রায় শুনে বললেন, “আলহামদুলিল্লাহ”

সুপ্রীম কোর্টের রায়ে ফাঁসির দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এ রায়ে দেশের ভেতরে বাইরে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা। অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সাঈদীর দল ও তার পরিবার। তবে রায় শুনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেছেন সাঈদী।

সাঈদী বর্তমানে গাজিপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে আছেন। রায়ের দিন তাকে আদালতে উপস্থিত হতে হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে সাঈদীকে কিছু বলেননি। সাঈদী কারাগারের ওয়ার্ডেনের কাছ থেকে রায়ের খবর শুনেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশিমপুর কারাগারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, সাঈদী রায়ের কথা শুনে ওই ওয়ার্ডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন। রায় শোনার পর সাঈদী বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ”।

সাঈদীকে উদ্ধৃত করে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমি আগেই আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছিলাম রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ আবেদন করার জন্য। বিচার যদি নিরপেক্ষ হয় তাহলে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হবো ইনশাল্লাহ।

সাঈদী আরও বলেন, আমি খুশি নই। কারণ আমার পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা জানেন যে এ বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এখনও কনডেম সেলে আছেন। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের রায় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি। আমরা আনুষ্ঠানিক নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।

কারাগার সুপার বলেন, রায়ের কপি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে কিছু জানাবো না। রায়ের কপি পাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব তাকে এখানে (কাশিমপুর) রাখা হবে না অন্য কারাগারে প্রেরণ করা হবে। আমরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করব।

কনডেম সেলে রায় কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাখা হয়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার পর তাকে কনডেম সেলে নেওয়া হয়। সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১শ’ থেকে ১৫০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বুধবার আপিলের রায়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে থাকা ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন বেঞ্চ। ৮ নম্বর অভিযোগে ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানি‌‌য়েছেন সর্বোচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার পর তা রিভিউ‘র সুযোগ নেই।

You Might Also Like