নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় ঈদুল আযহা উদযাপিত

সালাহউদ্দিন আহমেদ : বিপুল উৎসাহে যথাযোগ্য মর্যাদা আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হচ্ছে। লোকাল ও গ্লোবাল মুনসাইটিং দ্বন্দ্বে গ্লোবাল মুনসাইটিং আর নর্থ আমেরিকা হিলাল কমিটির সিদ্ধান্তে এবছরও পবিত্র ঈদুল আযহা দু’দিনে (৪-৫ অক্টোবর) উদযাপিত হচ্ছে। তবে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারসহ নিউইয়র্ক ও উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগে ০৪ অক্টোবর শনিবার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়। মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর ত্যাগের মহিমায় চির ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আযহা। শনিবার ভোর থেকেই হালকা বৃষ্টির ফলে প্রতিকুল আবহাওয়ায় নিউইয়র্কের একাধিক মসজিদ আর কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত নিউয়র্কের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৮টায় জ্যামাইকা হাইস্কুলের খোলা মাঠে উত্তর আমেরিকায় সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি আর প্রতিকুল পরিবেশের কারণে জেএমসিতে চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম জামাত শুরু হওয়ার আগেই জেএমসিতে মুসল্লীদের ঢল নামায় সকাল টার দিকে প্রথম জামাত এরপর সকাল সাড়ে ৮টা, সাড়ে ৯টা ও সাড়ে ১০টার দিকে আরো তিনটি জামাত মিলে চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাত শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মুনাজাতে সমগ্র মুসলিম উম্মাসহ দেশ-জাতির মঙ্গল ও সমৃদ্ধি এবং দেশে দেশে নিপীড়িত-নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় মহান আল্লাহতায়ালার রহমত ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করা হয়। ঈদের জামাতের জন্য জেএমসি সংলগ্ন ১৬৮ স্ট্রীট (হাইল্যান্ড এভিনিউ ও ৮৪ এভিনিউ) যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সিটি পুলিশ ১৬৮ স্ট্রীটের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে।

JMC_Eidul Azha-3জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার ছাড়াও নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের আসসাফা জামে মসজিদ, জ্যামাইকার মসজিদ আল আরাফা, মসজিদ মিশন সেন্টার (হাজী ক্যাম্প), দারুস সালাম মসজিদ,  ফুলতলী ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদ, এস্টোরিয়ার গাউছিয়া জামে মসজিদ, আল আমিন জামে মসজিদ, ব্রুকলীনের ব্রুকলীন মুসলিম সেন্টার,  ব্রুকলীন ইসলামিক সেন্টার, ব্রঙ্কসের পার্কচেষ্টার জামে মসজিদ, বাংলাবাজার জামে মসজিদ, নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ, রিয়াদুল জান্নাহ জামে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার, জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদী সেন্টার, জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টার, নিউইয়র্ক ঈদ গাঁ কমিটির উদ্যোগে শনিবার ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব মসজিদে কোথাও কোথাও একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাতে শিশু-কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধসহ সর্বস্তরের হাজার মুসলিম নর-নারী ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন।

যুক্তরাষ্ট্র সফররত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের দ্বিতীয় জামাতে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন। জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেনও জেএমসি-তে একই জামাতে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজ শেষে অর্থমন্ত্রী মুহিত ও রাষ্ট্রদূত মোমেন মুসল্লীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী মুহিত ও রাষ্ট্রদূত মোমেন সহোদর।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে ঈদের নামাজের আগে সেন্টারের পক্ষ থেকে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেএমসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ আকতার হোসেন, জেএমসি’র খতিব ও ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ প্রমুখ।

এদিকে কানাডা ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সী, কানেকটিকাট, ম্যারিল্যান্ড, পেনসেলভেনিয়া, ভার্জেনিয়া, ওয়াহিও, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোরিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস প্রভৃতি অঙ্গরাজ্যে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রতিটি ঈদের জামাত শেষে নবীন-প্রবীন, ছোট-বড়, ধনী-গরীব সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করতে দেখা যায়। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে সর্বত্রই নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেই সাথে সিটি প্রশাসনেরও বিশেষ নিরাপত্তা রক্ষ্য করা যায়। ঈদের নামাজ আদায়ের স্থানগুলোর আশপাশের রাস্তায় ফ্রি গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা থাকায় দূর দূরান্ত থেকে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা সপরিবারে ঈদের নামাজে শরীক হন। রং বেরং এর বাহারী পোশাক গায়ে নামাজিদের একত্রে ঈদের নামাজ আদায় ভীন দেশীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সেই সাথে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের দিনটি উইকেন্ড (শনিবার/রোববার) থাকায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীকে ঈদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। আবার অনেকে স্বপরিবারে বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘনিষ্ঠজনদের বাসা-বাড়ীতে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া প্রবাসীরা ফোনে বাংলাদেশে ফোন করে স্বজনদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় হয় ফেসবুক আর টেক্স ম্যাসেজের মাধ্যমে।

অপরদিকে গ্রোসারীর মাধ্যমে অনেকেই মহান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য খাসী ও গরু কোরবানী দেন। কোরবানীর মাংস হাতে পাওয়ার পর সেই মাংস আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় বাসায় গিয়ে বিতরণ করা হয়। -ইউএনএ

You Might Also Like