‘মুখফোড়রা অনেক কথাই বলে’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিতর্কিত বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেছেন, মুখফোড়রা অনেক কথাই বলেন। এটা তাদের স্বাধীনতা। এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। আশা করি আপনারাও এটা গ্রহণ করবেন না।

আজ মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির দলীয় কার্যালয়ে প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাজেদা এসব কথা বলেন।

সাজেদা চৌধুরী বলেন, কে কী বলল তাতে কান দেবেন না। বঙ্গবন্ধু আমাদের যা দিয়ে গেছেন তা নিয়ে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি। আর জয় কে তা সবাই জানে।

প্রসঙ্গত, রবিবার নিউ ইয়র্কে সফররত মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী পবিত্র হজ প্রসঙ্গে বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।

তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।

মন্ত্রী বলেন, এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। হজ কিভাবে এসেছে এর ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারাতো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এরমধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।

তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।

তিনি তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে। জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন।

মন্ত্রীর এই বক্তব্যে দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।মন্ত্রীর অপসারণসহ তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ইসলামী দলগুলো। তারা এই ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও জানা গেছে।

You Might Also Like