পৃথিবীটা সত্যি মায়াময় শুক্রবারেও ছুটি নয়

আসলেই শুক্রবার ছুটি নয়। অন্তত আমার জন্য নয়। আমি লেখালেখি করি, একটা সংগঠন করি। খুবই প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তাই সবাই আমাকে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ মনে করেন এখনো। সেই রকম একটা কাজে বনশ্রী যাচ্ছিলাম। পথের মধ্যে ফোন এলো আমি শারমিন বলছি- ওপার থেকে বলা হলো। এই এক মুশকিল, ৫৪ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে ১৬ থেকে ২০ কোটি মানুষের বাস। এক নামে অন্তত পাঁচজনকে চিনি। শারমিন নামের এই কণ্ঠটি যে আসলে কোন শারমিনের, তা বুঝতে পারছিলাম না। একটু সতর্কভাবেই কথা বলতে লাগলাম। ওপারের শারমিন বললেন, ‘আমার কাছে আপনার টেলিফোন নম্বর ছিল না, আমি আপনার নম্বরটি পেয়েছি ড. কামাল হোসেনের কাছ থেকে। আপনি বোধ হয় একসময় আমাকে খুঁজছিলেন কিন্তু ততক্ষণে আমি আবার ফিরে গেছি।’

এতক্ষণে আমি মনে হয় টেলিফোনকারিণীকে চিনতে পারলাম। আমি সরাসরি বললাম, বলবেন কি আপনি কোন শারমিন? আমি এখনো একটু কনফিউজ। উনি জবাব দিলেন, আমি শারমিন আহমেদ। বুঝলাম, উনি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী মরহুম তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ।

আমি যেখানে যাব সেই জায়গাটা আমার নির্দিষ্টভাবে চেনা ছিল না। আমার পেছনে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শহীদুল্লাহ কায়সাররা আরেকটা গাড়িতে ছিলেন। তাঁরা আমাকে ফোন করছিলেন, কিন্তু আমি সে ফোন ধরতে পারছিলাম না। শারমিন আহমদকে আমি কখনো দেখিনি, তাঁর সঙ্গে কখনো কথাও হয়নি। অতএব হোক না টেলিফোনে, তাঁর সঙ্গে কথা বলার আকর্ষণটা ছাড়তে পারছিলাম না।

তাজউদ্দীন পরিবারের প্রতি আমার এক বিশাল কৌতূহল। বিশেষ করে জনাব তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে। সরাসরি তিনি আমাকে চিনতেন না। কিন্তু স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর ভূমিকায়, যুদ্ধের পর মাইদুল হাসানের লেখা মূলধারা ৭১-এ পড়ে তাঁর সম্পর্কে একটা অবিমিশ্র শ্রদ্ধা জন্মিয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় এবং সবশেষে কারাগারে তাঁর জীবন দান এখনো আমাকে আলোড়িত করে। ঢাকা জেলের যে অঞ্চলে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই নিউ জেলে আমি প্রায় দুই বছর ছিলাম। সকালে কিংবা বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে সব সময় মনে হতো এখানে তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন, জেলখানার অভ্যন্তরে নিহত আরো তিন জাতীয় নেতা ছিলেন।

আমার সঙ্গে বেগম জোহরা তাজউদ্দীনের হৃদ্যতা ছিল। কেন জানি না তিনি আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর সংগঠনের দায়িত্ব নিয়ে তিনি যে পরিশ্রম করেছিলেন, তা বাংলাদেশের মানুষের ভোলার কথা নয়। সেই যে দুটি হাত উঁচু করে জনতাকে দেখে তিনি বলতেন, দেখুন, আমার হাতে কোনো চুড়ি নেই, আমি খালি হাতে এসেছি আপনাদের কাছে বিচার চাইতে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, তাজউদ্দীনসহ তাঁর ঘনিষ্ঠ চার সহযোগীর জেলখানার অভ্যন্তরে হত্যার বিচার। নিহত, বিধ্বস্ত, পরাজিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা, দলটির সমর্থকরা আবারও সাহসে বুক বেঁধে জনতার বন্ধু হয়েছিল।

