ভাষা মতিনকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

কালো ব্যানার। সবার বুকে কালো ব্যাজ শোকে যেন বিহ্বল শহীদ মিনারের প্রতিটি ইট। সারিবদ্ধভাবে সবাই অপেক্ষা করছেন ভাষা মতিনকে শেষবারের জন্য দেখবেন বলে। শোকের চাদরে যেন ঢেকে আছে পুরো শহীদ মিনার। হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে তাই শহীদ মিনারে। সমাজের সব পেশার মানুষ অপেক্ষা করছেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে। বৃষ্টিতেও এতটুকু পিছপা হোননি কেউ। জীবিত অবস্থায় অনেকেই সামনাসামনি দেখার সুযোগ পাননি যারা আজ তারাও বাদ যাননি।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে। পরে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। এর আগে ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে গার্ড অব অনার।

ব্যাংক কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, যাদের কারণে আমি আজ বাংলায় কথা বলতে পারছি, তাদের অন্যতম একজন ভাষা মতিন। তার জীবদ্দশায় যথার্থ সম্মান আমরা দিতে পারিনি। তাই, সম্মান দেখাতে এসেছি এ কথাতো বলতে পারি না! কিন্তু, দেশের প্রতি যে দায় পালনের নিদর্শন তারা রেখেছেন, আমরা তা অনুসরণ করতে চাই।

এদিকে ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের মরদেহ গাড়িবহরে করে বৃহস্পতিবার ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে হাজারও মানুষ জড়ো হয়েছেন তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।

মৃত্যুর আগেই আবদুল মতিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে মরণোত্তর দেহ ও সন্ধানীকে চক্ষু দান করে গেছেন। বুধবারই মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়।

১৯৫২ সালের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বুধবার সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন ইন্তেকাল করেন।

You Might Also Like