আইএসআইএল সৃষ্টি করেছে ইসরাইল-মার্কিন: তথ্য ফাঁস করলেন অনেকে

সম্প্রতি উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলকে মোকাবেলার জন্য মার্কিন নেতৃত্বে পাশ্চাত্য জোট  ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করেছে। তবে আরব আইনজীবী সমিতির মহাসচিব সামি খারিস আইএসআইএল’র বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল সৃষ্টিতে খোদ আমেরিকার  ভূমিকা রয়েছে এবং ইহুদিবাদী ইসরাইল যুদ্ধে আহত এসব সন্ত্রাসীদেরকে চিকিৎসা দিচ্ছে।

এর আগে আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনও এ তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন যে, আইএসআইএল’র সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেছেন, ব্রিটেন ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আইএসআইএল তৈরি করেছে। স্নোডেন আরো বলেছেন, তার কাছে এমন কিছু নথিপত্র রয়েছে যাতে প্রমাণিত হয়, ইসরাইল ও ব্রিটেনের সহযোগিতায় আমেরিকা এমন একটি উগ্র সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল যাদেরকে সারা পৃথিবী থেকে এনে একটি স্থানে জড়ো করা হবে। আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা আরো বলেন, আইএসআইএল’র শীর্ষ নেতারা ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

আইএসআইএল সৃষ্টিতে আমেরিকা ও ইসরাইলের হাত থাকার বিষয়ে এমন সময় এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যখন এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাবেক সদস্য যে কিনা ওমর নামে পরিচিতি তিনিও বেশ কিছু তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। সম্প্রতি তুরস্কের একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, আইএসআইএল সন্ত্রাসীরা তুরস্ক সীমান্ত অতিক্রম করে সিরিয়ায় গিয়ে যুদ্ধ করছে। এইসব তথ্য থেকে প্রমাণিত হয় উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি পাশ্চাত্যের আইএসআইএল বিরোধী বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মুখপাত্র বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সম্প্রতি সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তারা ইসরাইলকে এ নিশ্চয়তা দিয়েছে যে আইএসআইএল কখনোই তাদের স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে না।

সিরিয়ায় গত সাড়ে তিন বছরের যুদ্ধে যে সব সন্ত্রাসী আহত হয়েছে তাদেরকে ইসরাইলে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত এসব সন্ত্রাসীরা শুধু যে ইসরাইলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সুবিধা পেয়েছে তাই নয় একই সঙ্গে ইসরাইলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ থেকেও আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ পাওয়া যায়। যেসব সন্ত্রাসীরা গত প্রায় তিন বছর ধরে সিরিয়ায় ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞ চালিয়েছে বর্তমানে তারাই ইরাকে সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত।

এদিকে, মার্কিন উপ অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশ ও বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। এ দেশগুলোর সঙ্গে পাশ্চাত্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সন্ত্রাসীদেরকে অর্থ সাহায্য দেয়ার পেছনে আমেরিকার সবুজ সংকেত ছিল। সিরিয়া ও ইরাকে আইএসআইএল’র কাছ থেকে যেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে তাতে দেখা যায় এসব অস্ত্র আমেরিকা ও ইসরাইলের সরবরাহকৃত।

বর্তমানে আমেরিকা আইএসআইএলকে মোকাবেলা করার অজুহাতে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সমাবেশ ঘটাচ্ছে। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশের কেবল অস্ত্রের প্রয়োজন এবং বিদেশিদেরকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সুযোগ দেয়া হবে না। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মোয়াল্লেমও বলেছিলেন, তার দেশে সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ওপর হামলা চালাতে হলে অবশ্যই দামেস্কের অনুমতি নিতে হবে। এরই মধ্যে আমেরিকা আইএসআইএল’র অবস্থানে হামলা চালানোর কথা বলে সিরিয়ার তেল ক্ষেত্রের ওপর হামলা চালিয়েছে।

কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, পাশ্চাত্য আসলে সন্ত্রাসীদের ওপর হামলার কথা বলে সিরিয়ার অবকাঠামো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাশার জাফরি বলেছেন, সন্ত্রাস বিরোধী পাশ্চাত্য জোট স্রেফ লোক দেখানো।

You Might Also Like