আমি বেগম জোহরা তাজউদ্দীনকে এ জন্যই সম্মান করতাম। সুযোগ পেলেই তাঁর কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতাম। তাঁর কথা শুনতে চাইতাম। কিন্তু আমি খুব বড় কোনো সুযোগ পাইনি। বেগম জোহরা তাজউদ্দীন সময়ের ফসল ছিলেন। সেই সময় যখন পার হয়েছে, তখন তিনি ধীরে ধীরে সময়ের গর্ভে চলে গেছেন। অনেকটাই তাঁর স্বামী বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মতো। যেন এক নিঃসঙ্গ সারথি। তাজউদ্দীনকে কেন মন্ত্রিসভা থেকে চলে যেতে হলো, কেন পরবর্তী সময়ে তাঁকে এত পরিত্যক্ত মনে হলো, এর জবাব নেই। এই প্রশ্নটাও কেউ করেনি এখনো। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল, বঙ্গবন্ধু সেই দলের নেতা; অথচ তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে তখন, তারপরে এবং এখনো কোনো প্রশ্ন কেউ করতে পারেননি। কেন? একইভাবে বেগম জোহরা তাজউদ্দীন কখনো কোনোদিন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পাননি। কেন? আমি তো যতদূর জানতাম তিনিই ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য। সবচেয়ে সিনিয়র হিসেবে তিনি তো রাষ্ট্রপতির পদও পেতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা না পেয়ে পেলেন জিল্লুর রহমান। পত্র-পত্রিকায় লিখল আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ জনাব জিল্লুর রহমানকে এই সম্মান প্রদান করা হলো। তাই কি? ফিতা কাটা আর কবর জিয়ারত করা ছাড়া যে রাষ্ট্রপতির এমন কোনো দায়িত্ব নেই, সেটা কী জোহরা তাজউদ্দীন হলেন না জিল্লুর রহমান হলেন- তা নিয়ে আমার কোনো দিলজাস্বি নেই। কিন্তু রাষ্ট্রপতির পদ অলংকৃত করবেন কোনো অনুগত লোক, সেটা ভাবতে ভালো লাগেনি আমার। জোহরা তাজউদ্দীন যে কোনো আনুগত্যের পরীক্ষা দিতে যাননি সে জন্য তাঁকে ভালো লাগত আমার। আমি বছর কয়েক ঢাকায় তাঁর বাসায় গিয়েছি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে।

পৃথিবীটা সত্যি মায়াময় শুক্রবারেও ছুটি নয়

দুবার তাঁর মেয়ে সিমিন হোসেন রিমির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। রিমিকেও আমার খুব পছন্দ ছিল। ওর লেখাগুলো খুবই চমৎকার। তাজউদ্দীন দম্পতির রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি এটাও একটা বিরাট সাফল্য যে সিমিন হোসেন রিমির মতো কন্যা সন্তানের মা-বাবা তাঁরা। তখনো আমি শারমিন আহমদকে জানি না।

এই দুই কন্যার ব্যাপারে সুযোগ পেলে আবার কখনো বিস্তারিত বলব। একসঙ্গে এমন দুটি কন্যার মা বা বাবা হওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। স্বাধীনতাযুদ্ধের মহান সংগঠক, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মতো মানুষও তো ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে আবার পাদপ্রদীপের আলোয় বসাতে এই দুই কন্যার অবদান অনেক। ইতিহাস হয়তো একদিন বলবে সময়কে সত্যের সামনে এনে হাজির করতে এই দুই মানুষ অসাধারণ অবদান রেখেছেন।

তাঁরা দুজনেই ভবিষ্যতে আরো কি অবদান রাখতে পারবেন? এ জবাব কাল দেবে। কিন্তু আমি সিমিন হোসেন রিমির ব্যাপারে যতখানি আশাবাদী ছিলাম, সেই আশাহত হয়েছে। রিমির কি এমপি হওয়া খুব জরুরি ছিল। এমপি হওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোনো লেখা চোখে পড়ছে না। কিন্তু আমি এমন করেই বলব যে অসাধারণ লেখার যোগ্যতা ছিল তাঁর। তাঁর বড় বোন শারমিন আহমদ সম্পর্কেও প্রায় একই কথা বলা চলে। কিন্তু শারমিনের মতো আলোড়ন তুলতে পারেনি তাঁর লেখা। এমনকি শারমিন আহমদ তাঁর নেতা ও পিতার যে লেখা লিখেছেন, যার ওপরে একটা ছোটখাটো ঝড় উঠেছিল, সে ব্যাপারে একটা কথাও বলতে পারেননি তিনি। সরকারি দলের সংসদ সদস্য দিয়ে কথা। তাঁরা মানুষের জমি দখল করতে পারেন, ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিতে পারেন, মাদকের ব্যবসা করতে পারেন, পুলিশের গালে কষে চড় লাগিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু সব সময়ই সত্য কথা বলতে পারেন না। আমি দুজন মহিলা সংসদ সদস্যের কথা জানি, যাঁদের স্বামী অপঘাতে মারা গেছেন কিংবা নিহত হয়েছেন, এই সরকারের একটা টার্ম শেষ হয়ে গেছে অথচ সে হত্যার কোনো বিচার হয়নি। এই দুজন সংসদ সদস্যকেই টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এ ব্যাপারে সরকার বা প্রশাসনের কোনো গাফলতি আছে? তাঁরা সাহস করে সত্য কথা বলতে পারেননি।

