ফেলানীর পুনর্বিচার কার্যক্রম মূলতবি

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার কার্যক্রম মূলতবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ কারণে কোর্টে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ভারতের কোচবিহার রওনা হওয়া ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন ও ৪৫ বিজিবির ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আখন্দ মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছেন।

আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর থেকে সবাই একযোগে কুচবিহারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

লে. কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আখন্দ বলেন, বিএসএফের সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিএসএফের ১৮১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট ভিপি বাদলা ফ্যাক্সবার্তা মারফত  এই কোর্টে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ফেলানীর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে কোচবিহার যেতে অনুরোধ জানান।

কিন্তু আজ শুক্রবার সকালে কোচবিহার যাওয়ার পথে লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ী এলাকায় পৌঁছলে ভিপি বাদলা মোবাইল ফোনে মোফাজ্জল হোসেন আখন্দকে জানান, মামলার কার্যক্রম মূলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।

মোফাজ্জল হোসেন জানান, এরপর দুপুর ১২টার দিকে এক ফ্যাক্সবার্তায় বিএসএফ জানিয়েছে তারা স্বাক্ষ্য নেওয়ার পরবর্তী তারিখ পরে জানাবে।

এ বিষয়ে ফেলানীল বাবা নুরুল ইসলা বলেন, মন খুব খারাপ। ন্যায় বিচারের আশায় রওনা হয়েছিলাম। মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হল। তবু আশা করছি, আবার ডাকা হবে এবং ন্যায় বিচার পাবো।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতের চৌধুরীহাট বিএসএফ ক্যাম্পের কনস্টেবল অমিয় ঘোষ ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত ফেলানীর লাশ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল ৫ ঘণ্টা। এ ঘটনা আলোড়ন তোলে দেশে বিদেশে।

২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহার জেলা সদরে ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়।

বিচার শুরুর ৬ দিনের মাথায় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যকে নিদোর্ষ ঘোষণা করা হয়। পরে ফেলানীর বাবার আবেদনের ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির পুনর্বিচার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ।

You Might Also Like