ঘূর্ণিঝড় ‘হুদহুদ’ জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করেছে ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ৷‌ ধেয়ে চলেছে ভারতের ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার দিকে৷‌ রবিবার ভোরের দিকেই আঘাত হানতে পারে বিশাখাপত্তনমে৷ ক্রমে ক্রমে যেভাবে শক্তি সঞ্চয় করছে, তাতে ঘূর্ণিঝড় যে ভয়ঙ্কর গতিতে আঘাত হানবে, তা মোটামুটি পরিষ্কার৷‌ ঝাঁপটা লাগতে পারে বাংলাদেশেও। ‘হুদহুদ’র প্রভাবে ৩ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি ক্যাটাগরি-৫ ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর। আঘাতের সময় বাতাসের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) প্রধান এল এস রাথোরি শুক্রবার বলেছেন, হুদহুদ প্রচণ্ড সাইক্লোনিক ঝড়ে রূপ নিয়েছে। এটি এখন অনেক শক্তিশালী হয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। হুদহুদের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও প্রবল বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি আস্তে আস্তে অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

আইএমডি জানায়, আগামী রবিবার বিকাল নাগাদ হুদহুদ ভারতের বিশাখাপত্তনম উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ ব্যাপারে ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ছয়টি নৌজাহাজ প্রস্তুত করেছে দেশটির নৌবাহিনী।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যায় ৩৫টি মোবাইল টিম নিয়োগ করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং উড়িষ্যা, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

গত বছর অক্টোবর-নভেম্বরে পাইলিন, হেলেন ও লহর নামে তিনটি ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানে। এর আগে ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে উড়িষ্যায় তাণ্ডব চালিয়ে যায় একটি সুপার সাইক্লোন, যাতে অন্তত ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

এদিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় ঘূর্ণিঝড় ‘হুদহুদ’ সামান্য উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি শনিবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬০ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৪০ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কি. মি.। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ১৪০ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলো ঝড়ো হাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

গত বুধবার আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘হুদহুদ’। এরপর এটি ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দফতর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলে ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘হুদহুদ’ প্রস্তাব করে ওমান।

You Might Also Like