রাজনীতি একটি জটিল জিনিস। চাই বা না চাই, ভালো হোক বা মন্দ হোক, এর মাঝে একটা কায়েমি স্বার্থ জন্ম নেয়। যাঁরা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন, তাঁরা এই কায়েমি স্বার্থের বাইরে প্রায়ই যেতে পারেন না। তাঁকে রেখেই কথা বলতে হয়। শারমিন-সিমিনের ভাই সোহেল তাজ মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন কেন? আবারও দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসত করতে হলো কেন? বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ছেলে রাজনীতিতে এসেও থাকতে পারলেন না, এমনকি দেশেও না। সে কথা কি অস্বীকার করা যাবে? তাজউদ্দীন আহমদের এক ভাইকেও (তিনিও একজন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন) মন্ত্রিত্ব ছেড়ে এমনকি রাজনীতিও ছেড়ে সাধারণ সামাজিক জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সেই একই চক্রের মধ্যে ঢুকে সিমিন হোসেন রিমি কী করতে পারবেন? লেখালেখি তো ছেড়েই দিয়েছেন। শারমিন আহমদের ব্যাপারটাকে আমি একটু ভিন্ন চোখে দেখছি এ জন্যই যে তিনি এখনো এই চক্রের বাইরে আছেন। থাকবেন কি? থাকতে পারবেন? তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত কী? জানারও খুব ইচ্ছে। সে জন্য টেলিফোন ছাড়তে পারছিলাম না। কিন্তু আমি ততক্ষণে সভাস্থলে এসে পৌঁছেছি। লোকজন জড়ো হয়েছে। আমাকে টেলিফোন ছাড়তে হলো। শারমিন বললেন, আগামীকাল বিকেলে জনাব তাজউদ্দীন আহমদের ওপরে একটি অনুষ্ঠান আছে। এর দাওয়াত দিতেই তিনি আমাকে ফোন করেছেন। কিন্তু ঠিক একই সময়ে আমি যাত্রাবাড়ী যাব, একটা মতবিনিময় সভায় আমাকে সেখানে যেতে হবে। অতএব দুঃখ প্রকাশ করলাম।

‘তাজউদ্দীন আহমদ : নেতা ও পিতা’ শিরোনামে যে বইটি শারমিন লিখেছেন সেটা আমি পড়েছি। সুন্দর একটি বই। একজন লেখাপড়া জানা নৈর্ব্যক্তিক মানুষ সমসাময়িক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে পিতাকে, নেতাকে দেখতে পারেন, সেভাবে লেখা বইটি। আওয়ামী লীগের নেতারা অযথাই হইচই করেছেন। এখন যেমন করছেন এ কে খন্দকারের লেখা ‘ভেতরে-বাইরে’ বইটি নিয়ে। ইচ্ছা আছে দুটি বই নিয়েই লেখার। আজ জায়গার অভাবে তা পারব না।

বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখক, কবি, ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমাকে বলেছিলেন, দল করে লেখালেখি করো কিভাবে তুমি, যারা দল করে তারা সত্যি কথা বলে না। তারা সমালোচনা সহ্য করে না। তারা বলতে চায়, যা চলছে সেভাবেই চলুক। তুমি কেন মৌচাকে ঢিল দাও। অথচ তাই যদি মানি, তাহলে আজও আমরা বিশ্বাস করতাম সূর্য পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘোরে। জ্ঞান তো কেবল ভিন্ন মতের সঙ্গের মিথস্ক্রিয়ায় গড়ে ওঠে। গণতন্ত্রেও এ জন্য ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। অথচ আমাদের সংসদ ভিন্ন মত প্রকাশকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলছে। ভিন্নমতের বইকে বাজেয়াপ্ত করতে বলছে।

দুই.

