয়সা ও বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখায় কাদের। ইসমাঈল হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনাটি পুকুর পাড়ে বসে দেখেছে বলে গোয়েন্দা পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত দুইজন বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আলজেরিয় নাগরিকের বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেফতারকৃত ওবায়েদ কাদের একজন আলজেরিয় নাগরিক এবং সমকামী। সে প্রায় ১০ বছর ধরে পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছে। উত্তরায় কিশোরদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। সখ্যতার এক পর্যায়ে সে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। তার ফেসবুক আইডি থেকে কিশোরদের সঙ্গে সমকামিতার চ্যাটিংয়ের আলামতও পাওয়া গেছে। কাদেরের ব্যবহৃত মোবাইলের সিমকার্ড রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সে নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয় দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল আহাদ ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ফুটবল খেলার মাঠের পাশের পুকুর থেকে নিহত জুবায়ের আহমেদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জুবায়েরের মা দিলারা বেগম বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

You Might Also Like