মেসি নেইমারের লড়াই আজ

২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিকে বলা হয় ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা। যে স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হয়েছিল তার নাম ‘বার্ড নেস্ট’ বা পাখির বাসা। শিল্পের বিচারে অসাধারণ। নান্দনিকতায় অতুলনীয়। সেই দৃষ্টিনন্দন বার্ড নেস্টে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বের দুই পরাক্রমশালী ফুটবল দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুই দলের আড়ালে আবার দ্বৈরথে নামছেন দুই বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও নেইমার। দুই দল ও দুই ফুটবলারকে ঘিরে মাতোয়ারা চীনের রাজধানী বেইজিং।

উন্মাদনায় কাঁপছেন বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহরটির ফুটবলপ্রেমীরা। অবশ্য মেসি-নেইমারের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা দেখতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বের লাখো-কোটি ফুটবলপ্রেমীও। আজ প্রতিপক্ষ। কিন্তু দুজনেই আবার বন্ধু। দুজনে খেলেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব বার্সেলোনায়। এই প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য বেশ আগেই চীন পৌঁছে গেছে দুই দল। দুই দলের ফুটবলারদের এক নজর দেখতে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বেইজিংয়ে। সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

২৪ বছরের শিরোপা বন্ধ্যত্ব ঘোচাতে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। কিন্তু থমাস মুলার, মিরোশ্লাভ ক্লোসাদের সঙ্গে পেরে উঠেননি মেসিরা। হেরে যান ০-১ গোলে। ফলে ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের শিরোপা অধরাই রয়ে যায় আলবিসেলিস্তাদের। বিপরীতে নেইমারের ব্রাজিলের সামনে ছিল ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি।

ঘরের মাটিতে ফুটবল মহাযজ্ঞের সেমিফাইনালেও উঠেছিল সেলেকাওরা। কিন্তু নেইমারবিহীন ব্রাজিল পেরে উঠেনি সুপার পাওয়ার জার্মানির সঙ্গে। বিধ্বস্ত হয় ৭-১ গোলে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেমিফাইনালে এমন বড় ব্যবধান আর হয়নি কখনো। নেইমার খেলতে না পারার কারণ কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার জুনিগারের মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়েছিলেন।

ফলে ছিটকে পড়েছিলেন আসর থেকে।বিশ্বকাপের পর কোচ পরিবর্তন করে দুই দল। আলেসান্দ্রো স্যাবেলা সরে দাঁড়ানোয় তার জায়গায় দায়িত্ব নেন জেরার্ডো মার্টিনো। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য ব্রাজিলের কোচিং পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় ফিলিপ লুই স্কলারিকে। তার জায়গায় দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গাকে। দায়িত্ব নিয়ে দুই কোচ ঢেলে সাজাচ্ছেন দলকে।

বিশ্বকাপের পর জার্মানির ডুসেলডর্ফে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। দুঙ্গার কোচিংয়ে ব্রাজিল ১-০ গোলে হারিয়েছে যথাক্রমে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরকে। আজকের সুপার ক্লাসিকোর আগে দুই দল পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ৯৫ বার।

আর্জেন্টিনার ৩৬ জয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় ৩৫। বাকি ২৪ ম্যাচে ড্র। মজার বিষয় হচ্ছে ২০০৭ সালের পর দুই দল কখনোই পরস্পরের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতেনি। দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে নেইমারদের হারিয়েছিলেন মেসিরা। তাই ম্যাচটি যে নান্দনিকতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

You Might Also Like