হঠাৎ করে একদিন দেখলাম খুজিস্তা নূরই নাহরিন আমার ফেসবুক বন্ধু। কয়দিন আগে তার একটা পেন্টিং দেখলাম। ও লিখেছে : “সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পর থেকে কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগছে। চোখ দুটো অবাধ্য হয়ে ভিজে যেতে যাচ্ছে বারবার। আমার ছেলেটাও এখনো ঘুমোচ্ছে। ওর জন্মের পর থেকে সারাটি ক্ষণ শুধু ওর সঙ্গে কথা বলতাম, ও বুঝুক আর না বুঝুক। ছোট বাচ্চারা যেমন ডলপুতুলের সঙ্গে কথা বলে, ঠিক তেমন। সুখের কথা দুঃখের কথা। সে ছিল আমার সত্যিকারের ডলপুতুল। তার সঙ্গে কতই না খেলা খেলতাম। কখনো পলান-পলান, তাই-তাই-তাই মামা বাড়ি যাই, আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, তালগাছ কাটি- তালগাছ কাটি, কখনো রস-কস শিঙ্গাড়া বুলবুলি, ইচন-বিচন, ঝিঞ্জি-ঝিঞ্জি, কখনো রেলগাড়ি, কখনো বা অ্যাকশনম্যান। আরেকটা খেলা ছিল আমাদের, ‘ছাতি লাঠি বাম ভুরুত’। কখনো ও ব্যথা পেলে ওর ছোট্ট নরম দুটো হাত হাতে নিয়ে বলতাম, ‘আতা ঝারা পাতা ঝারা, বকে হাগে ছেরা-বেরা, কুত্তা হাগে গু, ছু মন্তর ছু, ছু ছু’ ব্যস ব্যথা শেষ। প্রতি রাতে ঘুমের মাসি, ঘুমের পিসিদের ডেকে ডেকে ঘুম পাড়াতাম। চাকরিবাকরি, পড়াশোনা সবকিছু ছেড়েছুড়ে আমার ডলপুতুলের সঙ্গে সময় কাটানো। আমি কখনো চোখের আড়াল হলে ওর নরম দুটো গাল বেয়ে ডালিমের রসের মতো টুপ টুপ পানি ঝরতে থাকত। আমি সব সহ্য করতে পারি কিন্তু আমার ছেলের গালে এক ফোঁটা ডালিমের রস সহ্য করতে পারি না। আজ ও কানাডা চলে যাবে। তাই আমার মন খারাপ। পৃথিবীটা কেন এত মায়াময়?”

মুনীকে আমি অনেক আগে থেকে চিনি। টিংকুর স্ত্রী হওয়া ছাড়াও ও বেশ বুদ্ধিমতী, সুন্দরী। ওকে বেশ ভালো লাগে আমার। কিন্তু ওর দুঃখ ওর স্বামীটাও ক্যান্সারে মারা গেছে।

ওর দুঃখটা আমার আরো বেশি করে অনুভূতি জাগায় কারণ এক বছর আগে আমার ছেলেটিও এভাবে আমার মতের বিরুদ্ধে কানাডা চলে গেছে। যেদিন ও গেল, সেই রাতে আমার এমন হয়েছিল যে টেলিভিশনে মুক্তবাক উপস্থাপনার সময় বারবার আমার গলা ধরে যাচ্ছিল। পৃথিবীটা সত্যি মায়াময়।

তিন.

ফজলুর রহমান ফোন করেছিলেন গত মাসের একেবারে শেষে সুদূর আমেরিকা থেকে। পুরো পরিবার গেছে সেখানে। ব্যাপার কী, আমি জানতাম না, এমন টাকা-পয়সাও নেই জনাব ফজলুর রহমানের; উনি বললেন, তাঁর কন্যা এবারের এ-লেভেল পরীক্ষায় ইংরেজি সাহিত্যে সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে বিনা পয়সায় পড়াশোনা করার সুযোগ দিয়েছে। তাঁকে ভর্তি করানোর জন্য তাঁরা সেখানে গেছেন। কী যে খুশির খবর! বললাম সেটা জীবনে আর কী চাই ছেলেমেয়ে এত ভালো করলে মা-বাবার আর চাই কী, তো ফিরছেন কবে? প্রশ্নের জবাবে ফজলুর রহমান, যিনি একসময় জাতীয় ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি; বললেন, ফিরতে তো পারছি না ভাই, আমার নামে নাকি ওয়ারেন্ট হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে, আমি রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বক্তৃতা করেছিলাম তাই।

পৃথিবীটা সত্যিই মায়াময়। যে রকম খুজিস্তা বলল, কিন্তু পৃথিবীটা বড় কণ্টকময়ও বটে। অর্থ আর ক্ষমতা মানুষকে মানুষ রাখে না।

লেখক : আহ্বায়ক, নাগরিক ঐক্য

You Might Also Like