যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারিত ও লাঞ্ছিত হলেন কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও গাইলেন সাম্প্রতি বোস্টনে লাঞ্ছিত বাংলাদেশের কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। গত শনিবার পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিনি। খবর বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেস’র।
চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলার অনুষ্ঠানের আয়োজকরা শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের প্রাক্কালে নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা র‌্যাডিসন হোটেলের লবিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাবিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করে বলেন, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহান্তে বোস্টনে বৈশাখী মেলায় সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য আয়োজক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই মোতাবেক ২৩ এপ্রিল তিনি ও অন্য শিল্পীরা নিউ ইয়র্ক থেকে বোস্টনে পৌঁছান কিন্তু আয়োজকদের কেউ তাঁদের রিসিভ করতে আসেনি। নির্ধারিত হোটেলে পৌঁছানোর পর তিনদিন কেউ তাঁদের খোঁজও নিতে আসেনি এমনকি তাঁদের খাওয়ার ব্যাপারেও কোনো খোঁজ নেয়নি। এরপর চুক্তি মোতাবেক শিল্পীদের টাকা পরিশোধ নিয়েও টালবাহানা করতে থাকেন। তিনি আরও জানান, ২৭ তারিখে অনুষ্ঠান শেষে এক পর্যায়ে নাহিদ নজরুলের ছোট বোন মিতু তাঁর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি তাঁকে উচ্চস্বরে ধমক এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় যা অনাকাঙ্খিত ও অপ্রত্যাশিত। সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, তাঁর সুদীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে পৃথিবীর বহু দেশে অনুষ্ঠান করছেন কিন্তু ওই ধরনের অপমানজনক এবং দুর্ব্যবহারের শিকার কখনও হননি। প্রেসব্রিফিংয়ে বিখ্যাত এই সঙ্গীত শিল্পী উল্লেখ করে বলেন, মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত শিল্পীদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো উচিৎ। কোন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা যেন শিল্পীদের সাথে দুর্ব্যবহার না করে। তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সব শিল্পীদের পাওনা টাকা সম্পুর্ণ পরিশোধ করেনি আয়োজকরা। এমনকি অনুষ্ঠানের পরদিন বোস্টন থেকে ফেরার সময় কেউ দেখা করতেও আসেনি এবং হোটেল থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করেনি। দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করে বাসে করেই তিনি দলবল নিয়ে এয়ারপোর্টে যান।
গত শনিবার পরোক্ষভাবে একই আয়োজকের মঞ্চে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলনে শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন আবারও সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বোস্টনের বৈশাখী মেলার  আয়োজক উক্ত অনুষ্ঠানে জড়িত থাকার খবর শুনেই তিনি অবাক হন। অনুষ্ঠানে তাঁর দুই ঘন্টা গান গাওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৪০ মিনিটে ৭/৮টি গান গেয়ে আকস্মিকভাবে মঞ্চ ত্যাগ করেন। ফলে দর্শকশ্রোতারা হতাশ হন। আয়োজকরা উপস্থিত দর্শকদের চাহিদা পুরণের জন্য গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরকে মঞ্চে নিয়ে আসেন। তিনি ঘন্টাব্যাপী দর্শকশ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। উপস্থিত একজন দর্শক অভিযোগ করে বলেন যিনি এ অনুষ্ঠানের মুল আকর্ষণ তিনি একজন আয়োজক জড়িত বলে এমন করলেন। অথচ তিনি তো আমাদের সবার প্রিয় শিল্পী। আমরা তাঁর গান শুনতেই তো এসেছিলাম।

You Might Also Like