ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে ছাত্রলীগ জড়িত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, জালিয়াতির ক্ষেত্রে তাদের সহায়তাকারীদের বেশিরভাগই ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত।

নীলক্ষেত হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে শুক্রবার আটক বদিউজ্জামান জুয়েল প্রথমে জানান, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে তাকে সবুজ নামের একজন সহায়তা করেছে। পরবর্তী সময়ে খোকন নামে তার মেসের এক বড় ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেন।

জুয়েল জানান, খোকন তাকে বলেছে যে, ধরা পড়ে গেলে সে যেন সবুজের নাম বলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবুজ (আলামিন সবুজ) ছাত্রলীগের টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখার সভাপতি। আর খোকনের (জনতা ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা ইমদাদুল হক খোকন) দলীয় কোনো পদ না থাকলেও সে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এর আগে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাতেও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল সবুজের বিরুদ্ধে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে আটক সৈয়দ আলমগীর কবীরের মোবাইল ফোন জব্দ করে ‘জনি’ নামে সেভড একটি নাম্বার থেকে আসা এসএমএস পাওয়া যায়।

কিছুক্ষণ পরে জনি (ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি) প্রক্টর অফিসে এসে আলমগীর কবীরকে মতিঝিল থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তদবির করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জনি ও সবুজ নামের দু’জন জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ জানান, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়।

মামলা দায়ের

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের দুই পরীক্ষার্থী ও কলেজটির এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

ঢাবি’র প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এসএম কামরুল আহসান বাদী হয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করেন। কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনুপম মজুমদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ভর্তি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ ফুয়াদ হাসান ও রুহুল আমিন সেতু এবং আইডিয়াল কলেজের কর্মচারী মোহাম্মদ রহিম।

You Might Also Like