বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে পাকিস্থানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন বাংলার এই সূর্য সন্তান।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে নড়াইল সদর উপজেলার নুর মোহাম্মদনগরে তার বাড়িতে (মহিষখোলা) স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুলের মালা দেওয়া হবে। শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি গ্রন্থাগার এবং জাদুঘরে কোরআনখানী, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদেন নূর মোহাম্মদ। দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন চাকরি  করেন তিনি। ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই ল্যান্স নায়েক পদোন্নতি দিয়ে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয় তাকে। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত আট নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নির্দেশে নূর মোহাম্মদকে পাঁচ সদস্যের অধিনায়ক করে গোয়ালহাটি গ্রামে স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়।

৫ সেপ্টেম্বর হানাদার বাহিনী তিন দিক থেকে পেট্রোল ঘিরে গুলি করতে শুরু করে। প্রথমেই সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। নান্নুকে নিয়ে তিন সিপাহিকে চলে যেতে বলেন নূর মোহাম্মদ। নিজের জীবন বাজি রেখে অবিরাম গুলি চালাতে থাকেন তিনি। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও  নূর মোহাম্মদ একাই ঝাঁপিয়ে পড়েন শত্রু পক্ষের ওপর। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। যশোরের কাশিপুর গ্রামেই সমাহিত করা হয় তাকে।

দেশের এই কৃতি সন্তান ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালে হারিয়েছেন বাবা আমানত শেখ ও মা জিন্নাতুন নেছাকে। সপ্তম শ্রেণি পাশ করার পর আর পড়ালেখার সুযোগ হয়নি নূর মোহাম্মদের। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পুত্র ও তিনকন্যা রেখে গেছেন।

You Might Also Like