ভারতে আজ থেকে ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু

পুনরায় ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম আজ সোমবার শুরু হচ্ছে ভারতের কুচবিহারে বিএসএফের একটি বিশেষ আদালতে। এ কথা জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের ৪৫ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে বিচার কার্যক্রমে অংশ নিতে তারা সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।  বিচার কার্যক্রমে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, মামা আবু হানিফ সাক্ষী দেবেন।

এছাড়া কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন বাংলাদেশের আইনজীবী হিসাবে সাক্ষী ও আদালতকে সহায়তা করবেন। সার্বিক সহযোগিতা এবং বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে ৪৫ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ এই টিমকে নেতৃত্ব দিবেন।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আধাঘণ্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর। এর পর সকাল পৌনে ৭টার থেকে নিথর দেহ কাঁটাতারের উপর ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা। পরে বিএসএফ লাশ নামিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এরপর বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে মৃত্যুর ৩০ ঘণ্টা পর ৮ জানুয়ারি শনিবার লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ।

বাংলাদেশে আর এক দফা ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন হয় ৭৩ ঘণ্টা পর। মানবাধিকার সংস্থা গুলোর অব্যাহত চাপের মুখে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কুড়িগ্রামে এসে ফেলানীর মা ও ভাই-বোনদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। আর ১৫ ফেব্রুয়ারি নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তায় সারাদিন লুকোচুরি খেলা শেষে বিকেলে মা ও ভাই-বোনদের বাংলাদেশে ফেরত দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় বিচার কাজ শুরু হলেও ভারতে বিএসএফ’র বিশেষ আদালত ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়। পরে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় ভারতীয় হাইকমিশনারের নিকট আবেদন করে ফেলানীর পরিবার। দেশী-বিদেশী চাপে ভারত বিচার কার্যক্রম রিভিউ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসাবে আজ সোমবার পুনরায় শুরু  হচ্ছে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার কাজ।

You Might Also Like